মৃত্যুদণ্ডের রায় শোনার সময় যেমন ছিলেন মিন্নি

ইমান২৪.কম: বরগুনার চাঞ্চল্যকর রিফাত শরীফ হত্যা মামলার রায়ে রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিসহ প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অপর চার আসামিকে অব্যাহতি দিয়েছেন।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন। তবে আলোচিত এই মামলার রায়ে প্রধান সাক্ষী থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি আদালতে রায় ঘোষণার সময় কেমন ছিলেন?

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে আটটার দিকে বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরের সঙ্গে মোটরসাইকেলের পেছনে বসে আদালতে আসেন আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি। মুখে সাদা রঙের সার্জিক্যাল মাস্ক ও সাদা রঙের থ্রি-পিস পরে আদালতে আসেন মিন্নি।

এ সময় তিনি অনেকটা চুপচাপ থাকলেও খালাশ পাওয়ার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন বলে মনে হচ্ছিল। দুপুর দুইটার দিকে বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান যখন রায় পড়া শুরু করেন, তখনও কাঠগড়ায় দাঁড়ানো মিন্নি অনেকটা নির্বিকার অবস্থায় ছিলেন। কিন্তু রায় ঘোষণার পর তাকে অনেকটাই ভেঙে পড়তে দেখা গেছে।

তবে তিনি কান্নাকাটি করেননি। রায় ঘোষণা শেষে মিন্নিকে পুলিশ গ্রেপ্তার দেখিয়ে নিজেদের হেফাজতে নেয়। পরবর্তীতে বিকেল তিনটার দিকে প্রিজনভ্যানে করে মিন্নিকে কারাগারে নেয়ার সময় অনেকটাই ভেঙে পড়তে দেখা যায়। দুইজন মহিলা পুলিশের কাঁধে ধরে তিনি প্রিজনভ্যানে উঠেন। এ সময় মিন্নির চোখে জল না থাকলেও, এই রায়কে অনেক অপ্রত্যাশিত বলেই মনে করছেন তিনি। তবে বাবার সঙ্গে আদালতে আসার পর প্রিজনভ্যানে উঠা অবধি তিনি কোনও কথা বলেননি। পুরো সময়টাই তিনি ভাবলেশহীন ছিলেন।

এ মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, মো. রাকিবুল হাসান ওরফে রিফাত ফরাজী (২৩), আল কাইয়ুম ওরফে রাব্বি আকন (২১), মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত (১৯), রেজোয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয় (২২), মো. হাসান (১৯) ও আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি (১৯)। এছাড়া এ মামলায় চার আসামিকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে।

খালাসপ্রাপ্তরা হলেন- মো. মুসা (২২), রাফিউল ইসলাম রাব্বি (২০), মো. সাগর (১৯) ও কামরুল হাসান সায়মুন (২১)। ২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে শত শত লোকের উপস্থিতিতে স্ত্রীর সামনে রিফাত শরীফকে (২৫) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ভাইরাল হয়।

ঘটনার পরদিন ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও পাঁচ-ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ। ওই বছরের ১ সেপ্টেম্বর ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে প্রাপ্ত ও অপ্রাপ্তবয়স্ক দুইভাগে বিভক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দেয় পুলিশ। এর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জন এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ জনকে আসামি করা হয়। মামলার চার্জশিটভুক্ত প্রাপ্তবয়স্ক আসামি মো. মুসা এখনও পলাতক।

ফেসবুকে লাইক দিন