চিকিৎসক ছাড়াই চলছিল ‘মাইন্ড এইড’ হাসপাতাল! বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

ইমান২৪.কম: আদাবরের মাইন্ড এইড নামে একটি মানসিক স্বাস্থ্য হাসপাতালে আনিসুল করিম নামে এক সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনার সিসিটিভির ফুটেজ পর্যালোচনার পর তার মৃত্যুকে ‘হত্যা’ বলছে পুলিশ।

যে মানসিক রোগ নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে গিয়ে আনিসুল করিম ‘হত্যাকাণ্ডের’ শিকার হয়েছেন সেখানে কোনো মানসিক চিকিৎসক নেই বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরিচালক পর্ষদ, কো-অর্ডিনেটর, কোম্যানেজার ও ওয়ার্ডবয়দের দিয়ে চলছিল মাইন্ড এইড।

এছাড়া হাসপাতালটির কোনো লাইসেন্সও নেই। মঙ্গলবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির তেজগাঁও জোনের ডিসি হারুন অর রশীদ বলেন, হাসপাতালটির কোনো কাগজপত্র নেই, ডাক্তার নেই। এ ধরনের হাসপাতাল চালানোর জন্য যেসব লাইসেন্স থাকা দরকার তা নেই।

মাদকদ্রব্য অধিদফতরের কোনো লাইসেন্সও তাদের নেই। তিনি বলেন, হাসপাতালটির পরিচালক পর্ষদ কোঅর্ডিনেটর, কোম্যানেজার ও ওয়ার্ডবয়দের দিয়ে হাসপাতাল চালাচ্ছিল; যারা মেডিকেলে লেখাপড়া করে নাই। আমরা সবাইকে গ্রেফতার করেছি।

এখন তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। যারা আমাদের এই সিনিয়র এএসপিকে ওই কক্ষে তুলে নিয়ে গেছেন, তারা কেউ ডাক্তার না। যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের মধ্যে চারজন ওয়ার্ডবয়। একজন কোঅর্ডিনেটর; যিনি তিতুমীর কলেজ থেকে বিএ পাস করেছেন।

রেদওয়ান নামে এক তরুণ একটি কলেজে বিবিএ পড়ছেন। তারা যেভাবে এএসপি আনিসুলকে টর্চার করেছেন তাতে বোঝা যাচ্ছে, এটা বড় ধরনের হত্যাকাণ্ড।

ডিসি হারুন বলেন, হাসপাতালটিতে একজন রোগী আছে। তিনি চলে গেলে হাসপাতালটি বন্ধ করে দেয়া হবে।

তিনি বলেন, জাতীয় মানসিক হাসপাতাল থেকে হঠাৎ করে রোগীটা কীভাবে মাইন্ড এইড হাসপাতালে চলে গেল? এই দুই হাসপাতালের সঙ্গে কোনো দালাল জড়িত আছে কিনা, তা আমরা খতিয়ে দেখছি।

হাসপাতালের মালিকের সন্ধান পাওয়া গেছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, তদন্তের পর বিস্তারিত সব জানানো হবে।

ফেসবুকে লাইক দিন