সৃষ্টির সেবার খেদমতে নওমুসলিম মুহাম্মাদ রাজ ও সৃষ্টির সেবা সংস্থা

ইমান২৪.কম: সমাজের সবচেয়ে বেশী অবহেলিত হচ্ছে বাবা-মা হারা এতিম সন্তান।তাদের দেখার লোকের বড়ই অভাব।জরিপে দেখা যায়, বাবা মা হারা এতিম সন্তানেরা দুমুঠো অন্নের জন্য শিশুশ্রমে লেগে যাচ্ছে। সমাজের বিত্তবানেরা বাহ্যিকভাবে অনেক দয়া মায়া দেখিয়ে ভরণপোষণ ও পড়ালেখার ব্যায়ভার নিতে চেয়ে বাস্তবে নিজেদেরই স্বার্থসিদ্ধি করছে।

পড়ালেখা তো দূরের কথা,তাদের বানাচ্ছে ঘরের কাজের লোক। আর যাদের বাবা অঢেল সম্পদ রেখে মারা যায় তাদের বিপত্তি আরো বেশী। বাবা মারা যেতে দেরী সম্পত্তির উপর শকুনের চোখ পড়তে একটুও দেরী হয়না। তাইতো হরহামেশাই মিডিয়ায় আসে অমুকের নাবালক সন্তানকে বাড়িতে উঠতে দিচ্ছেনা অমুক। অর্থাৎ বাবা নাই যার কেউ নাই তার।

না! এর মাঝেও বহু ভালোমানুষ আছে। আছে ভালো সংগঠন। যেমন সৃষ্টির সেবা সংস্থা। সৃষ্টির সেবাতেই যারা খুঁজেন স্রষ্টার সন্তুষ্টি। এ সংস্থার দায়িত্ব এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আল্লাহওয়ালা বান্দার সাহায্যে দায়িত্ব নিয়েছে ৬৮ জন এতিমের যাবতীয় দায়ভার। একেবারে পড়াশোনা সব সবকিছু। এরা সবাই কুরআনের হাফেজ হচ্ছে ইনশাআল্লাহ।

এদের মধ্যে হযরতুল আল্লাম মুফতি জাফর আহমাদ সাহেবের মাদরাসা বাইতুল উলুম ঢালকানগরে আছে ২০ জন, বিশিষ্ট দ্বায়ী মুফতি যুবাইর সাহেবের তত্ত্বাবধানে উত্তবঙ্গের মাদরাসায় ৮ জন।ঢালকানগরের খলিফা মুফতি তৈয়ব আশরাফ সাহেবের মাদরাসা মারকাযুল ইহসানে ২০ জন।

গাজীপুর কাপাসিয়ায় মুফতী মঈন সাহেবের মাদরাসায় ১০ জন। রংপুরের আফতাবনগরে ব্রেইল পদ্ধতিতে ১০ জন অর্থাৎ তারা অন্ধ। আল্লাহ কালামের হাফেজ হচ্ছে তারাও। আর এদের যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করছে সৃষ্টির সেবা সংস্থা। সর্বমোট ৬৮ জন এবং আল্লাহ চাইলে ধীরে ধীরে এ সংখ্যা বাড়বেই ইনশাআল্লাহ।

আর এ কাজের পেছনে সবচেয়ে বেশী যে ব্যক্তির মেধা আর শ্রম ব্যর হচ্ছে তিনি সেই সৌভাগ্যবান ব্যক্তি নওমুসলিম মোহাম্মাদ রাজ। যাকে আল্লাহ একেবারে কট্টর হিন্দু অর্থাৎ ব্রাহ্মণ বংশ থেকে আপন অনুগ্রহে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে নিয়ে এসেছেন। নিজের পরিবার যাকে ছেড়ে দিয়েছে একেবারে নিঃসঙ্গ অবস্থায়। বঞ্চিত করে দিয়েছে যাবতীয় স্থাবর অস্থাবর সম্পতি থেকে।
তিনি ছাড়া অসহায় এ মানুষগুলোর প্রতি দয়া আর কারইবা বেশী থাকবে। দিনরাত-রাতদিন বিবি বাচ্চা রেখে খেটে যাচ্ছেন অসহায় মানুষগুলোর জন্য।

আরো যিনি কষ্ট করে যাচ্ছেন তিনি বাংলাদেশে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত অধ্যাপক প্রফেসর মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা ইবরাহীম খলিল সাহেব, ফয়সাল বিন হুসাইন।

উল্লেখ্য যে সৃষ্টির সেবা সংস্থার মাধ্যমে বাগেরহাটের শরণখোলার সোনাতলায় ও কুড়িগ্রামের কফিলের চরে দুইটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সংস্থার সদস্যরাই তত্ত্বাবধান করছেন। বিশেষ করে নওমুসলিম মুহাম্মদ রাজ।

এছাড়া বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রান,গৃহহীনদের গৃহ নির্মান,চিকিৎসার অভাবে ধুকতে থাকা রোগীর চিকিৎসা, বিভিন্ন যায়গায় ফ্রী মেডিকেল ক্যাম্প,তৃতীয় লিঙ্গের(হিজড়া) দ্বীনি শিক্ষার ব্যবস্থা সহ অসংখ্য সেবা করে যাচ্ছে সৃষ্টির সেবা সংস্থা।

প্রতি মাসে অন্তত দুই সপ্তাহ রাতের বেলা ২০০ ভাসমান মানুষদের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করছে সংস্থাটি। যাদের সর্বাগ্রে রয়েছেন নওমুসলিম মুহাম্মদ রাজ, তারপর প্রফেসর আমিরুল ইসলাম,মাওলানা ইবরাহীম খলিল মুফতি মঈন উদ্দীন সহ কর্মীবৃন্দ।

আল্লাহ তা’আলা সৃষ্টির সেবা সংস্থা এবং সংগঠনের অগ্রণী কর্মী নওমুসলিম মুহাম্মদ রাজ সহ সবাইকে কবুল করুন।আমীন।

ফেসবুকে লাইক দিন