একদিকে বলছে চীনকে বয়কট করতে: অন্যদিকে চীনের থেকেই ৫‌,৭‌০০ কোটি টাকার ঋণ নিয়েছে মোদি

ইমান২৪.কম: বিরোধী দল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে চীনের চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ তোলার পর দেশটির ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী বিজেপি–র ‘‌গোপন কাণ্ড’ ফাঁস হতে শুরু করেছে।

চীনের থেকে ৫,‌৭০০ কোটি টাকার ঋণ নেওয়‌ার অভিযোগে মোদি সরকারকে এবার বিঁধল আম আদমি পার্টি।

টুইটারে আপ নেতা বলেছে, বিজেপির নাটক প্রশংসনীয়। আপনারা দেশকে বলছেন চীনকে বয়কট করতে আর মোদি সরকার চীনের থেকে ৫,৭০০ কোটি টাকার ঋণ নিয়ে বসে আছে। দেশের সীমান্তে সেনা মারা যাচ্ছে আর বিজেপি সরকার নমনীয় নীতি ধরে চলেছে।

গত ১৯ জুন ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রণালয় থেকে ঘোষণা করা হয়, ভারত সরকার ও বেজিং–এর আর্থিক সংস্থা এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্ক (এআইআইবি)–র মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী, কোভিড–১৯ সহায়তার জন্য বেজিং–এর ব্যাঙ্ক ৭৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (৬,৬৮৮ কোটি টাকা) ভারতকে দেবে। এনিয়ে কংগ্রেস মুখপাত্র অভিষেক মনু সিংভি বলেন, একাধিক চীনা সংস্থা চাঁদা দিয়েছে পিএম কেয়ারস ফান্ডে।

যখন সীমান্ত সঙ্ঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে ভারত ও চীন, তখন কেন এই চাঁদা নেওয়া হচ্ছে?‌ গত ৬ বছরে ১৮ বার শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মোদি। অথচ এখন চীনকে আগ্রাসনকারী বলতে বাধছে তার। সিংভির দাবি, চীনা সংস্থা হুয়েই ৭ কোটি, টিকটক ৩০ কোটি, পেটিএম ১০০ কোটি, শাওমি ১৫ কোটি এবং ওপো ১ কোটি টাকা দিয়েছে পিএম কেয়ারস ফান্ডে।

যদি ভারতের প্রধানমন্ত্রীই চীনা সংস্থাগুলির কাছ থেকে তার বিতর্কিত ও অস্বচ্ছ তহবিলে কোটি কোটি টাকা চাঁদা নেন, তাহলে চীনা আগ্রাসন থেকে তিনি দেশকে রক্ষা করবেন কীভাবে? প্রধানমন্ত্রীকে এর উত্তর দিতে হবে।‌

সিংভির অভিযোগ, চীনের পার্টির সঙ্গে ভারতের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে বিজেপি–রই। পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং ২০০৭ সালে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে আলোচনা করেছে। ২০১১ সালে তখনকার বিজেপি সভাপতি নীতিন গাডকারি ৫ দিনের চীন সফরে গিয়েছিলেন।

২০১৪ সালে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির পার্টি স্কুলের একটি জমায়েতে বিধায়কদের একটি বড় প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছিলেন অমিত শাহ। সিংভির অভিযোগ, মোদি সরকার তার দেশের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত নয়।

ফেসবুকে লাইক দিন