উপমহাদেশের প্রথম হাদিসচর্চা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা কে?

উপমহাদেশের প্রথম হাদিসচর্চা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা কে?ঃ- মানবতার কল্যাণে যেসব মহামনীষী মহান আল্লাহর বাণীর তাবলিগের কাজে ব্রত হয়েছেন, যাদের কাজ ছিল মানুষকে তার সৃষ্টিকর্তা ও প্রতিপালকের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া, হিজরি সপ্তম শতাব্দীর শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামা ছিলেন তাদেরই একজন। তার পুরো নাম শায়েখ শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামা বোখারি আদ-দেহলভী আল-হানাফী (রহ.) জন্ম বোখারা শহরে হলেও বলা হয় তিনি পারসিক বংশোদ্ভুত। অন্য এক সূত্র মতে, তিনি ছিলেন ইয়েমেনের অধিবাসী।

তিনি হাদিস ও ফিকাহ শাস্ত্রের গভীর জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন, সঙ্গে সঙ্গে ভূগোল, গণিত ও রসায়ন শাস্ত্রেরও সুপ-িত ছিলেন। আনুমানিক ৬৬৮ হিজরি মোতাবেক ১২৭০ ঈসায়ী সালে শায়েখ শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামা ইসলামপ্রচারে সুলতান গিয়াসুদ্দীন বলবনের শাসনামলে দিল্লীতে আসেন। সুলতান গিয়াসুদ্দীনের অনুরোধে ১২৭৮ সালে দ্বীন প্রচারে বাংলায় আসেন। প্রাচীন বাংলার রাজধানী সোনারগাঁয়ে এসে তিনি দ্বীন প্রচারে আত্মনিয়োগ করেন। সোনারগাঁয়ে গড়ে তোলেন একটি বৃহৎ মাদ্রাসা ও সমৃদ্ধ লাইব্রেরি।

ঐতিহাসিকদের মতে, এটিই ছিল উপমহাদেশে ইলমে হাদিসের সর্বপ্রথম বিদ্যাপীঠ। দূর-দূরান্ত থেকে এখানে ছাত্ররা ইলম অর্জনের উদ্দেশ্যে ছুটে আসে। ধারণা করা হয়, তখন এ মাদ্রাসার ছাত্রসংখ্যা ছিল ১০ হাজার। তিনি এখানে দীর্ঘ ২৩ বছর ইলমের খেদমতে নিয়োজিত ছিলেন। পাশাপাশি সেখানে জনসাধারণের আত্মশুদ্ধির মানসে একটি খানকাও প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ছিলেন সোহরাওয়ার্দি তরিকার শায়েখ ছিলেন। ‘মানযিলে মাকামাত’ নামে তাসাউফ সম্বন্ধে তার লেখা একটি বই আছে বলে জানা যায়।

এ ছাড়াও সোনারগাঁও বিদ্যাপীঠে অবস্থানকালে তিনি ছাত্রদের উদ্দেশে ফিকাহবিষয়ক যেসব বক্তৃতা দিয়েছেন সেগুলোর সংকলন নিয়ে ফার্সি ভাষায় রচিত ‘নামায়ে হক্ব’ নামে একটি কাব্যগ্রন্থের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এ গ্রন্থে ১৮০টি কবিতা আছে। কেউ কেউ তা ‘মছনবী বনামে হক্ব’ নামে অভিহিত করেছেন। গ্রন্থটি ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দে বোম্বাই থেকে এবং ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে কানপুর থেকে প্রকাশিত হয়। জানা যায়, শায়েখ শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামার লিখিত পা-ুলিপির অস্তিত্ব ব্রিটিশ জাদুঘরের আর্কাইভ ভবনে রক্ষিত আছে।

শায়েখ আবু তাওয়ামা ৭০০ হিজরি মোতাবেক ১৩০০ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন বলে জানা যায়। তার মৃত্যুর পরও ওই মাদ্রাসা অনেক দিন স্থায়ী হয়। এ ঐতিহাসিক বিদ্যাপীঠটি ধীরে ধীরে কালের ধুলোয় হারিয়ে যেতে শুরু করেছে। ভৌগোলিকভাবে তা বর্তমান নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়ার দরগাবাড়ি প্রাঙ্গণে অবস্থিত।

মোগরাপাড়ায় প্রাপ্ত একটি শিলালিপিতে কয়েকজন উচ্চপদস্থ প্রসাাসনিক কর্মকর্তার নাম পাওয়া যায়, যাদের প্রত্যেকের নামের শুরুতে পদবি হিসেবে মুহাদ্দিস (হাদিস বিশারদ) শব্দটি যুক্ত ছিল। ধারণা করা হয়, তারা সবাই সরাসরি বা শিক্ষাপরম্পরায় শায়েখ আবু তাওয়ামার ছাত্র ছিলেন। প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি প্রত্যেকেই হয়তো মাদ্রাসায় শিক্ষকতা ও হাদিস শিক্ষাদানে নিযুক্ত ছিলেন।

আরো পড়ুন>> প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ছিল আন্দোলন থামানোর অপকৌশল

ফেসবুকে লাইক দিন