আল্লামা বাবুনগরীর নামে নির্জলা মিথ্যাচার করেছেন মামলার বাদী শ্যালক মঈনুদ্দিন

ইমান২৪.কম: শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ. এর স্বাভাবিক মৃত্যুর তিনমাস পর দেশের শীর্ষ ওলামায়ে কেরাম ও নিরীহ ছাত্র সহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা “হত্যা মামলা” দায়ের করে দেশজুড়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন মরহুমের শ্যালক জনাব মঈনুদ্দিন।

আজ ২৬ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আমীরে হেফাজত আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী হাফিযাহুল্লাহু সহ ওলামায়ে কেরামের নামে নির্জলা মিথ্যাচার করে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন মামলার বাদী মঈনুদ্দিন সাহেব। সাংবাদিকদের সামনে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে মঈনুদ্দিন উদ্ভব বানোয়াট ও ডাহামিথ্যে তথ্য উপস্থাপন করেছেন। তার কথার সাথে বাস্তবতার নূন্যতম কোন সম্পর্ক নেই।

জনাব মুঈনুদ্দিন বলেছেন ” শফী হুজুরকে হত্যার জন্য বারংবার হুমকি প্রদান করা হয়েছে। একথা সম্পূর্ণ মিথ্যা। মাদরাসার সকল ছাত্র শিক্ষক আল্লামা আহমদ শফী রহ. কে কলিজাসম মুহাব্বত করেন। তারা কি কখনো হযরতকে হত্যার জন্য কখনো হুমকি দিতে পারে! কি অবাস্তব ও মিথ্যে কথা। কোন জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তি এ কথা বিশ্বাস করতে পারে না। শতবর্ষ পার করার পর আল্লাহর হুকুমেই স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছিল আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ এর।

লিখিত বক্তব্যে কতিপয় ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করে শ্যালক মঈনুদ্দিন বলেছেন- মাওলানা নাছির উদ্দীন মুনীর, মাওলানা মীর ইদরীস,মাওলানা শহীদুল্লাহ,মাওলানা ইনআমুল হাসান, (আমি)মাওলানা জুনয়েদ,জোরপূর্বক আল্লামা শাহ আহমদ শফী (রহ.) কে হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছি। অথচ আমি সহ উল্লেখিত ব্যক্তিবর্গের একজনও সেদিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। আর আমি ঘটনাস্থলে থাকা তো দূরের কথা চট্টগ্রামে-ই ছিলাম না। আল্লামা আহমদ শফী রহ. এর মতো একজন শীর্ষ আলেমের স্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে ওলামায়ে কেরামের নামে মামলা করে এতো মিথ্যা কথা কেমনে বলতে পারেন দাড়িপাকা এই মঈনুদ্দিন সাহেব!….আল্লাহ তায়া’লা তাঁকে হেদায়েত দান করুন আমিন।

আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ এর জানাযাকালীন সময়ে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর সরাসরি হস্তক্ষেপ ছিলো বলে নির্জলা মিথ্যাচার করেছে সংবাদ সম্মেলনে। জানাযায় আল্লামা বাবুনগরীর কোন ধরনের হস্তক্ষেপ ছিলো না। আল্লামা আহমদ শফী রহ এর বড় ছেলে মাওলানা ইউসুফ সাহেব এবং মাদরাসা কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে জানাযা সহ দাফন কাফনের কাজ সুষ্ঠু ভাবে আঞ্জাম দিয়েছিলেন। আজ এতোদিন পর উদ্দেশ্যমূলকভাবে জানাযায় আল্লামা বাবুনগরীর হস্তক্ষেপ ছিলো বলে মিথ্যাচার করা হচ্ছে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই।

জানাযাপূর্ব বক্তব্যে হুজুরের বড় ছেলে মাওলানা ইউসুফ সাহেব নিজেই নিজের বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করে স্থানীয় সাংসদ ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ সাহেবকে বক্তব্যের সুযোগ দিয়েছিলেন। ভিডিওতে ইউসুফ সাহেবের সেই কথাগুলো এখনো সংরক্ষিত আছে।

মামলার বাদী শ্যালক মঈনুদ্দিন আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী হাফিযাহুল্লাহুর মতো দেশপ্রেমিক ও সচেতন একজন শীর্ষ আলেমকে দেশ বিরোধী, হত্যাকারী,
রাজাকার বলে চরম মানহানি ও অমার্জনীয় অপরাধ করেছে। তার এ বক্তব্যের জন্য দেশবাসীর নিকট অবশ্যই ক্ষমা চাইতে হবে। সর্বজন শ্রদ্ধেয় আল্লামা বাবুনগরীর শানে এমন বেআদবি দেসবাসী কখনো মেনে নেবে না।

আল্লামা আহমদ শফী রহ এর মৃত্যুর পর বড় ছেলে মাওলানা ইউসুফ সাহেব স্ব উদ্যোগে বাবার মৃত্যু স্বাভাবিক হয়েছিল বলে মিডিয়ার সামনে দাবী করেছিলেন। তাঁকে কেহ কোন প্রকারের চাপপ্রয়োগ করেনি। তাঁকে এবং তাঁর তিন ছেলেকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সাজানো বক্তব্য দেওয়ানো হয়েছিলো বলে সংবাদ সম্মেলনে আজ নির্জলা মিথ্যাচার করা হয়েছে। ইউসুফ সাহেবকে কেন চাপ প্রয়োগ করা হবে, তিনি তো হাটহাজারী মাদরাসার কোন দায়িত্বশীল নন।

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী হাফিযাহুল্লাহু ব্যক্তিগতভাবে সংবাদ সম্মেলন করেননি। হেফাজত নেতৃবৃন্দ এবং মাদরাসার নিরীহ ছাত্রকে মামলার আসামী করায় আল্লামা আহমদ শফী রহ এর মৃত্যুর সঠিক খবর দেশ ও জাতীর সামনে তুলে ধরার জন্য হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ও হাটহাজারী মাদরাসা কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন। হাটহাজারী মাদরাসার শিক্ষা পরিচালক ও হেফাজতে ইসলামের আমীর হিসেবে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী হাফিযাহুল্লাহু সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। হাটহাজারী মাদরাসাকে ব্যবহার করে সংবাদ সম্মেলন করা হয়নি বরং মাদরাসা সংশ্লিষ্ট বিষয় হওয়ায় মাদরাসায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী হাটহাজারী মাদরাসার শায়খুল হাদীস ও শিক্ষা পরিচালক হওয়ায় দেশবাসী,মাদরাসার সকল ছাত্র শিক্ষক ও এলাকাবাসী যারপরনাই আনন্দিত, খুশী। আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী মাদরাসার কোন ছাত্র শিক্ষককে উস্কানী দিচ্ছেন না। বরং আল্লামা বাবুনগরী শিক্ষা পরিচালক হওয়ার পর থেকে মাদরাসার পড়াশোনা সহ যাবতীয় বিষয় তূলনামূলকভাবে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ ভাবে চলছে।

মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানানো এটা নাগরিক অধীকার। কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মামলা হলে তারা সেটা প্রত্যাহারের দাবী জানাতে পারে। এটা কেন হুকমি নয়। দাবীকে হুমকি বলে মঈনুদ্দিন সাহেব কার করোনা পেতে চাচ্ছেন তা বোধগম্য নয়। মামলা প্রত্যাহারের জন্য কেহ তাকে চাপ প্রয়োগ বা হুমকি দিয়েছেন বলে কোন প্রমাণ কি মামলদকারী মঈনুদ্দিন সাহেব দিতে পারবেন? তাহলে কেন মিডিয়ার সামনে এতো মিথ্যাচার….??

আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ এর জীবদ্দশায় তারা হযরতের ব্যক্তিত্বকে ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করেছিল আজ হযরতের মৃত্যুর পরও মিথ্যা মামলা দায়েরের মাধ্যমে ওলামায়ে কেরামকে হয়রানি করে আল্লামা আহমদ শফী রহ এর রূহকে কষ্ট দিচ্ছে।

এই বৃদ্ধ বয়সে মিথ্যা মামলা ও শীর্ষ ওলামায়ে কেরামের নামে মিথ্যাচার করে দেশের শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করার পায়তারায় নেমেছেন মঈনুদ্দিন গং সাহেবরা। এ বিষয়ের সরকার প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সজাগ থাকার আহবান করছি।

[এইচ.এম. জুনাইদ ২৬/১২/২০২০ ইং হাটহাজারী, চট্টগ্রাম ]

ফেসবুকে লাইক দিন