পাকিস্তান-তুরস্কের পতাকা উড়ছে আজারবাইজানে

ইমান২৪.কম: আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে হামলা অব্যাহত রেখেছে। এর আগ থেকেই নাগোরনো-কারাবাখের বিতর্কিত যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে সংঘটিত যুদ্ধে আজারবাইজানকে সমর্থন দেয় পাকিস্তান ও তুরস্ক। আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করেই এ হামলা অব্যাহত রয়েছে।

রণকৌশল সাজাতে এবং যুদ্ধবহর শক্তিশালি করতে আজারি বাহিনীকে উল্লেখযোগ্য সহযোগিতা দিয়েছে তুরস্ক। এই যুদ্ধে তুরস্কের তৈরি ড্রোনই হামলার দৃশ্য এবং ফল বদলে দিয়েছে। তাই কৃতজ্ঞতা স্বরূপ বাকুতে সাধারণ মানুষ উড়াচ্ছে পাকিস্তান ও তুরস্কের পতাকা।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া লড়াই গত ৩০ বছরের মধ্যে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে সবচেয়ে তীব্র লড়াই। নাগরনো-কারাবাখ নিয়ে দেশ দুটির মধ্যে দীর্ঘ লড়াইয়ের ইতিহাস রয়েছে। ১৯৯০-এর দশকে সংঘটিত যুদ্ধে উভয় পক্ষের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ নিহতের পর এবারের লড়াইটি সবচেয়ে খারাপ পর্যায়ে চলে গেছে।

আজারবাইজানের অবস্থানকে সম্পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আএসপিআর) এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে। পাকিস্তানে নিযুক্ত আজারবাইজানের রাষ্ট্রদূত আলি আলিজাদা রাওয়ালপিন্ডিতে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করেন।

সেখানে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়ে আলোচনা করেন। অন্যদিকে, আজারবাইজানকে ব্যাপক রাজনৈতিক, সামরিক–প্রযুক্তিগত ও নৈতিক সমর্থন প্রদান করেছে তুরস্ক। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধক্ষেত্রে আজারবাইজান তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে, এবং আজারবাইজানের এই সাফল্যের ক্ষেত্রে তুর্কি সহায়তা একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে ভূমিকা রেখেছে।

তুরস্ক ও আজারবাইজানের নেতৃবৃন্দ রাষ্ট্র দুটির মধ্যেকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বুঝাতে যে শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করে থাকেন, সেটি হলো ‘এক জাতি, দুই রাষ্ট্র’। রাষ্ট্র দুটি জাতিগত, ভাষাগত, সংস্কৃতিগত, ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে পরস্পরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত।

১৯১৮ সালে আজারবাইজান যখন প্রথম স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভূত হয়, তখন ওসমানীয় সাম্রাজ্য রাষ্ট্রটিকে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করেছিল। ১৯৯১ সালে আজারবাইজান সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করার পর তুরস্ক সর্বপ্রথম আজারবাইজানকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। তখন থেকেই রাষ্ট্র দুটির মধ্যে ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামরিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।

পাকিস্তানে আজারবাইজান প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রদূত আলী আলিজাদা তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি শেয়ার করেছেন। যাতে বাকুর একটি আবাসিক ভবনে পাকিস্তান ও তুরস্কের জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, টানা দুই সপ্তাহ রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পর রাশিয়ার হস্তক্ষেপে ১০ অক্টোবর সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান। তবে যুদ্ধবিরতির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টাপাল্টি হামলায় জড়িয়ে পড়ে উভয় দেশ। ফলে যুদ্ধবিরতি কতটা কার্যকর হবে সেটা নিয়ে সংশয় রয়েই গেছে। নাগোরনো-কারাবাখের আর্মেনীয় সামরিক কর্মকর্তারা জানান, আজারবাইজানের সঙ্গে সংঘর্ষে সোমবার (১২ অক্টোবর) তাদের আরও ১৭ সৈন্য নিহত হয়েছেন।

ফেসবুকে লাইক দিন