কাশ্মীরে ছড়িয়ে পড়েছে স্বাধীনতাকামী যোদ্ধাদের সশস্ত্র প্রতিরোধ

ইমান২৪.কম: গত অর্ধ দশক ধরে ভারতীয় দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধের উত্তপ্ত এলাকা হিসেবে বিরাজ করছে দক্ষিণ কাশ্মীর। অবশ্য এখন উপত্যকার উত্তর অংশ বিস্ময়করভাবে আরো বেশি উত্তপ্ত হয়ে ওঠছে, সীমান্ত অঞ্চলে কয়েকটি প্রাণঘাতী হামলা হয়েছে।

ভারতীয় বাহিনীর দমন অভিযান প্রধানত সোফিয়ান, পুলওয়ামা, কুলগাম ও অনন্তনাগের মতো দক্ষিণ কাশ্মীরে নিবদ্ধ। এখানেই বুরহান মোজাফ্ফর ওয়ানি, জাকির মুসা ও রিয়াজ নাইকুর মতো জনপ্রিয় প্রতিরোধ যোদ্ধা সৃষ্টি হয়েছে। ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট ভারতের সংবিধান থেকে অবৈধভাবে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার পর উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গোটা উপত্যকা। দক্ষিণ কাশ্মীর এখনো পুরনো উত্তপ্ত ক্ষেত্র হিসেবে বহাল থাকলেও উত্তর অংশ এখন আরো বেশি উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

সেখানে প্রতিনিয়ত সশস্ত্র প্রতিরোধে নেমে পড়েছে স্বাধীনতাকামী যোদ্ধারা। গত ১৮ আগস্ট উত্তর কাশ্মীরের বারামুল্লা জেলার ক্রিরিতে ৩৬ ঘণ্টার দীর্ঘ এনকাউন্টারে ভারতীয় বাহিনীর ৫ সদস্য মারা যান। এবং তিন স্বাধীনতাকামী যোদ্ধা ইন্তেকাল করেন। ১৭ আগস্টের এক ভয়াবহ সকালে স্বাধীনতাকামী যোদ্ধারা সাচপুরা ক্রীরির ভারতীয় বাহিনী সিআরপিএফ ও নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর পুলিশের যৌথ দলের ওপর গেরিলা হামলা চালালে সিআরপিএফের দুই সদস্য ও এক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন।

সাথে সাথে অতিরিক্ত ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে যায়। প্রচণ্ড বন্দুকযুদ্ধে দুই ভারতীয় সেনা নিহত হয়। গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, ভারতীয় বাহিনীর ওপর হামলার ভিডিও প্রকাশ করে স্বাধীনতাকামী যোদ্ধারা। এই প্রথম এ ধরনের ভিডিও তারা প্রকাশ করল। এর ফলে পুলিশ তাদের প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য হয়। এর কয়েক দিন আগে, ১২ আগস্ট স্বাধীনতাকামী যোদ্ধারা শ্রীনগর-বারামুল্লা মহাসড়কের হিইগাম ক্রসিংয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কুইক রেসপন্স টিমের ওপর হামলা চালায়।

এতে এক সৈন্য আহত হয়। ৮ জুলাই কাছাকাছি থাকা বান্দিপোরা জেলায় স্বাধীনতাকামীরা হিন্দুত্ববাদের সহায়ক কাশ্মীরের এক বিজেপি নেতাকে তার ভাই ও বাবাকেসহ হত্যা করে। বস্তুত, ২০২০ সালে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হয়েছে উত্তর কাশ্মীরে। আর তা হয়েছে কুপওয়ারা জেলায়।

গত ৩ মে হান্ডওয়ারা এলাকায় দমন অভিযানে ভারতীয় এক কর্নেল, এক মেজর ও এক সাব ইন্সপেক্টরসহ ৫ নিরাপত্তা সদস্য মারা যান ও অজ্ঞাতপরিচয় দুই স্বাধীনতাকামী ইন্তেকাল করেন। উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হলো, কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর প্রথম ছয় মাস সশস্ত্র আন্দোলন সম্পর্কিত ঘটনা ছিল বেশ কম। মনে হচ্ছিল, আন্দোলন ঠাণ্ডা হয়ে গেছে।

কিন্তু গ্রীষ্মকাল এগিয়ে আসতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করে স্বাধীনতাকামীদের বিরুদ্ধে ভারতীয়দের অভিযান শুরুর পরপরই। প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ভারতীয় বাহিনী কাশ্মীরে প্রথম সাত মাসে প্রায় ১৫৯ জন স্বাধীনতাকামী যোদ্ধাকে হত্য করেছে।

২০১৯ সালে ছিল ১৫৭ জন। চলতি বছর নিহতদের মধ্যে মাত্র ১৭ জন বিদেশী। গত বছর ৫০ ভাগই ছিল বিদেশী। চলতি বছর নিহত ১৫০ স্বাধীনতাকামী যোদ্ধার মধ্যে মাত্র ১৫ জন উত্তর কাশ্মীরের। আর জম্মুতে ১০ জন ইন্তেকাল করেন।

বাকি সবাই ইন্তেকাল করেন দক্ষিণ কাশ্মীরে। কাশ্মীরে সশস্ত্র আন্দোলন দক্ষিণ থেকে উত্তরে ছড়িয়ে পড়াটা নয়া দিল্লীর জন্য ভালো খবর নয়। নয়া দিল্লীর কাশ্মীর নিয়ে অপকৌশলের ফলে সশস্ত্র স্বাধীনতা আন্দোলন দক্ষিণ থেকে উত্তরে ছড়িয়ে পড়ার ব্যবস্থাই করেছে। আর এতে এতদিন যেসব কাশ্মীরীরা চুপ ছিলো, তারাও স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র প্রতিরোধের পথেই হাঁটছে।

ফেসবুকে লাইক দিন