ভারতে বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন ঘেরাও, স্থলবন্দরগুলো অবরোধের হুমকি: আটক ৬শ

ইমান২৪.কম: ভারতের কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরং দলের কলকাতার বাংলাদেশ উপ হাইকমিশন ঘেরাও কর্মসূচী পন্ড করে দিয়েছে পুলিশ। এ সময় সংগঠনটির প্রায় ৬শ’ নেতাকর্মীকে আটক করেছে কলকাতা পুলিশ।

কুমিল্লার মুরাদনগরে হিন্দুদের বাড়ি-ঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগসহ সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার প্রতিবাদে এই কর্মসূচী দিয়েছিল ভারতের হিন্দুত্ববাদী সংগঠনটি। বিষয়টি নিশ্চিত করে কলকাতা উপ হাইমিশনের কাউন্সিলর ও দূতালয় প্রধান বি এম জামাল হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, আমরা বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়কে জানিয়েছি। তিনি বলেন, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের হাইকমিশন ঘেরাও কর্মসূচী দিয়েছিল।

কয়েশ নেতাকর্মী জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেছিল। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে। এ বিষয়ে কলকাতার সাংবাদিক রক্তিম দাস জানান, ‘এই কর্মসূচীর কারণে সকাল থেকেই বাংলাদেশ উপ হাইকমিশনের আশে-পাশের সব রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

কয়েক দফা চেষ্টা করে বিক্ষোভকারীরা ব্যর্থ হয়। পরে বেলা ১১টার দিকে গেরিলা কায়দায় বজরং দলের দুই হাজারের বেশি নেতাকর্মী হাইকমিশন এলাকায় প্রবেশ করে।

এ সময় তারা সেখানে প্রধানমন্ত্রীর কুশপুতুল দাহ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। এ সময় পুলিশ লাঠি চার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং আটক করে নিয়ে যায়।

বিশ্ব হিন্দু পরিষদের পূর্বক্ষেত্রের সম্পাদক অমিয় সরকার বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীতে পুলিশ বাধা দিয়েছে। আমাদের ৬ শতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, গত ছমাস ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর হামলা করা হচ্ছে।

কিন্তু বাংলাদেশ সরকার তার কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। যারা আক্রান্ত হচ্ছেন তারা আমাদের ভাই, স্বজন। তাদের ওপর আক্রমণ হলে আমরা তো ঘরে বসে থাকতে পারি না।

তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হুশিঁয়ারী দিয়ে বলেন, অনতিবিলম্বে যদি এই সব হামলার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি না দেন তাহলে আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের স্থলবন্দরগুলো অবরোধ করবো এবং সব ধরণের ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করে দেব।

কলকাতা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, অনুমতি ছাড়া ডিপ্লোমেটিক জোনে কর্মসূচি করায় বিএইচপি ও বজরং দলের সমর্থকদের আটক করা হয়েছে। সন্ধ্যায় তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ফেসবুকে লাইক দিন