এবার ভারতের তাড়া খেয়ে পালাল ৪০ চীনা সেনা

ইমান২৪.কম: পূর্ব লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় চরম উত্তেজনা চলছে অনেকদিন ধরেই। এর মধ্যেই আবারও ভারতীয় সীমান্তে প্রবেশের চেষ্টা করেছে চীনের পিপল’স লিবারেশ আর্মি (পিএলএ)। মঙ্গলবার ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢোকার সময় ভারতীয় সেনাদের ধাওয়ায় ব্যর্থ হয়ে ফিরে গিয়েছে চীনা সেনা।

সামরিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, গালওয়ান উপত্যকার প্যাংগং লেকের পশ্চিম তীর দিয়ে মঙ্গলবার একাধিক স্পিডবোটে করে চীনা সেনা ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ভারতীয় বাহিনীর কড়া পাহারায় তাদের সেই উদ্দেশ্য সফল হয়নি। লেকের মাঝপথ থেকেই তারা ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে।

এর আগে, গত সোমবার চীনা সেনার ২৫-৩০ জনের একটি দল চুশূলের মুখেরপরি পাহাড় দখলের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সেদিনও পারেনি। ভারতীয় বাহিনীর প্রতিরোধের মুখে পড়ে ফিরে যায়।

সূত্রের আরও খবর, মঙ্গলবার পূর্ব লাদাখের ফিংগার পয়েন্ট চার অতিক্রম করে বিকেল ৫টার দিকে চীনা সেনার একটি দল ভারতীয় ভূখণ্ডের আরও ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করে। দুটি স্পিডবোট ৪০ চীনা সেনা ফিংগার তিনের দিকে এগোতে থাকে। গত মে মাস থেকেই ফিংগার-ফোর দখল করে রেখেছে চীন।

সেখানে লালফৌজের শিবিরও তৈরি হয়েছে। ফিংগার-তিনে মোতায়েন থাকা ভারতীয় সেনাদের নজর উপেক্ষা করে এবার আর এগোতে পারেনি চীনা সেনার ৪০ জনের ওই দলটি। ভারত সতর্ক করলে, স্পিডবোট মুখ ঘুরিয়ে ফিংগার চারে ফিরে যায় চীনা সেনা।

এদিকে গত ২৯ ও ৩০ অগস্ট রেচিন লা ও রেজাং লা এলাকার দখল নিতে সমর্থ হয় ভারতীয় সেনা। এই দুই অঞ্চল থেকে চীনের মল্ডো ক্যানটনমেন্টের উপর নজর রাখতে পারবে ভারতীয় সেনা।

কৌশলগত গুরুত্বের কথা ভেবে চীনা সেনা চেষ্টা করবে এই শিখর দু’টি পুনর্দখল করার। ভারতীয় সেনা বাহিনীও চুপচাপ বসে নেই। চীনা সেনা যেসমস্ত এলাকা দিয়ে বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে, সেখানে ভারতও ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান তৈরি রেখেছে।

যে কোনও ধরনের চীনা আগ্রাসনের জবাব দিতে ভারত তৈরি। চীনের পক্ষ থেকে সামান্যতম উস্কানির চেষ্টা হলে, ভারতীয় সেনা ছেড়ে কথা বলবে না। চীনা প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে রাজনাথ সিং সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, গলওয়ানের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে, এ বার আর ভারত ছেড়ে কথা বলবে না।

চীন বুধবার থেকে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় নতুন করে নির্মাণকাজ শুরু করে উত্তেজনার আগুনে ঘি ঢালছে। সরকারি সূত্রে খবর, প্যাংগং লেকের উত্তরে, ফিংগার অঞ্চলে নতুন করে নির্মাণকাজ শুরু করেছে চীন। এর মধ্যে সংঘাতে প্ররোচনা রয়েছে বলেই মনে করছেন সমর বিশেষজ্ঞরা।

ফেসবুকে লাইক দিন