আ.লীগ নেতার দাফন শেষে বাড়িঘর-দোকান পাটে সমর্থকদের তাণ্ডব: ওসিসহ আহত ২৫

ইমান২৪.কম: পাবনা সদর উপজেলার দোগাছি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বর ও একই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বকুল শেখকে কুপিয়ে এবং গুলি করে হত্যার ঘটনায় তাণ্ডব চালিয়েছেন তার সমর্থকরা। শোক মিছিল শেষে মিছিলকারীরা শহরের অনন্ত মোড়ে ও দক্ষিণ রাঘবপুরে ১০-১২টি বাড়িঘর, ২৫-৩০টি দোকান পাট ও ব্যবসায়প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর চালান এবং অগ্নিসংযোগ করেন। তাদের ঠেকাতে গিয়ে থানার ওসিসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার (১২ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এই ভাংচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মাসুদ আলম জানান, শুক্রবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় পাবনা শহরের অন্তত মোড় এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সদর উপজেলার দোগাছি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বর ও একই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বকুল শেখকে কুপিয়ে এবং গুলি করে হত্যা করে প্রতিপক্ষ।

শনিবার দুপুর ২টায় অনন্ত মোড়ে ইমাম গাজ্জালি স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে জানাজা শেষে তাকে শহরের আরিফপুর গোরস্থানে দাফন করা হয়। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গোরস্থানে মরদেহ দাফন শেষে ফেরার পথে তার সমর্থকরা একটি শোক মিছিলও বের করেন। মিছিলকারীরা অনন্ত মোড় এলাকায় এসে হঠাৎই বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

তারা অনন্ত মোড় ও দক্ষিণ রাঘবপুর এলাকার নিকারি পাড়াসহ আশপাশের এলাকার ১০-১২টি বাড়িঘর, ২৫-৩০টি দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাংচুর চালান। একপর্যায়ে অগ্নিসংযোগ করেন। পাবনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসিম আহম্মদ জানান, খবর পেয়ে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।

এ সময় বিক্ষুব্ধদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া, পাল্টা-ধাওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিক্ষুব্ধদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। ওসি জানান, এতে তিনিসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।

এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন জানান, বিক্ষুব্ধদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে। পাবনা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার দুলাল মিয়া বলেন, খবর পেয়ে পাবনা ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট আগুন নেভাতে যায় এবং বিকলে ৫টার দিকে আগুণ নিয়ন্ত্রণে আনে।

পাবনা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইবনে মিজান জানান, ঘটনার রাত থেকেই ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশের পাহারা বসানো হয়। এজন্য পুলিশ সতর্ক ছিল। কিন্তু মরদেহ দাফন শেষে কিছু বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী আচমকা বাড়িঘরে হামলা চালায়।

পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি শান্ত। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, দীর্ঘদিন ধরে পাবনা শহরের অনন্ত মোড়ের সিএনজি ও অটোবাইকের চাঁদা তোলা নিয়ে বিবাদ চলছে। এরই জের ধরে শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রতিপক্ষ বকুলকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে।

ফেসবুকে লাইক দিন