এবার ইসির-ঐক্যফ্রন্ট বৈঠকে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়

ইমান২৪.কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সংলাপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা থেকে বিরত থাকতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) অনুরোধ করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। আজ সোমবার বিকেলে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে গিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কথা বলে এই অনুরোধ জানিয়েছে।

তবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, প্রতিনিধিদলের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনারদের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশনের প্রতি মানুষের আস্থা আছে কি না এবং রাজনৈতিক দলগুলোর পরস্পরের প্রতি আস্থা আছে কি না—এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। তবে বৈঠকের পরে কমিশন সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় নয়, ভেতরে গলার আওয়াজ এমনই ছিল।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল জাসদের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম রবের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের অপর সদস্যরা হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বরকতউল্লা, গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ ও সুলতান মনসুর। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে বৈঠকে নেতৃত্ব দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। এ সময় অপর চার কমিশনার মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, শাহাদাত হোসেন চৌধুরী ও কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

তফসিল পেছানোর দাবিতে এর আগেও একবার ইসিতে চিঠি দিয়েছিলেন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন। কমিশন গতকাল জানিয়েছে ৮ নভেম্বর তফসিল ঘোষণা করা হবে। ৪ নভেম্বর তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি থাকলেও কমিশন রাজনৈতিক বাস্তবতার কথা মাথায় রেখে ঘোষণার তারিখ ৪ দিন পিছিয়ে দেয়। অবশ্য আজকের বৈঠকের পর তফসিল ঘোষণার তারিখ আবার পেছানো হবে কি না, সে ব্যাপারে কমিশনের তরফ থেকে প্রতিনিধিদলকে নিশ্চিত করা হয়নি। বৈঠকে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার দাবি জানানো হয়।

এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনার শাহাদাত হোসেন বলেন, ইভিএম মেশিন না দেখেই মন্তব্য করা হচ্ছে। ইভিএমে কারচুপি করা সম্ভব না। তিনি বলেন, ‘আলোচনায় মনে হয়েছে, তফসিল পেছানোর দাবিটি তাঁরা বিবেচনায় নিয়েছেন।’ নির্বাচন কমিশনের বিষয়ে ঐক্যফ্রন্টের আস্থা আছে কি না, জানতে চাইলে আ স ম রব বলেন, ‘তাঁদের বিষয়ে কী কী আপত্তি আছে, তা তাঁদের বলা হয়েছে।’ নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন বিষয়ে আগের দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে পাশ থেকে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘সেই দাবি আমাদের এখনো আছে।’

এর পরে ইসির সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ তাঁদের ব্রিফিংয়ে বলেন, ঐক্যফ্রন্ট দাবি জানিয়েছে ৭ তারিখে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাদের যে সংলাপ আছে, সেখানে কি হয় না–হয়, সেদিকে ইসি যেন লক্ষ রাখে। আর সংলাপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত যেন তফসিল না ঘোষণা করা হয়। তিনি বলেন, ‘সেনা মোতায়েনের বিষয়ে আমরা বলেছি, তফসিলের পর এ নিয়ে আলোচনা হবে। ঐক্যফ্রন্ট ইভিএম ব্যবহার না করার প্রস্তাব দিয়েছে, আমরা বলেছি সীমিত পরিসরে ব্যবহার করা হবে।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘আগামী ৮ নভেম্বর আমাদের তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি আছে, তবে এ বিষয়ে ওই দিন সকাল ১০টায় ইসির সভায় সিদ্ধান্ত হবে। এতে ৭ নভেম্বরের সংলাপের বিষয়টি প্রতিফলিত হতে পারে।’ এদিকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিও তফসিল পেছানোর দাবি জানিয়ে একটি চিঠি নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়েছে। এতে স্বাক্ষর করেছেন সমিতির সভাপতি ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন। আরও সংবাদ

আরও পড়ুন: নিখোঁজের তিন দিন পর নদীতে যুবকের লাশ উদ্ধার

ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে হেয় করছেন

ফেসবুকে লাইক দিন