ইসলাম ও শিশু অধিকার : ইসলাম ধর্মে শিশু অধিকার

ইমান২৪.কম: ইসলাম ধর্ম ও শিশু অধিকার শীর্ষক ধারাবাহিকের গত আসরে আমরা আন্তর্জাতিক শিশু সনদ নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি শিশুকাল শুরুর সময় নিয়ে নানা মত তুলে ধরেছি। আজ আমরা ইসলাম ধর্মে শিশু অধিকার নিয়ে কথা বলবো। ইসলাম ধর্মে শিশু অধিকারের ওপর অপরিসীম গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রে সুসন্তানের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। এ কারণে ভালো ও ধার্মিক সন্তান পেতে হলে কী করা উচিত তা নিয়ে পবিত্র ইসলাম ধর্মে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সুসন্তানের অধিকারী হওয়ার চেষ্টা শুরু করতে হবে বিয়ের আগে থেকেই। একজন নারী ও পুরুষ যদি সুসন্তান পেতে চায় তাহলে তাকে প্রথমেই ভালো ও ধার্মিক জীবনসঙ্গী বেছে নিতে হবে।

ইসলামের সব মাজহাবেই এ বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বামী বা স্ত্রী নির্বাচনে সতর্কতার ওপর বারবার গুরুত্ব দেওয়ার কারণ হচ্ছে নতুন দম্পতি যাতে পৃথিবীকে সুসন্তান উপহার দিতে পারে। ইসলাম ধর্মে বিয়ের বিধান রাখার একটি অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে, সন্তান জন্মদান। শুধু সন্তান জন্মদানই যথেষ্ট নয় সেই সন্তানকে সৎ ও ধার্মিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ধর্মীয় দৃষ্টিতে মায়ের গর্ভে ডিম্বাণু নিষিক্ত হওয়ার পর থেকেই সেখানে নতুন প্রাণ সঞ্চারিত হয়। এ কারণে ধর্মে ভ্রূণ সংক্রান্ত নানা দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নবী বংশের অন্যতম সদস্য ইমাম কাজেম (আ.)-কে একবার জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। কোনো নারী যদি গর্ভপাতের উদ্দেশ্যে ওষুধ খান এবং গর্ভপাত ঘটান তাহলে তা গ্রহণযোগ্য কিনা।

উত্তরে তিনি বলেছেন, কারোরই এ ধরণের অধিকার নেই। ইমাম বাকের (আ.) এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, কোনো নারী যদি ইচ্ছাকৃতভাবে গর্ভপাত ঘটান এবং সেই গর্ভজাত সন্তানের হাড়ের ওপর যদি মাংস গজিয়ে থাকে তাহলে এর জন্য রক্তমূল্য পরিশোধ করতে হবে। স্বামীকে না জানিয়ে এ কাজ করে থাকলে সন্তানের বাবা হিসেবে ওই নারীর স্বামী রক্তমূল্য পাবেন। রক্তমূল্যের কোনো অংশই ওই নারীর জন্য প্রযোজ্য হবে না, কারণ তিনি হচ্ছেন গর্ভের সন্তানের হত্যাকারী।

আমিরুল মুমিনিন হজরত আলী (আ.)-ও গর্ভপাতকে মারাত্মক অপরাধ হিসেবে গণ্য করে রক্তমূল্য পরিশোধের কথা বলেছেন। ইসলাম ধর্মে গর্ভে থাকা অবস্থাতেই একটি মানব সন্তান বিভিন্ন ধরণের অধিকারের আওতায় আসে এবং এ অধিকার লঙ্ঘিত হলে এর জন্য শাস্তির কথা বলা হয়েছে। গর্ভপাতের কারণে রক্তমূল্য পরিশোধের নির্দেশ এ ধরণেরই একটি বিধান। ইসলামি দণ্ডবিধিতে বলা হয়েছে, কোনো গর্ভবতী নারী যদি এমন শাস্তির আওতায় পড়েন যা তার ভ্রূণ বা গর্ভের সন্তানের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে তাহলে ওই নারীর শাস্তি শুরুর সময় পিছিয়ে দিতে হবে। নারী যদি অবৈধভাবে সন্তানের অধিকারী হয়ে থাকে তাহলেও তাকে শাস্তি দেওয়া যাবে না।

কারণ অপরাধী হচ্ছে ওই নারী। তার গর্ভে যে মানব সন্তান রয়েছে সে কোনো অপরাধ করে নি। ওই নারীর কারণে সন্তানের ক্ষতি করা যাবে না। কাজেই ইসলাম ধর্মে একটি মানব সন্তান ভ্রূণ অবস্থাতেই আলাদা একজন মানুষ হিসেবে আইনি অধিকার লাভ করে। এই অধিকার এমন যে, গর্ভে ধারণকারী মা নিজেও ওই সন্তানের কোনো ক্ষতি করার অধিকার রাখে না। ঐশী আইন অনুযায়ী গর্ভে অস্তিত্ব লাভ করার পর থেকেই একজন মানব সন্তানের শিশুকাল শুরু হয়।

আরও পড়ুন: ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের কাছে ক্ষমা চাইতে মাসুদা ভাট্টিকে লিগ্যাল নোটিশ

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে গ্রেফতারে ড. কামালের উদ্বেগ, আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা

ফেসবুকে লাইক দিন