এখনও থমথমে পরিস্থিতি পঞ্চগড়ে

ইমান২৪.কম: গতকালের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর আজ সারা দিন থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে পঞ্চগড় জেলায়। ঘটনার আকস্মিকতায় এখনও বিহ্বল সাধারণ মানুষ। মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় দেখা গেছে কিছুটা ছন্দপতন। পঞ্চগড় পৌর এলাকায় বেশ কিছু দোকান-পাট আজ বন্ধ দেখা গেছে। আড্ডা ও জন সমাগম এড়িয়ে চলেছে সাধারণ মানুষ। কালকের গণমুখী আন্দোলনে কাদিয়ানি ইজতেমা স্থগিত করার ঘোষণা দেওয়ায় সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করলেও পরবর্তীতে পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা কী হবে তা নিয়ে ভয় কাজ করছে অনেকের ভেতর।

গতকালের ঘটনায় পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেফতার করেনি। তবে পৌর এলাকা ও আশেপাশে এবং আহমদনগরে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা নিয়োজিত রাখা হয়েছে। পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে জানিয়ে বলেন, ‘মুসল্লিদের দাবি ছিল কাদিয়ানিদের জলসা বন্ধ করলে তারা তাদের দাবিদাওয়া তুলে নেবে। আমরা তাদের জলসা স্থগিত করার ঘোষণা দেই। তারপরও তারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।’ কাদিয়ানি ইজতেমা বন্ধের দাবিতে আন্দোলনকারীদের নেতৃস্থানীয় একজন ইসলাম টাইমসকে তদন্ত শুরু হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেছেন, প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ঘটনার আলামত সংগ্রহ করছেন। তারা আন্দোলনকারীদের মধ্যে যারা পরিচিত তাদের সঙ্গেও কথা বলছেন। বিভিন্ন ধরনের তথ্য জানতে চাইছেন। পরিস্থিতি উত্তাল হয়ে উঠলে গতকালই কাদিয়ানিদের কথিত ইজতেমা স্থগিত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। তবুও পঞ্চগড় পৌর সভার মেয়র মোঃ তৌহিদুল ইসলাম আজ ইমামদের ফোন করে অনুরোধ করেছেন, ইমামরা যেন জোহরের পর মুসল্লিদের কাদিয়ানি ইজতেমা বন্ধ হওয়ার ব্যাপারে আশ্বস্ত করেন এবং কোনোভাবে যেন এলাকার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে না ওঠে। ইমামরা তাকে এই ব্যাপারে আশ্বস্তও করেন। একই সঙ্গে প্রশাসন যেন তাদের কথা রাখে সেই বিষয়েও হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

তারা বলেছেন, কাদিয়ানি ইজতেমা বন্ধের ব্যাপারে প্রশাসন যদি কথা না রাখে তাহলে সাধারণ মানুষকে বুঝিয়ে রাখা আমাদের পক্ষে সম্ভব নাও হতে পারে। সংঘর্ষে আহত অনেকেই ইতোমধ্যে হাসপাতাল ছেড়েছেন বলে জানা গেছে। তবে এখনও কয়েকজন রংপুর মেডিকেলে ভর্তি আছেন। দুইজনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদেরকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে কাদিয়ানি ইজতেমা বন্ধসহ কাদিয়ানিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংবাদ সম্মেলন, মিছিল ও বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী তৌহিদী জনতার উপর হামলার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের গ্রেফতার করত কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। সাথে সাথে হতাহতদের সুচিৎসার ব্যবস্থাসহ আন্দোলনকারীদের হামলা-মামলা ও ভয় ভীতি প্রদর্শন বন্ধ করতে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: গরুর ঋণ কোনো দিন শোধ করতে পারব না: নরেন্দ্র মোদি

বাংলাদেশের পদ্মার মা ইলিশ সরিয়ে নিতে ভারতের নতুন 

ফেসবুকে লাইক দিন