ইরানকে নিয়ে ট্রাম্পের ‘ভয়ংকর পরিকল্পনা’ ফাঁস

ইমান২৪.কম: ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের কাছে পরাজিত হয়েছেন। এদিকে পরাজিত হয়েই ইরান নিয়ে ভয়ংকর পরিকল্পনা করেছেন ট্রাম্প।

অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, জানুয়ারিতে ক্ষমতা হস্তান্তরের দুই মাস আগে ইরানের প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় (নাতাঞ্জ নিউক্লিয়ার সাইট) হামলা চালানোর ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রয়টার্স জানায়, গত সপ্তাহে ওভাল অফিসের এক বৈঠকে ইরানে আক্রমণ চালানোর সুযোগ আছে কিনা এ নিয়ে আলোচনা করেছেন ট্রাম্প।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারের (৫ নভেম্বর) ওই বৈঠকে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও, নতুন ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী ক্রিস্টোফার মিলার ও জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল মার্ক মিলি উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসকেও সোমবার (১৬ নভেম্বর) ওই কর্মকর্তা বৈঠকের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। সংবাদমাধ্যমটি আরও জানিয়েছে, হামলার পর ব্যাপক সংঘর্ষের ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে বৈঠকে ট্রাম্পকে ইরান আক্রমণের পরিকল্পনায় অগ্রসর না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ওই কর্মকর্তা বলেছেন, ‘ট্রাম্প ইরানে আক্রমণ চালানোর সুযোগ আছে কিনা জানতে চেয়েছিলেন। তারা তাকে এখানকার পরিস্থিতি সম্পর্কে জানিয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত এই বিষয়ে অগ্রসর না হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ এদিকে রয়টার্স জানায়, এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে হোয়াইট হাউসে যোগাযোগ করা হলে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই গত চার বছর ধরে ইরানের বিরুদ্ধে একের পর এক ‘আক্রমণাত্মক নীতি’ গ্রহণ করেছেন। ২০১৮ সালে ইরানের সঙ্গে আলোচিত পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে আসেন।

পাশাপাশি, ইরানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এ বছর জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে একটি বিমানবন্দরের কাছে বিমান হামলা চালিয়ে ইরানের বিপ্লবী বাহিনীর প্রধান জেনারেল কাশেম সোলাইমানিকে হত্যা করা হয়।

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির পর তিনিই ছিলেন দেশটির সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি। এদিকে ট্রাম্পের ওই ‘পরিকল্পনার’ একদিন আগেই ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত বাড়ানো নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।

জাতিসংঘের ওয়াচডগ আন্তর্জাতিক পরমাণুশক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সমঝোতা চুক্তিতে যে পরিমাণ ইউরেনিয়াম থাকার কথা ইরান তার চেয়ে অন্তত ১২ গুণ বেশি ইউরেনিয়াম মজুত করেছে। সংস্থাটির আরও জানিয়েছে, এখন ইরানের ইউরেনিয়াম মজুতের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৪৪৩ কেজি।

ফেসবুকে লাইক দিন