সরকারকে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ নির্বাচন দেওয়ার দাবি বিএনপির

ইমান২৪.কম: সরকারকে পদত্যাগ করে অবিলম্বে সব নির্বাচন বাতিল করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিএনপি। দেশের সব সংকটের কারণ অবৈধভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকা এই সরকার, এমন দাবি করেছে বিএনপি।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচিতে এ কথা বলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে একটি নির্লজ্জ কমিশন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাবনা-৪, ঢাকা-৫ ও নওগাঁ-৬ আসনের উপনির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে মহানগর ও জেলাপর্যায়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচির অংশ হিসেবে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কর্মসূচি পালন করে বিএনপি।

সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব বলেন, দেশে মহামারি আকার ধারণ করেছে গুম, খুন, ধর্ষণ, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, দুর্নীতি ও লুটপাট। দলটির মহাসচিব বলেন, বিএনপি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ নয়, বরং নির্বাচনী ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র প্রমাণের জন্যই নির্বাচনে অংশ নেয়। সম্প্রতি দেশে হয়ে যাওয়া তিনটি উপনির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ এনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমি আজ স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই পদত্যাগ করুন, অতীতের সব নির্বাচন বাতিল করে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে এবং একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। এটাই একমাত্র সমাধান। কোভিড বলেন আর যাই বলেন, নির্বাচিত সরকার ছাড়া কোনো সমস্যারই সমাধান হবে না।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আজকে আমাদের দুর্ভাগ্য, এখন যে নির্বাচন কমিশন আছে, সেটা একটা ঠুঁটো জগন্নাথ, লজ্জা-শরম বলতে কিছু নাই। ঢাকা শহরের পাশে ১০ ভাগ ভোটও না, আমরা মনে করি পাঁচ ভাগও পড়েনি। বলছে, সন্তষ্ট হয়েছে। একটা মানুষের লজ্জা-শরম-হায়া থাকে, এদের তাও নাই। তারা বলে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে।’ ‘নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই বিএনপি নির্বাচনে গেছে’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কথাটা তো মিথ্যা বলেননি।

নির্বাচন তো প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গেছে ২০১৪ সাল থেকেই। আপনারা ক্ষমতায় আসার পর সুপরিকল্পিতভাবে দেশের মানুষ যাতে পছন্দের মানুষকে ভোট দিতে না পারে, সে ব্যবস্থা করেছেন। ১৫৪ জনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করে ক্ষমতায় গেছেন। রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করেছেন, পুলিশকে ব্যবহার করেছেন। মিডিয়াকে ব্যবহার করেছেন।’ বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এই সরকারের অধীনে দেশ নিরাপদ নয়, দেশের মানুষ নিরাপদ নয়, তার প্রমাণ মা-বোনেরা এখন নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে না।

বিনা বিচারে হত্যা, এখানে তাদের মতের সঙ্গে যারা একমত নয়, তাদের গুম করে নেয় অথবা হত্যা করা হয়। যে পুলিশ মানুষের নিরাপত্তা দেবে, সেই পুলিশ কক্সবাজারে সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করেছে। সেখানে ওসি প্রদীপের নেতৃত্বে ৩৩ জনকে হত্যা করা হয়েছে। মানুষ কোথায় যাবে? যাদের দায়িত্ব জনগণের নিরাপত্তা দেওয়া, তাদের দ্বারাই হত্যাকাণ্ড হচ্ছে।’ যুব-তরুণ ছাত্র সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আসুন, আমরা শপথ গ্রহণ করি। এ দেশের জনগণের অধিকার ভোটের অধিকার, স্বাধীনতার অধিকার ফিরিয়ে আনতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করতে হবে। আজকে কেউ কথা বলতে পারবে না, কেউ লিখতে পারবে না।

সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারবে না। এর চেয়ে বড় নির্যাতন-নিপীড়ন ও স্বাধীনতাহরণ আর কী থাকতে পারে। এরা এখন সম্পূর্ণভাবে একটি কর্তৃত্ববাদী সরকারে পরিণত হয়েছে। একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। ভিন্নকথা বললেই মামলা। বাড়ির মহিলারাও বাদ যায় না, তাদেরও মামলার শিকার হতে হয়। আমি দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে আহ্বান জানাই, আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ফ্যাসিস্ট একদলীয় সরকারকে সরিয়ে একটা জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করি।’

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরো বক্তব্য দেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম মাহতাব, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, মহানগর দক্ষিণের সহসভাপতি ইউনুস মৃধা, সাধারণ সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান, শামসুল হক শামসু, মহানগর উত্তরের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলিম নকি, কৃষক দল নেতা হাসান জাফির তুহিন, তাঁতী দল নেতা কাজী মনিরুজ্জামান মনির প্রমুখ।

ফেসবুকে লাইক দিন