উসমানী খেলাফতের যুগে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছে তুরস্ক: ইউরোপের অভিযোগ

ইমান২৪.কম: আজিয়ান সাগর এলাকায় তুরস্কের তেল গ্যাস অনুসন্ধান অভিযানকে কেন্দ্র করে তুরস্ক ও গ্রিসের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এমনকি দুই দেশ সামরিক প্রস্তুতিও নিচ্ছে। এদিকে ইউরোপও তুরস্কের তীব্র সমালোচনা করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান জোসেফ বোরেল অভিযোগ করেছেন, তুরস্ক সরকার সাবেক সাম্রাজ্যের যুগে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

অর্থাৎ তুরস্ক সর্বশেষ ইসলামী খেলাফত বা উসমানীয় খেলাফত ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে বলে তিনি মনে করেন। পূর্বভূমধ্য সাগরে তুরস্কের সাম্প্রতিক তৎপরতার কথা উল্লেখ করে আঙ্কারা বিরোধী দাবি তোলেন তিনি। তার দাবি এরদোগানকে থামাতে হলে তুরস্কের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়াই একমাত্র পথ।

এদিকে, ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন এইয়ু লুদ্রিয়ান বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের আসন্ন পার্লামেন্ট অধিবেশনে তুরস্কের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে আলোচনা করা হবে এবং তুরস্কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে ইউরোপের সব দেশ একমত হবে বলে তিনি দাবি করেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তুরস্ক সরকার পূর্বভূমধ্যসাগর ও আজিয়ান সাগর এলাকায় তেল গ্যাস অনুসন্ধানের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে এবং এটাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণের প্রতিবেশী দেশ বিশেষ করে সাইপ্রাস ও গ্রিস তুরস্কের সাথে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

আঙ্কারা স্পষ্ট করে বলে দিয়েছে যে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সর্বশেষ ইসলামী খেলাফত বা উসমানি খেলাফত পতনের কারণে ইউরোপের কাছে তুরস্ক আজিয়ান সাগর ও পূর্বভূমধ্য সাগরে তার বহু দ্বীপ হাতছাড়া করেছে। প্রেসিডেন্ট এরদোগান সম্প্রতি বলেছেন, আঙ্কারা চায় না তুরস্কের উপকূলীয় এলাকা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ুক। তিনি বলেন, তুরস্কা পূর্ব ভূমধ্যসাগর ও এজিয়ান সাগরে আন্তর্জাতিক আইন হিসেবে তার পূর্ণ অধিকার রক্ষা করবে।

আঙ্কারা পূর্বভূমধ্য সাগরে আজিয়ান সাগর এলাকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের কাজ শুরু করায় গ্রিস এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন তুরস্কের মুখোমুখি দাড় হয়ে গিয়েছে। গ্রিস দাবি করেছে, তাদের অর্থনৈতিক এলাকায় তুরস্ক সরকার তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের কাজ করছে। যাইহোক, তুরস্ক ও গ্রিস একে অপরের বিরুদ্ধে সীমানা লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলায় দু’দেশের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। এছাড়া গ্রিসের পক্ষ নিয়ে তুরস্কের মুখোমুখি অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান বলেছেন, ইউনিয়ন গ্রিসের পাশে রয়েছে এবং আমরা তুরস্ককে হুঁশিয়ার করে দিচ্ছি।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, তুরস্ক সরকার সমুদ্রে অধিকার রক্ষায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে তাদের অবস্থানে অটল থাকায় পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাকর হয়ে উঠেছে। তুরস্ক সরকার চাইছে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী আজিয়ান সাগর এলাকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের মাধ্যমে উপকূলবর্তী দ্বীপগুলোর উপর পুনরায় নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নকেও ওই অঞ্চলের উপর আঙ্কারার নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিকে মেনে নিতে বাধ্য করা।

এরইমধ্যে ইউরোপের কোন কোন দেশ গ্রিসের প্রতি কার্যকর সমর্থন দেওয়ার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ শুরু করেছে। ২০১৬ সালে তুরস্কে ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্কে উত্তেজনা চলে আসছে। এ কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নে তুরস্কের অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়াও থেমে আছে। এছাড়া সুন্নি মুসলিম গণহত্যার খলনায়ক ও সিরিয়ার স্বৈরশাসক বাশার আল আসাদের হত্যাকাণ্ড থেকে সুন্নি মুসলিমদের রক্ষা করতে দেশটির উত্তরাঞ্চলে তুরস্কের সামরিক অভিযান এবং লিবিয়া যুদ্ধে জাতিসংঘ স্বীকৃত সরকারের পক্ষে তুরস্কের সামরিক হস্তক্ষেপ ইউরোপ ও তুরস্কের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টির অন্যতম কারণ।

যাইহোক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বর্তমানে তুরস্কের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের চিন্তাভাবনা করছে। তবে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান হুমকি দিয়ে বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে তারাও তুরস্কের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হবে। তিনি আলোচনার টেবিলে আসার জন্য গ্রিসকে আহ্বান জানান। এবং আলোচনার টেবিলে না আসলে গ্রিসকে বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতার জন্য প্রস্তুত থাকতে বললেন এরদোগান। যদিও ব্রাসেলস বিরাজমান উত্তেজনা ও মতপার্থক্য নিরসনের জন্য আঙ্কারার সঙ্গে আলোচনার ওপর জোর দিচ্ছে কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান একচেটিয়াভাবে গ্রিসের পক্ষ নিয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপেরও হুমকি দিয়েছেন।

ফেসবুকে লাইক দিন