মাত্র ‘দেড় মিনিটেই’ সিনহাকে গুলি, সেইরাতে যেভাবে যা হয়েছিল

ইমান২৪.কম: মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যার ‘গোড়ার রহস্য’ উদঘাটনে গতকাল শুক্রবার এই হত্যা মামলার প্রধান ৩ আসামি ওসি প্রদীপ, এসআই লিয়াকত ও এসআই নন্দ দুলালকে নিয়ে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কের বাহারছড়া শামলাপুর চেকপোস্টে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসপি খাইরুল ইসলামসহ র‌্যাবের একটি দল।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সরওয়ার উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, সেই রাতে গাড়ি থেকে নামার এক থেকে দেড় মিনিটের মধ্যেই মেজর সিনহাকে গুলি করা হয়। এই র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, ‘সিনহা নিহত হওয়ার ঘটনাটি গভীরভাবে অ্যানালাইসিস করা হচ্ছে। এক এক-দেড় মিনিটের ঘটনাপ্রবাহ বিচার-বিশ্লেষণ চলছে। এতে প্রতিটি সেকেন্ডই গুরুত্বপূর্ণ।

এ ব্যাপারে তথ্য-উপাত্ত ইতোমধ্যে সংগৃহীত হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘যেহেতু বিষয়টি খুবই সেনসিটিভ তাই হুট করে কিছু বলা যাবে না। আমরা ডিটেইলসে যাচ্ছি। কেন ফায়ারিং হয়েছে তা তুলে আনার চেষ্টা করছি। জিজ্ঞাসাবাদে আসামি লিয়াকত যেটা বলেছে, সিনহা পিস্তল তাক করে ফেলেছিল। তার এই কথা যদি সত্যি হয় তবে কী ঘটনায় হঠাৎ মেজর সিনহা পিস্তল তাক করলো এবং লিয়াকত গুলি চালালো- এসব বিষয় বের করার চেষ্টা চলছে।’

ঘটনাস্থলে মূলত কী খুঁজতে গিয়েছে তদন্ত কর্মকর্তারা- এমন প্রশ্নে কর্নেল তোফায়েল বলেন, ‘কেন এই ফায়ারিংটা সংঘটিত হয়েছিল? সংক্ষিপ্ততম সময়ের মধ্যে কী এমন ঘটেছিল যে সিনহা গুলিবিদ্ধ হয়েছিল? লিয়াকত যেটা বলছে যে, সিনহা পিস্তল তাক করেছিল। এই ১ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে কী এমন ঘটেছিল যে পিস্তল তাক করার মতো পরিস্থিতি হলো? আর লিয়াকতই কেন তাৎক্ষণিক ফায়ার করলো? আলোচিত এই মামলায় সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত সম্পর্কে তদন্ত কর্মকর্তা নিজের সন্তুষ্টির জন্যই আসামিদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বলে জানান তিনি।

সবকিছু অ্যানালাইসিস করে র‌্যাব একটা সন্তোষজনক তদন্ত সম্পন্ন করবে উল্লেখ করে পুলিশের এলিট ফোর্সের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘একটা কথা আছে, জাস্টিস হারিড, জাস্টিস বারিড; জাস্টিস ডিলেইড, জাস্টিস ডিনাইড। তো হারিড যেন না হয় এবং ডিলেইড যেন না হয়। কোনোটাই যেন না হয় দুদিক বিবেচনায় রেখেই আমরা কাজ করছি।’

গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাক বাহারছড়া চেকপোস্টে নিরাপত্তা চৌকিতে তল্লাশির সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৫ আগস্ট সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌসী বাদী হয়ে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালতে এসআই লিয়াকত, ওসি প্রদীপ কুমার দাসসহ ৯ পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

আলোচিত এ হত্যা মামলার ৯ আসামি হলেন- টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাস, টেকনাফ বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক মো. লিয়াকত, বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) নন্দ দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) লিটন মিয়া, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) টুটুল ও কনস্টেবল মোহাম্মদ মোস্তফা।

এদের মধ্যে আসামি মোস্তফা ও টুটুল পলাতক আছেন। সিনহা হত্যার পরদিন পুলিশ বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় দুটি ও রামু থানায় একটি মামলা করে। মামলায় এ পর্যন্ত ৭ পুলিশ, আর্মড পুলিশের ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ৩ সদস্য ও টেকনাফ পুলিশের করা মামলার ৩ সাক্ষীসহ ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। বিভিন্ন সময় প্রত্যেকের ৭ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। আজ ৪ পুলিশসহ ৭ আসামির ৭ দিনের রিমান্ড শেষ হলো।

বাকি ৬ আসামি এখনও র‌্যাবের রিমান্ডে রয়েছেন। ওই ৬ জন হলেন- টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাস, টেকনাফ বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক মো. লিয়াকত, বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) নন্দ দুলাল রক্ষিত, এপিবিএনের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শাহজাহান, কনস্টেবল রাজীব ও আব্দুল্লাহ।

ফেসবুকে লাইক দিন