এমন কোন সরকারি ক্ষেত্র নেই, যেখানে দুর্নীতি নেই: মুফতী ফয়জুল করীম

ইমান২৪.কম: সলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতী ফয়জুল করীম বলেছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে এ পর্যন্ত সরকার কার্যকরী কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেনি। এমনকি নিজেদের ব্যর্থতার দায় এড়াতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যাও প্রকাশ করছেনা তারা।

বেসরকারি ও সরকারি তথ্যের মাঝে রয়েছে বিশাল পার্থক্য। ঢাকা সহ গোটা বাংলাদেশ যখন ডেঙ্গুর প্রকোপে ভুগছে, তখন কলকাতা শহরে ডেঙ্গু গত কয়েক বছর ধরেই নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে তারা। ভারতের মেট্রোরেল দেখে বাংলাদেশের মানুষকেও সেই সেবা প্রদানের কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে পারলে তাদের পদ্ধতি অনুসরণ করে বাংলাদেশ সরকার কেন মরণব্যাধি ডেঙ্গু দমনে উদ্যোগী হচ্ছেনা তা আমাদের বুঝে আসেনা।

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সারাদেশে ৫৩ জনের মৃত্যুর দায় কোনোভাবেই এড়াতে পারেনা সরকার। দেশের বিচারব্যবস্থার বেহাল দশার সুযোগে গুজব ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডও বেড়ে চলছে জ্যামিতিক হারে। নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনা এখন নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়ে রূপ নিয়েছে।

দেশব্যাপী নৃশংস হত্যাকান্ড, নারী-শিশু ধর্ষণের বিভৎস রূপ সরকারের অযোগ্যতারই নগ্ন প্রকাশ। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন-এর ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

২ আগস্ট দলটির পুরানা পল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মুফতী ফয়জুল করীম বলেন, চিরচেনা বাংলাদেশকে আজ অচেনা এক দেশ মনে হচ্ছে। দেশের এমন কোন সরকারি ক্ষেত্র নেই, যেখানে দুর্নীতি নেই। যার চরম মাশুল গুণতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

জনগণের জীবনের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ সরকারের প্রতি জনগণের বিন্দুমাত্র আস্থা নেই। গত ২৫ জুলাই মধ্যরাতে কথিত ভি.আই.পি’র প্রটোকলের বলি হতে হলো স্কুলছাত্র তিতাশকে। নৈশভোটের মাধ্যমে গঠিত সরকারের আমলাদের থেকেই এধরণের জনবিচ্ছিন্ন কর্মকান্ড আশা করা যায়।

তিনি আরো বলেন, আমরা ইতিপূর্বে প্রত্যক্ষ করেছি বাংলাদেশকে নিয়ে চরম মিথ্যাচার করে বিশ্বের বুকে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেও প্রিয়া সাহারা বেঁচে যাচ্ছে। ইসকন নামের হিন্দু কট্টরপন্থী সংগঠন ঔদ্ধত্বতা দেখিয়েও সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় বিচারের আওতার বাইরেই থেকে যাচ্ছে।

দেশের সংখ্যাগড়িষ্ঠ মানুষের চিন্তা-চেতনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সরকারের হিন্দুপ্রীতি এদশের মুসলমানদেরকে ভাবিয়ে তুলছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পতিত হবে। ভারতে মুসলমানরা নির্মমভাবে নির্যাতিত হচ্ছে, আমরা তার প্রতিবাদে গত ৩০ জুলাই’১৯ইং তারিখ ভারতীয় দূতাবাস অভিমূখে গণমিছিল কর্মসূচি দিয়েছিলাম।

সেই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে সরকার ভারতের দালালের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। আমরা সরকারকে হুশিয়ার করে বলে দিতে চাই, আপনারা লেন্দুপ দর্জির ভূমিকায় অবতীর্ন হয়ে বাংলাদেশকে সিকিম বানানোর কোন পায়তারা করবেন না। তাহলে বাংলাদেশের জনগণ দেশের স্বাধীনতা টিকিয়ে রাখতে আবারো গণআন্দোলন গড়ে তুলবে ইনশা-আল্লাহ।

ইমান২৪/এ/আর

ফেসবুকে লাইক দিন