এবার আলোচনায় বসতে যাচ্ছে ভারত-পাকিস্তান

ইমান২৪.কম: তুমুল উত্তেজনার মধ্যে আলোচনার টেবিলে বসতে যাচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দি দুই দেশ ভারত ও পাকিস্তান। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি জানিয়েছেন, লাহোরের একটি শিখ মন্দিরে ভারতীয়দের ভ্রমণ নিয়ে আলোচনা করতে একটি প্রতিনিধি দল আগামী ১৪ মার্চ ভারতে সফরে যাবে। ওয়াগা-আটারি সীমান্তবর্তী এলাকায় করতাপুর করিডোর নিয়েও বৈঠক করবেন দুই দেশের কর্মকর্তারা।

এর মধ্যেই বিমান বাহিনীর হামলার পর বার্তা সংস্থা রয়টার্স, পাকিস্তানের বালাকোটের যে স্যাটেলাইট চিত্র প্রকাশ করেছে, তাতে বিস্ফোরণের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে বলে দাবি করেছেন ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা। তবে এ নিয়ে সমালোচনা আরও জোরালো করেছে বিরোধীরা। বিরোধী নেতারা বলছেন, ছবিতে স্পষ্ট হয়েছে হামলায় কোনো ক্ষতিই হয়নি, অথচ ভারত সরকার ব্যাপক সাফল্যের দাবি করছে।

এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দাবি, ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতার কারণেই পাইলট অভিনন্দন বর্তমানকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছে ইসলামাবাদ। অপর এক খবরে বলা হয়, ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর। রাজ্যটিতে সরকারের কঠোর নীতির প্রতিবাদে বইছে ঝড়। এতে যোগ দিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এ অবস্থায় বিরোধীদলগুলোর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সশস্ত্র বাহিনীকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে ভোটের লড়াইয়ে জিততে চাইছেন। তবে বিরোধীরা বিকৃত রাজনীতি করতেই অভিযোগ তুলছে বলে মন্তব্য ক্ষমতাসীন বিজেপির।

ভারত সরকারের বিরুদ্ধে জম্মু-কাশ্মীরে দমনপীড়নের অভিযোগ এনে গত বুধবার রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অধিকার হরণের পাশাপাশি কাশ্মীরি জনগণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বঞ্চনার শিকার হচ্ছে বলেও দাবি তাদের।

মেহবুবা মুফতি বলেন, গেল কয়েক দিন ধরে ব্যাপক ধরপাকড় চলছে। অনেক মুসলিম বুদ্ধিজীবীকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। এমন আগ্রাসন আমরা মেনে নেবো না, রাজ্যের জেলায় জেলায় প্রতিবাদ সমাবেশ করবো। বিনা অপরাধে যারা জেলে আছেন, তাদের মুক্তি দিতেই হবে। একই দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে পাকিস্তানের আজাদ কাশ্মীরেও। বিক্ষোভকারীরা ভারতকে পাকিস্তানের আলোচনার ডাকে সাড়া দেয়ার আহŸান জানান।

কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার মধ্যেই বিজেপি ও বিরোধীদলগুলোর বাকযুদ্ধ চলছে। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে পাকিস্তানের পোস্টার বয় বলে আখ্যা দিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী।

ওদিকে ক্ষমতাসীন বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ-এর কড়া সমালোচনা করে তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে কথা বলার পরামর্শ দেন কাশ্মীরের জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ ওমর আবদুল্লাহ। অমিত শাহ বলেছেন, পাকিস্তানের বালাকোটে হামলায় ২৫০ জনের বেশি জঙ্গি নিহত হয়েছে। এর ভিত্তি কী? পরিপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ চাই। বিজেপি সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করে লোকসভা নির্বাচনের রাজনীতি শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বামপন্থী নেতারা।

সীতারাম ইয়েচুরি বলেন, নিজেদের রাজনীতির স্বার্থে সেনা সদস্যদের ব্যবহার করছে বিজেপি। দেশীয় ঐক্যে তারা ফাটল ধরাচ্ছে। এর জবাব জনগণই দেবে। তবে বিরোধীরা বিকৃত রাজনীতি করে বলেই জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রমাণ চাচ্ছে বলে মন্তব্য বিজেপি নেতাদের।

ভিকে সিং বলেন, পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে, আগামীবার কখনও পাকিস্তানে হামলা করা হলে বিরোধীদের সঙ্গে করে নিয়ে যেতে হবে। সুব্রামানিয়ম স্বামী বলেন, রাজনীতির স্বার্থে যারা পাকিস্তানের পক্ষ নিয়ে কথা বলছেন, আমারা আশা করবো তারা যেন পাকিস্তানেই গিয়ে থাকেন। পুলওয়ামায় সন্ত্রাসী হামলার পর থেকেই কাশ্মীরজুড়ে বিরাজ করছে থমথমে অবস্থা। বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা, বিভিন্ন স্থানে চলছে অভিযান। আটক করা হচ্ছে বহু মানুষকে। এ-অবস্থায় ভারতের কাশ্মীর নীতির পরিবর্তন না হলে সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে বলে শঙ্কা বিশ্লেষকদের। সূত্র : এনডিটিভি, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, টিওআই।

আরও পড়ুন: আবারও পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে প্রচন্ড সংঘর্ষ

মেননের বক্তব্যের প্রতিবাদে শুক্রবার হেফাজতের বিক্ষোভের ডাক

ভারতীয় পাইলট অভিনন্দনের ছেলেকে লেখা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মর্মস্পর্শী চিঠি

কাশ্মীরিদের ইচ্ছে মেনে যিনি কাশ্মীর সমস্যার সমাধান করতে পারবেন তিনিই নোবেল পাওয়ার যোগ্য : ইমরান খান

হিরো আলম গ্রেফতার: থানায় যা বললেন তিনি, দেখুন এক্সক্লুসিভ ভিডিওতে

ফেসবুকে লাইক দিন