হেফাজতের মিছিলে কালিমা সংবলিত কালো ব্যানার: নাস্তিক্যবাদী মিডিয়ার চুলকানি

ইমান২৪.কম: এইচ.এম. জুনাইদ| ফ্রান্সে রাসুল সা. এর অবমাননাকর কার্টুন প্রদর্শনের প্রতিবাদে গতকাল ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার বাদ আসর বিক্ষোভ মিছিল করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ হাটহাজারী শাখা।

মিছিলে প্রতিবাদী বিভিন্ন শ্লোগান সম্বলিত ফেস্টুনের সাথে সাথে নবীপ্রেমিক কিছু তৌহিদি জনতার হাতে ছিলো ইসলাম ও মুসলমানদের পবিত্র কালিমায়ে তৈয়্যিবা ও হাদীসে রাসুলের অংশ সম্বলিত একটি কালো ব্যানার। ব্যানারের ডানদিকে একটি রাইফেলের ছবি ও ব্যানারের নিচের অংশে একটি তরবারিতে একটি হাদিসের অংশ ছিলো, যার অর্থ ‘আমরা মোহাম্মদের (সা.) হাতে বায়াত হয়েছি, যতদিন বেঁচে থাকবো ততদিন জিহাদ করে যাবো’। হয়ত প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবেই এ ছবিগুলো দেয়া হয়েছিলো।

কালিমায়ে তায়্যিবা ও হাদীসের অংশ সম্বলিত কালো ব্যানার দেখেই গাত্রদাহ শুরু হয়েছে নাস্তিক ও বামপড়ায়। স্বীকৃত নাস্তিক্যবাদী মিডিয়া বাংলাট্রিবিউন নিউজের শিরোনাম করলো-হেফাজতের বিক্ষোভে অস্ত্র সংবলিত ব্যানার…..।

বাংলাট্রিবিউনের করা পুরো রিপোর্ট জুড়ে ছিলো এই কালো ডিজিটাল ব্যানারকে আইএস বা আল কায়দার পতাকা প্রমাণের হীন চেষ্টা। ব্যানারকে জঙ্গিগোষ্ঠীদের ব্যানার বানাতে আধাজল খেয়ে মাঠে নেমেছে তারা। মিছিলে ব্যবহৃত পবিত্র কালিমা তৈয়্যিবা ও হাদীস সংবলিত স্রেফ একটি ডিজিটাল ব্যানারকে যখন আইএস বা আল কায়দার পতাকার রূপ দিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়,তখন আমাদের আর বুঝতে বাকি থাকেনা এই নাস্তিক্যবাদী বাংলাট্রিবিউন আসলে কি চায়! বুঝতে বাকি থাকে না ঐসব নাস্তিকদের মতলব কি?

আমার যেই সোনার বাংলায় সোনার ছেলেরা সকাল-সন্ধ্যা অস্ত্রের মহড়া দেয়,দিন-দুপুরে প্রকাশ্যে চাপাতির ব্যবহার করে সেই দেশে বিশ্বনবী সা. এর ব্যঙ্গচিত্র অংকনকারীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদী মিছিলের ব্যানারে প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে অস্ত্রের ছবি থাকা নিয়ে এতো হৈ-হুল্লোড় কেন ? নাস্তিকপাড়ায় এতো ঘেউঘেউ কেন ? বাংলাট্রিবিউনের এতো জ্বালাপোড়া কেন?

তারা প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দিতে পারবে,চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে মানুষ হত্যা করতে পারবে কিন্তু তৌহিদি জনতা বিশ্বনবী সা. এর ব্যঙ্গচিত্রকারীদের বিরুদ্ধে প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে অস্ত্রের ছবিও ব্যবহার করতে পারবে না! তৌহিদি জনতা কি এ দেশে উড়ে এসেছে ????

এ দেশের তৌহিদি জনতা কখনো প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দেয়নি,অস্ত্রের ঝনঝনানি তৌহিদি জনতা কখনো শুনায় না। নবী অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যানারে প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে অস্ত্রের ছবি দেখেই জঙ্গিগোষ্ঠী বানিয়ে আইএস আর আলকায়দা খোঁজার হেতু কি! বাংলাদেশ সরকার বারবার ঘোষণা করছেন দেশে জঙ্গিগোষ্ঠী বলতে কিছুই নেই। সরকার দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সন্ত্রাস দমনে কঠোর ও প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন।

সুতরাং বাংলাট্রিবিউন সহ যে সকল নাস্তিকরা একটি ব্যানারকে পুঁজি করে বাংলাদেশে আইএস আলকায়দার গন্ধ খোঁজে প্রকৃতপক্ষে ওরা সরকারের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার কাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। সরকার দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করায় বাংলাট্রিবিউনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এই দেশ ৯০% মুসলমানের দেশ। মুমিন মুসলমানগণ বিশ্বনবী সা. কে নিজের প্রাণের চাইতেও বেশি মুহাব্বত করেন। নবীজির অপমানের পর কোন খাটি মুমিন মুসলমান ঘরে বসে থাকতে পারে না। ৯০% মুসলমানের দেশে নবীজি অবমাননার প্রতিবাদ হবে,মিছিল মিটিং হবে। এতে কারো গাত্রদাহ হলে নবীপ্রেমিকদের কোন যায় আসেনা।

ফ্রান্সের ঐ কুলাঙ্গাররা আমাদের কলিজার টুকরা নবীজি সা.কে অবমাননা করবে আর নবীপ্রেমিক তৌহিদি জনতা ঐ অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে প্রতীকি অস্ত্র সংবলিত ব্যানার হাতে নিয়ে মিছিল করলেই তারা আইএস আর আলকায়দা হয়ে যাবে;নাস্তিক্যবাদী বাংলাট্রিবিউনের এমন গাঁজাখুরি কথা দেশবাসী কস্মিনকালেও মেনে নেবে না।

হাটহাজারীতে হেফাজতের মিছিলে ব্যবহৃত হাদীস ও কালিমায়ে তৈয়্যিবা সংবলিত ব্যানার নিয়ে হলুদ মিডিয়া আর নাস্তিক্যবাদীরা ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা করলে তৌহিদি জনতা সমুচিত জবাব দিতে বাধ্য হবে। এই ব্যানারকে ইস্যু করে আইএস আর আলকায়দার নাটক তৈরী করা হলে বা কোন তৌহিদি জনতাকে হয়রানি করা হলে তা দেশবাসী কখনো মেনে নেবে না।

ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ম্যাক্রোকে হত্যা করার’ প্রত্যাশা জানিয়ে বিক্ষোভকারীদের কোন ফেস্টুনে লেখা ছিলো-উই ওয়ান্ট টু কিল ম্যাক্রো’।এটি নিয়েও বাংলাট্রিবিউনের গা-জ্বলেছে। যেই ম্যাক্রো রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সরকারি ভবনের দেয়ালে নবী সা. এর অবমাননাকর কার্টুন প্রদর্শন করছে তাকে হত্যার প্রত্যাশা করাটাও বিশাল দোষের বিষয় হয়ে গেলো? নবীজীর অবমাননায় বাংলাট্রিবিউনের মন কাঁদেনা, মন কাঁদে অবমাননার পৃষ্ঠপোষক ম্যাক্রোর জন্য। বাহ…

ব্যানারের নিচের অংশে তরবারিতে উল্লেখ থাকা একটি হাদিসের অংশকে বাংলাট্রিবিউন”স্লোগানটি আল কায়েদার স্লোগান ছিল” বলে আতংকজনক ভাবে উপস্থাপন করে হাদীসে রাসুলের শানে চরম বেআদবি ও ধৃষ্টতা দেখিয়েছে। এর জন্য বাংলাট্রিবিউনকে ক্ষমা চাইতে হবে। [এইচ.এম. জুনাইদ, শিক্ষার্থী: হাটহাজারী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়। ২৮/১০/২০ বুধবার, বেলা-১:১০ ] সুত্র:jubokantho24

ফেসবুকে লাইক দিন