দুই র‌্যাব সদস্যকে ভারতে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ

ইমান২৪.কম: দিনাজপুর সীমান্তে ছদ্মবেশে মাদক ব্যবসায়ী ধরতে গিয়ে ভুলবশত ভারতীয় সীমান্তে ঢুকে পড়ায় র‌্যাব’র একজন সহ অধিনায়ক (এএসপি) এবং একজন কনস্টেবলকে আটক করে নিয়ে গেছে বিএসএফ।

গতকাল মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) দুপুরে জেলার চিরিরবন্দরের পনট্টি ইউপির বি-আমতলী স্বরসতীপুর সীমান্তের মেইন পিলার ৩০৭, সাব পিলার-১ এর কাছ থেকে তাদের আটক করে নিয়ে যায় বিএসএফ।

আটকরা হলেন র‌্যাব-১৩ দিনাজপুর সিপিসি-১ এর সহ-অধিনায়ক (এএসপি) শ্যামল চং ও কনস্টেবল আবু বকর সিদ্দিক। স্থানীয়রা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বি-আমতলী স্বরসতীপুর সীমান্তের সমজিয়া মণ্ডলপাড়া এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে মোটরসাইকেলে করে সিভিল পোশাকে অভিযানে যায় পাঁচজন র‌্যাব সদস্য।

একভাগে দুইজন এবং অপর ভাগে তিনজন র‌্যাব সদস্য অভিযান শুরু করে। অজ্ঞতাবশত ভারতের অভ্যন্তরে ঢুকে ইসরাফিলের ছেলে মিলনকে আটক করে র‌্যাব সদস্যরা। মিলন চিৎকার শুরু করলে মোশাররফ মাস্টার ও হিরোসহ কয়েকজন মিলে মিলনকে ছিনিয়ে নিয়ে র‌্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালায়।

র‌্যাব সদস্যরা নিজেদের নিরাপত্তার জন্য এক রাউন্ড গুলি করে কৌশলে পালিয়ে আসেন। গুলির শব্দ শুনে অপর প্রান্তে থাকা দুইজন র‌্যাব সদস্যকে উদ্ধারে এগিয়ে যায়। ততক্ষণে ঘটনাস্থলে বিএসএফ সদস্যরা পৌঁছে ওই ২ র‌্যাব সদস্যকে আটক করে ভারতীয় সমজিয়া ক্যাম্পে নিয়ে যান।

এ ঘটনার পর সন্ধ্যার দিকে বিজিবি পতাকা বৈঠকের জন্য বিএসএফ’র কাছে চিঠি পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে। চিরিরবন্দর উপজেলার ১০ নম্বর পুনট্টি ইউপি সদস্য আব্দুল ওহাব জানান, র‌্যাব সদস্যরা মাদক বিরোধী অভিযানে গিয়ে স্বরসতীপুর ভারতীয় অংশে মাদক ব্যবসায়ী মিলনকে হাতকড়া পরালে সে চিৎকার করে।

এ সময় এক রাউন্ড গুলি করে র‌্যাব সদস্যরা পালিয়ে আসেন। একই অভিযানে অন্য স্থানে থাকা ২ জন র‌্যাব সদস্য সেখানে গেলে তাদেরকে আটক করে বিএসএফ’র কাছে হস্তান্তর করে ভারতীয় গ্রামবাসী। ওই এলাকার আরেক ইউপি সদস্য জাহির উদ্দিনও বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

এ ব্যাপারে ২৯ বিজিবি’র অধিনায়ক শরিফ উল্লাহ আবেদের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অপরদিকে র‌্যাব-১৩ দিনাজপুর সিপিসি-১ ক্যাম্পের অধিনায়ক লে. কর্নেল অব্দুল্লাহ আল মামুনের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনিও রিসিভ করেননি। ঘটনার সংবাদ সংগ্রহের জন্য ওই এলাকায় যাওয়া হলেও ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি বিজিবি।

ফেসবুকে লাইক দিন