‘আলেমদের বক্তব্যকে নিয়ন্ত্রণ করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে পুলিশ’

ইমান২৪.কম: ওয়াজ মাহফিলে আলেমদের বক্তব্যকে নিয়ন্ত্রণ করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে পুলিশ। আলেমদের নিয়ে পুলিশ ভাবছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করেছি যে সম্প্রতি ওয়াজ মাহফিলে কিছু বক্তা ইসলামের পাঁচ স্তম্ভ নিয়ে আলোচনা না করে নারীদের নিয়ে আপত্তিকর বক্তৃতা দেন।’

ঢাকার আগারগাঁওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ‘সহিংসতা ও চরমপন্থা প্রতিরোধে ইসলামিক বিজ্ঞজনদের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে তিনি এসব বলেন।

গতকাল সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী ওয়াজ মাহফিল ও ধর্মীয় বক্তৃতায় রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য নিষিদ্ধ করে কোরআন ও হাদিসের রেফারেন্স বাধ্যতামূলক উল্লেখ করে ধর্মীয় বক্তৃতা দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ পাঠান।

আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান আইনি নোটিশে বলেন, ৩০ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে তিনি এ বিষয়ে নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করবেন।

সেমিনারে সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, যার ইসলাম সম্পর্কে সুস্পষ্ট জ্ঞান আছে, সে কখনই জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে না। ‘আলেমরা বয়ানের মাধ্যমে জনগণকে জঙ্গিবাদ ও মাদক সম্পর্কে সচেতন করতে পারেন। জনগণের কাছে ইসলামের সঠিক ব্যাখ্যা দিতে, জনগণকে সচেতন করতে আলেম-ওলামাদের ভূমিকা অনেক।’

জঙ্গিবাদের বিষয়ে আলেমদের মধ্যেও বিভাজন আছে বলে মন্তব্য করেন সিটিটিসি প্রধান।

তিনি আলেম সমাজকে হলি আর্টিজানের মতো ঘটনা যেন না ঘটে, সে বিষয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘জঙ্গিবাদ যেহেতু একটি আদর্শের বিষয়, যারা জেনে বুঝে রাজনৈতিক মদদে জঙ্গিবাদের দিকে যাচ্ছে তাদের পুনর্বাসনের সুযোগ সীমিত।’

সিটিটিসি প্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশে আল-কায়েদা নেই। তাদের কোনো শাখাও নেই। তবে, অনেকে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে বাংলাদেশে আল-কায়েদার অস্তিত্ব প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন।’

বর্তমানে বাংলাদেশে কোনো বড় জঙ্গি হামলার ঝুঁকি নেই বলে জানালেও সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

সেমিনারে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নুরুল ইসলাম ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আনিস মাহমুদ প্রমুখ।

ফেসবুকে লাইক দিন