‘ইসলাম কোনো ধর্ম নয়, বরং একটি রাজনৈতিক মতবাদ’ মার্কিন রাজনৈতিকদের ভাষ্য

ইমান২৪.কম: সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধর্মীয় স্বাধীনতাকে রাজনীতিতে একটি ট্রাম কার্ড হিসেবে ব্যবহার করতে দেখা যাচ্ছে এবং সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এর চর্চা আরো বেশি বেড়ে গিয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। চলতি বছরের জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ে একটি যুগান্তকারী রায় দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের একজন খ্রিস্টান কেক কারিগর তাকে কেক তৈরি করার জন্য দেয়া একটি অর্ডার বাতিল করে দেয়, কারণ সেই অর্ডারটি এসেছিল সমকামী এক দম্পতি থেকে। সমকামী ওই দম্পতি তাদের বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য কেকটি তৈরির আদেশ দিয়েছিল। পরবর্তীতে এ বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ালে আদালত কেক তৈরির কারিগরের পক্ষ রায় প্রদান করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের কাছে যখন ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়টি আসে তখন বেশিরভাগ সময়ই দেখা যায় যে, এ বিষয়টিকে তারা উপেক্ষা করে যাচ্ছেন। সাম্প্রতিক বছর গুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক আইন প্রণেতা, আইনজীবী এবং প্রভাবশালী সমাজ বিজ্ঞানীগণ একটি বিষয় নিয়ে খুব বেশি আলোচনা করে যাচ্ছেন আর তা হলো আমেরিকার সংবিধান মুসলিমদের তেমন একটা নিরাপত্তা দেয় না।

কেন? কারণ, তাদের মতে ইসলাম কোনো ধর্মই নয়।

ইসলামের বিরুদ্ধে তাদের এধরনের মনোভাব তৈরি হয়েছে কতগুলো অযৌক্তিক কারণে। কিন্তু দেশটির রাজনৈতিকগণ ইসলাম সম্পর্কে কিরূপ মনোভাব পোষণ করেন তা জানার জন্য খুব বেশি দূরে যাওয়ার দরকার নেই। ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহামা রাজ্যের জন বেন্নেত নামের রিপাবলিকান দলের একজন আইন প্রণেতা বলেন- ‘ইসলাম, এমনকি কোনো ধর্মই না; এটি একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা যা বিশ্বকে জয় করতে চায়।’

২০১৫ সালে এন্ড্রু সি. মেকরার্টি নামের দেশটির প্রধান আইন কর্মকর্তার একজন সহকারী বলেন- ‘ইসলামকে এর বিশ্বাসের মাধ্যমে চিন্তা করলে চলবে না, বরং এটিকে আমাদের ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখতে হবে, ইসলাম প্রাথমিকভাবে একটি ধর্মের পর্যায়ে পড়ে না।’

২০১৬ সালে মাইকেল ফলাইন নামের আরেকজন রাজনৈতিক নেতা বলেন, ‘ইসলাম একটি রাজনৈতিক আদর্শ, যা এর ধর্মীয় আবরণের ভেতরে লুকিয়ে আছে।’

২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ডেকোটা রাজ্যের রিপাবলিকান দলের নেইল তাপিও নামের একজন সিনেটর দেশটির সংবিধানের প্রথম সংশোধনী মুসলিমদের জন্য প্রযোজ্য কিনা এমন প্রশ্ন তোলেন।

বিশ্বব্যাপী ১.৬ বিলিয়ন মানুষ প্রতিনিয়ত ইসলাম ধর্ম চর্চা করে যাচ্ছে এমন একটি বিশ্বাস ধর্ম নয় এ আদর্শের আরো বেশি প্রসার হয়েছিল ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের Murfreesboro নামক একটি শহরের স্থানীয় আদালত যখন শহরটিতে মসজিদ প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দিতে অস্বীকার করেছিলো। ওই মামলা শেষ পর্যন্ত আপিলে গড়ায়। বাদী পক্ষের যুক্তি ছিলো ইসলাম কোনো ধর্ম নয় বরং এটি একটি ভূরাজনৈতিক বিশ্বাস যা লালন করে বিভিন্ন জিহাদি গোষ্ঠীগুলো যারা যুক্তরাষ্ট্রে শরিয়া আইন বাস্তবায়ন করতে চায়।

মসজিদ প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে আপিলকারী বাদী পক্ষ আরো দাবী করে যে, মসজিদ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাটি যেন কোনো ভাবেই সরকারী অর্থ সহযোগিতা না পায়। তবে আশার বিষয় হচ্ছে যদিও স্থানীয় আদালত মসজিদ প্রতিষ্ঠা করতে অনুমোদন দেয়নি কিন্তু উচ্চ আদালত মসজিদের পক্ষে রায় দেয়।

২০১৬ সালে পিউ গবেষণা কেন্দ্র পরিচালিত এক জরীপে প্রকাশ পায়- যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় অর্ধেকের বেশি প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ বিশ্বাস করেন যে, আমেরিকায় বসবাসরত মুসলিমরা যুক্তরাষ্ট্র বিরোধী মনোভাবের। এদের মধ্যে ১১ শতাংশ তাদের দাবীর সাথে পুরোপুরি একমত পোষণ করেন।

চলতি বছরের জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মর্নিং কনসাল্ট নামের একটি প্রতিষ্ঠানের করা এক জরিপে দেখা যায় যে, দেশটির খ্রিষ্টান, ইহুদী ইত্যাদি ধর্মের অনুসারীরা সমকামীদেরকে ধর্মীয় বিষয়াবলীর সাথে সম্পর্কিত ব্যবসায়িক সেবা দিতে মুসলিমদের তুলনায় বেশি অস্বীকার করে থাকে। মর্নিং কন্সাল্ট তাদের এই জরীপের মাধ্যমে দেখাতে চেয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্য যেকোনো ধর্মাবলম্বীদের তুলনায় মুসলিমরা ধর্মীয় স্বাধীনতার বেশি বিশ্বাসী।

যদি ইসলাম ভীতিতে আক্রান্তরা তাদের আশা পূরণ করতে সক্ষম হয় যারা যুক্তরাষ্ট্রে খ্রিষ্টানদের তুলনায় মুসলিমদের কম সুযোগ সুবিধা দিতে চায় তবে তখন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এসে যাবে আর তা হচ্ছে- ধর্মীয় স্বাধীনতা হ্রাসের পেছনে মূলত দায়ী কে?

সূত্রঃ নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত “When Islam Is Not a Religion.” নামের বইয়ের লেখক আসমা টি. উদ্দিনের কলাম থেকে যিনি যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক একজন আইনজীবী হিসেবে কর্মরত আছেন।

আরও পড়ুুন: সিরিয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ন্যাটো যুদ্ধজাহাজের বহর

গাঁজা মিশৃত নতুন স্বাদযুক্ত কোকাকোলা আসছে বাজারে !

ফেসবুকে লাইক দিন