ধর্ষকদের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল দেশের রাজপথ

ইমান২৪.কম: দেশজুড়ে নারী নির্যাতনের ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা। বিক্ষোভ-সমাবেশ-মিছিলে উত্তাল রাজপথ। নোয়াখালীতে গৃহবধূকে নির্যাতনসহ সারাদেশে সংঘটিত ধর্ষণ-নিপীড়নের ঘটনায় বিচারের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন সম্মিলিত ছাত্র-জনতা।

বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিনের বিচারহীনতায় নারী-শিশু ধর্ষণ, নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির ঘটনা বেড়েই চলেছে। এসব ঘটনায় রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় থাকা লোকজন জড়িত। নোয়াখালীর ওই ঘটনা ৩২ দিন আগের। এতদিন রাষ্ট্র, এই সরকার কী করেছে? এভাবে আর চলতে পারে না।

এবার রাস্তায় নেমে আসতে হবে। সোমবার (৫ অক্টোবর) বেলা ১১টায় বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ ও প্রগতিশীল ছাত্রজোটের আহ্বানে গণঅবস্থান কর্মসূচির ডাক দিয়ে শাহবাগ ও জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান নেন তারা।

জাতীয় জাদুঘরের সামনে ও শাহবাগ মোড় অবরোধ করে স্লোগান দিচ্ছেন আন্দোলনকারীরা। জাতীয় জাদুঘরের সামনে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সমাবেশে নেত্রকোনার নেত্রী মাকসুরা আক্তার বলেন, ‘রাস্তায় নেমে আসতে হবে।

সরকারকে জানান দিতে হবে এভাবে আর চলতে পারে না। এই সরকারের কাছে মা-বোন সুরক্ষা পাচ্ছে না। কেন আমার মা-বোনরা একে একে ধর্ষণের শিকার হচ্ছে, শ্লীলতাহানির শিকার হচ্ছে। ধিক্কার ধিক্কার এই সরকারকে।’

এ সময় ‘এই ধর্ষক রাষ্ট্র, এই ধর্ষক সরকার চাই না’, ‘যে সরকার ছাত্রলীগ, যুবলীগ পালে সেই সরকার চাই না’ স্লোগানে প্রকম্পিত হয় শাহবাগ। বিক্ষোভ সমাবেশে শ্রমিক অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক আব্দুর রহমান বলেন, ‘আমরা ধর্ষিত হয়েছি ২০১৮ সালের নির্বাচনেও।

সে সময় সুবর্ণচরে নারী ধর্ষণের ঘটনার বিচার হয়নি। দীর্ঘদিনের বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে এই রাষ্ট্রে ধর্ষণ-শ্লীলতাহানির বিচার হয় না।’ ছাত্র অধিকার পরিষদ নেতা শহীদুল হক বলেন, ‘প্রতিবারই আমরা বিচারের দাবিতে রাস্তায় নামি, তারপর টনক নড়ে। এবার নোয়াখালীর নারী ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ৩২ দিন আগের। এতদিন কিছুই হয়নি জড়িতদের। যখন বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় আসে, প্রতিবাদ শুরু হলো তখন টনক নড়ল। ধর্ষক গ্রেফতার হলো।

এই গ্রেফতারদের ছবি কাদের সাথে দেখা যায়, সরকারদলীয় লোকজন, স্থানীয় এমপির সাথে। আমরা মানবিক রাষ্ট্র চাই। মা-বোনের সম্ভ্রম রক্ষায় মানবিক পুলিশ চাই।’ তিনি বলেন, ‘এই ক্ষমতা বেশিদিন থাকবে না।

ওয়াদা করছি, গুম-খুন-ধর্ষণের সরকারকে আমরা টেনে নামাব।’ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক তারেক রহমান বলেন, ‘ধর্ষণের প্রোগ্রামে হামলা এর চেয়ে বড় দুঃখজনক আর হতে পারে না। আমরা ধর্ষণের প্রতিবাদ করি আর আমাদের বিভিন্ন মামলা-হামলার হুমকি দেয়। আজ নারায়ণগঞ্জে আমাদের প্রতিবাদ সমাবেশে ১৪৪ ধারা জারি করেছে। যার জন্য সারা বাংলাদেশের এমন কোনো গ্রাম নেই যেখানে কোনো ধর্ষকের বিচরণ নেই।’

ফেসবুকে লাইক দিন