উনি (প্রধানমন্ত্রী) রাষ্ট্রক্ষমতা আটকে রেখেছেন জনগণের কল্যাণে নয় : রিজভী

ইমান২৪.কম: ‘যদি জনগণ ভোট দেয় এবং আবার আমরা যদি ক্ষমতায় আসতে পারি তাহলে তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে সাজা কার্যকর করা হবে’-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যে আবারও প্রমাণিত হলো তার মন রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় ভরা। উনি (প্রধানমন্ত্রী) রাষ্ট্রক্ষমতা আটকে রেখেছেন জনগণের কল্যাণে নয়, শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নির্মূল করাটাই হচ্ছে মূল লক্ষ্য। বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। রিজভী আহমেদ বলেন, ‘প্রশাসনিক ব্যবস্থা, বিচার ব্যবস্থা, আইনি ব্যবস্থায় প্রতারণামূলক নীতি কার্যকর আছে কেবলমাত্র ক্ষমতাসীনদের স্বার্থে। সেটিরই প্রতিফলন প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে। সেজন্য তিনি যা ইচ্ছা তাই করার হুমকি দেন।’

জাতীয় সংসদে পাসকৃত আইনের সমালোচনা করেন রিজভী আহমেদ। তিনি বলেন, ‘জাতীয় সংসদের বিনা ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দ্বারা কালা কানুন (কালো আইন) পাসের হিড়িক চলছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনের পর জাতীয় সংসদে ভোটারবিহীন সংসদ সদস্যদের এখন পর্যন্ত ২৩টি অধিবেশন বসেছে, এরমধ্যে প্রায় ২০০ আইন পাস করেছে তারা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে নিরঙ্কুশ একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্যই এ গণবিরোধী খারাপ আইনগুলো পাস করিয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘গত অধিবেশনেও মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ ও মানুষের কণ্ঠরোধ করার জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ সর্বোচ্চ সংখ্যক ১৮টি আইন পাস করা হয়েছে। চলতি অধিবেশনেও চলছে নতুন নতুন আইন পাসের তোড়জোড়।’

রিজভী আহমেদের অভিযোগ, আইন পাসের জন্য সংসদের চলতি অধিবেশনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। দেশের রাজনীতিসহ গোটাদেশকে কব্জায় নিতে অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রী এত কালো আইন পাস করে রেকর্ড গড়তে চলেছেন। তাই তিনি নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে আরপিও সংশোধনের প্রস্তাব তুলেছেন, যা চলতি সংসদে পাস করতে তোড়তোড় চলছে। এর পেছনে যে চূড়ান্ত প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে তা জাতির সামনে পরিষ্কার। বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘বিশ্বায়নের এ যুগে কোনো অপকর্ম, অপকীর্তি ঢেকে রাখা যাবে না।

এখন নর্থপোল থেকে সাউথপোলের খবর এক ক্লিকেই জানা যায়। তাই যতই কালাকানুন (কালো আইন) করুন না কেন, মিডিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে তথ্যপ্রযুক্তির উৎর্কষতার যুগে অনিয়ম, দুর্নীতি, অপকর্ম ঢেকে রাখা যাবে না। গণপ্রচারযন্ত্র কায়েমি স্বার্থে ব্যবহার করার দিন শেষ হয়ে গেছে ‘ এ সময় তিনি দলের পক্ষ থেকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করে মানুষের বাকস্বাধীনতা ফিরিয়ে দেয়া এবং জাতীয় সম্প্রচার নীতি-২০১৮ এর মতো আইন প্রণয়ন থেকে সরকারকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলার তীব্র সমালোচনা করেন সাবেক এই ছাত্রনেতা। তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র ন্যায্য ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা বলায় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মতো বীর মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলার হিড়িক চলছে।’ রিজভীর দাবি, যতটা অসংস্কৃত ও হিংস্র আচরণ করা যায় তার সবটাই প্রয়োগ করা হচ্ছে গণতন্ত্রকামী মানুষদের ওপর। খ্যাতিমান মুক্তিযোদ্ধা, মানবাধিকার কর্মীরাও সরকারের সহিংস আচরণ থেকে রক্ষা পাচ্ছে না।

এ সময় তিনি জনগণের এজলাসে বিচারের মুখোমুখি হতে ক্ষমতাসীনদের প্রস্তত নিতে বলেন। অন্যদের মধ্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবীর খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেন, বেলাল আহমেদ, ঢাকা মহানগর নেতা সাইফুল ইসলাম পটু প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

আরও পড়ুন: ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের কাছে ক্ষমা চাইতে মাসুদা ভাট্টিকে লিগ্যাল নোটিশ

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে গ্রেফতারে ড. কামালের উদ্বেগ, আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা

ফেসবুকে লাইক দিন