এমপি জালালকে গুলি করে হত্যা করেন দ্বিতীয় স্ত্রী

ইমান২৪.কম: দীর্ঘ ৮ বছর পর নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা জালাল উদ্দিন তালুকদার হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন আদালত।

গতকাল মঙ্গলবার দুর্গাপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেন স্বর্ণ কমল সেন সাংসদ জালালের দ্বিতীয় স্ত্রীকে অভিযুক্ত করে আদালতে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে দ্বিতীয় স্ত্রী আয়েশা খাতুন এমপির পিস্তল দিয়ে জালাল তালুকদারকে গুলি করে হত্যা করেন।

আদালত সূত্র জানিয়েছে, দুর্গাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সাংসদ জালাল উদ্দিন তালুকদার হত্যা মামলায় পুলিশ, সিআইডি ও পিবিআই বিভিন্ন ধাপে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন।

কিন্তু এমপির ছেলে ও মামলার বাদী শাহ কুতুব উদ্দিন তালুকদার রুয়েল প্রতিবারই তদন্ত প্রতিবেদনে নারাজি দেন। সবশেষ তিন বছর আগে হাইকোর্ট নেত্রকোনা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করার নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তা মামলার ৪০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। প্রতিবেদন প্রকাশ সম্পর্কে রুয়েল তালুকদার গতকাল তার বাসভবনে সাংবাদিকদের জানান, মঙ্গলবার দুপুরে দুর্গাপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট স্বর্ণ কমল সেনের নির্দেশে আদালত তার (বাদী) উপস্থিতিতে তাকে এ প্রতিবেদন পাঠ করে শোনান।

তদন্ত প্রতিবেদনে বাদীর কোনও আপত্তি আছে কিনা জানতে চাওয়া হলে তিনি তাতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে রুয়েল তালুকদার বলেন, ‘আদালতের প্রতিবেদনে আমি সন্তুষ্ট। তবে দীর্ঘদিন ধরে যারা এ মামলাকে বিভিন্ন খাতে প্রভাবিত করতে চেয়েছিল আমি তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।’

এসময় সাংবাদিক ছাড়াও তার দলীয় কর্মী-সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন। ২০১২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ভোরে দুর্গাপুরে নিজ বাসার শোবার ঘরে পিস্তলের গুলিতে নিহত হন সাবেক সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা জালাল উদ্দিন তালুকদার।

ফেসবুকে লাইক দিন