ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় কৃষকদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা!

ইমান২৪.কম: ঝিনাইদহের সার্টিফিকেট আদালতগুলোতে ঝুলছে কৃষকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ১৬শ’ সার্টিফিকেট মামলা। ফসলহানি ও অভাবের কারণে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় অনেকের বিরুদ্ধে জারি হয়েছে গ্রেফতারি পরোয়ানা। কৃষকদের দাবি, সুদ মওকুফ করা হলে ঋণ পরিশোধে চেষ্টা করবেন তারা। জেলা প্রশাসক বলছেন, সম্মিলিতভাবে আবেদন করা হলে সুপারিশসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হবে। প্রতিবছর ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ফসল আবাদ করেন ঝিনাইদহের দরিদ্র চাষিরা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণসহ নানা কারণে ফসল না হওয়ায় সময় মতো ব্যাংক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছেন শত শত কৃষক। এতে সুদে আসলে ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে কয়েক গুণে।

এ অবস্থায় ঋণ খেলাপিদের বিরুদ্ধে আদালতে ১৬শ’ সার্টিফিকেট মামলা করেছে বিভিন্ন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এতে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। ঋণ খেলাপি কৃষকরা বলেন, ‘২৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছি। আর ৭০ হাজার টাকার মামলা দিয়েছে। টাকা আমার শোধ করার অবস্থা নেই। সুদ মুওকুফ হলে টাকাগুলো আমরা শোধ করতে পারি।’ সুদ মওকুফের বিষয়ে সম্মিলিতভাবে আবেদন করলে সুপারিশসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হবে বলে জানালেন জেলা প্রশাসক। আর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছে,

মামলা করা হলেও ঋণ পরিশোধের ব্যাপারে কাউকে হয়রানি করা হয়না। ঝিনাইদহ কাষ্টসাগরা বাজার শাখার (বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক) ম্যানেজার খান মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, ‘মানসিক চাপে রাখার জন্য আমরা তাদের নামে মামলা করেছি। এই কৌশলে তারা আংশিকভাবে কোর্টে টাকা পরিশোধ করেছে। আমাদের কাছেও এসে তারা পরিশোধ করছে। আমরা কোনোভাবে তাদের হয়রানি করি না, চাপও সৃষ্টি করি না।’ ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ জানান, ‘আমরা সরকারের নিকট উপস্থাপন করবো। সরকারের নির্দেশনা পেলে তাদের সুধ মওকুফের আবেদনের বিষয়ে ব্যবস্থা নিবো।’

আরও পড়ুন: ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের কাছে ক্ষমা চাইতে মাসুদা ভাট্টিকে লিগ্যাল নোটিশ

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে গ্রেফতারে ড. কামালের উদ্বেগ, আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা

ফেসবুকে লাইক দিন