আমার গুলিতেই সিনহার মৃত্যু হয়: লিয়াকত

ইমান২৪.কম: স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার আসামি টেকনাফের বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক ইনচার্জ লিয়াকত আলী।

রবিবার (৩০ আগস্ট) বেলা ১২টার দিকে কক্সবাজারের ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। ডাকাত মনে করে চেকপোস্টে সাবেক মেজর সিনহাদের গাড়ির গতিরোধ করা হয়। এরপর তার গুলিতেই মেজর সিনহা নিহত হন বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি।

সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি লিয়াকতকে ফোন করে জানিয়েছেন যে, সেনাবাহিনীর পোশাক পরা ওই ব্যক্তি (সিনহা) ডাকাত দলের সদস্য। তার (সিনহার) হাতে আগ্নেয়াস্ত্র আছে। একথা বিশ্বাস করেই ডাকাত ধরতে চেকপোস্টে অবস্থান নেন লিয়াকত।

এবং তার করা গুলিতে সিনহা নিহত হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন তিনি। এদিন তৃতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ডে থাকা অবস্থায় লিয়াকতকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে আদালতে নেয়া হয়।

সিনহা হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘তিনি (এসআই লিয়াকত) আমাদের কাছে তার দোষ স্বীকার করেছেন। এর আগে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এপিবিএনের তিন সদস্য এসআই মো. শাহজাহান, কনস্টেবল মো. রাজীব ও মো. আব্দুল্লাহ।

একই মামলায় টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত রিমান্ডে আছেন। গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) তৃতীয় দফায় তাদের তিন দিনের রিমান্ডে নেয় মামলার তদন্তকারী সংস্থা র‍্যাব।

প্রসঙ্গত, গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের মারিশবুনিয়া পাহাড়ে ভিডিওচিত্র ধারণ করে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকার নীলিমা রিসোর্টে ফেরার পথে শামলাপুর এপিবিএন এর তল্লাশি চৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর (অব.) সিনহা মো: রাশেদ খান।

গত ৫ আগস্ট কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যা মামলা করেন সিনহা মো. রাশেদ খানের বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। এতে প্রদীপসহ পুলিশের নয়জনকে আসামি করা হয়।

এ ঘটনায় পুলিশ পৃথক তিনটি মামলা করেছে। পরে সাক্ষী অপহরণের অভিযোগে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় আরো একট মামলা হয়েছে।

ফেসবুকে লাইক দিন