একটানা ১৫ দিনের জন্য যুদ্ধের প্রস্তুতিতে অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুদ করছে ভারত

ইমান২৪.কম: ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে তিন বাহিনীকে ১৫ দিনের যুদ্ধের জন্য অস্ত্র ও গোলাবারুদ মওজুদ করতে বলা হয়েছে। সরকারের ওই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তিন বাহিনীকে শত্রুদের কোমর ভাঙতে বড় ধরনের ছাড় দিয়েছে।

সরকারি সূত্রকে উদ্ধৃত করে আজ (সোমবার) গণমাধ্যমে প্রকাশ, সরকারি নয়া সিদ্ধান্তের আওতায় তিন বাহিনীকে ১৫ দিনের যুদ্ধের জন্য অস্ত্র ও গোলাবারুদ মওজুদ করতে বলা হয়েছে। সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে দেশ ছাড়াও বিদেশ থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকার অস্ত্র কেনার বড় পরিকল্পনা রয়েছে।

এরআগে তিন বাহিনীর সেনাদের জন্য মাত্র ১০ দিনের যুদ্ধের জন্য গোলাবারুদ মওজুদ রাখা হতো। আশঙ্কা করা হচ্ছিল যে, ভারত ও চীনের মধ্যে সামরিক কলহের ঘটনা আরও বাড়তে পারে এবং তা যুদ্ধের দিকে যেতে পারে। চীনের অনড় মনোভাবের পরে এখন সেদিকেই পরিস্থিতি যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সম্ভবত সেজন্যই তিনবাহিনীকে সরকার ওই ছাড় দিয়েছে। এদিকে, গতকাল, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে চীনের সাথে বিবাদ যেকোনও দিকে মোড় নিতে পারে। তিনি বলেন, চীন পিছু হটতে প্রস্তুত না হওয়ায় চলমান বিরোধ দীর্ঘায়িত হতে পারে। চীনের সাথে যুদ্ধ হলে নিশ্চিতভাবে সেই যুদ্ধে জিনপিংয়ের পক্ষে পাকিস্তান ঝাঁপিয়ে পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

যখন লাদাখ ইস্যুতে ভারত-চীন সীমান্ত সংঘাত শুরু হয়েছিল, তখন জানা গিয়েছিল যে চীনা যুদ্ধবিমান পাকিস্তানি বিমানবাহিনীর বিমানবন্দর ব্যবহারের অনুশীলন করছে। সে কারণেই ভারত আরও বেশি বেশি অস্ত্র সংগ্রহ করছে যাতে উভয় ফ্রন্টে একযোগে যুদ্ধ করা যায়। দেশে আগে ৪০ দিনের যুদ্ধের জন্য গোলাবারুদের ব্যবস্থা থাকত।

কিন্তু মওজুদ ও যুদ্ধের ধরণ পরিবর্তনের ফলে ১৯৯৯ সালে তা কমিয়ে ২০ দিন করা হয়েছিল। অন্য একটি পর্যালোচনার পরে, অস্ত্রের মওজুদ ১০ দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয়। কিন্তু ২০১৫ সালে ‘সিএজি’ প্রতিবেদনে দু’টি ফ্রন্টে যুদ্ধের জন্য ১০ দিনের মওজুদকে কম বলা হয়েছিল।

এমনকী জম্মু-কাশ্মীরে উরিতে হামলার পরেও বলা হয়েছিল যে যুদ্ধের জন্য সেনাবাহিনীর খুব কম সরঞ্জাম মওজুদ রয়েছে। তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পাররিকর তিন বাহিনীর ডেপুটি চিফদের ক্রয় ক্ষমতাকে ১০০ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি করে দিয়েছিলেন।

এছাড়া অস্ত্র কেনার জন্য তিন বাহিনীর জরুরী তহবিল বৃদ্ধি করে ৩০০ কোটি করে করা হয়েছিল যাতে যুদ্ধের মুখে অস্ত্রের অভাব না হয়। এবার কেন্দ্রীয় সরকার সেই সিদ্ধান্তকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়েছে। বর্তমানে ভারত ও চীনের সঙ্গে সীমান্ত নিয়ে চরম উত্তেজনার আবহ রয়েছে।

পরিস্থিতি যথেষ্ট উত্তপ্ত বলেই মনে করা হচ্ছে। এমন উত্তপ্ত আবহ যদি কোনওভাবে তা যুদ্ধের দিকে মোড় নেয়, তাহলে তা প্রতিরোধ করা এবং উপযুক্ত পাল্টা জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে ভারতকে। সেই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে অস্ত্র সম্ভারকে আরও শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ফেসবুকে লাইক দিন