আসুন যৌতুককে সম্পুর্ন না বলে দেই…

দারিদ্রতার করাঘাতে হারাতে বসেছে মানুষের মনুষ্যত্ব,বিবেক ও সর্বোপরি ইমান নামক দৌলতটুকু!

গরীবের সংসার, নুন আনতে পান্তা ফুরায় এমন একটি নয় দুটি নয় হাজারো পরিবারের দেখা মিলবে স্বাধীন বাংলার এই স্বপ্নময় ভূমিতে। কিন্তু তবুও যেনো বিত্তবানদের চেয়েও ঢেড় আনন্দময় চাহনী থাকে ওদের চোখে মুখে, কারন ওরাই তো সেই খেটে খাওয়া মানুষ যাদের শ্রমে দেখা মেলে কষ্টের ঘাম।

কিন্তু সমাজে এদেরকে দেয়া হয়না তাদের ন্যায়সঙ্গত মর্যাদা বরং হতে হয় লাঞ্চিত, বঞ্চিত ও অপমানীত।যেনো গরীব হয়ে জন্ম নিয়ে তারা হয়ে গেছে সমাজের বোঝা। সে বোঝাকে কেউ চায় ডাস্টবিনের নর্দমা কিংবা কোন এক খাদের কিনারায় রেখে আসতে। কিন্তু আসলেই কি তাদের পরিনতি এমনই হবার মতো???

আসুন জেনে নিই তারা কেনো হয় লাঞ্চিত, বঞ্চিত কিংবা অপমানিত……

একজন গরীব হতদরিদ্র পিতার সন্তান সন্ততি কম বেশ থাকাটাই স্বাভাবিক, কিংবা সামাজিক অধিকারও বটে। সাংসারিক ভরপোষনের দায়িত্বভারটা তার জন্য বেশিরভাগই দুরুহ হয়ে পরে। আর সেজন্যই তার পরিবারের সন্তানদেরকে তেমন একটা পড়ালেখা করানো সম্ভব হয়না। ফলশ্রুতিতে করতে হয় কল-কারখানায় কিংবা কোন এক জায়গায় পরিশ্রম। কোনমতে কেটে যেতে থাকে দরিদ্র ওই পরিবারটির সংসার।

দিন, মাস, বছর অতিক্রান্ত বা অতিবাহিত হবার সাথে সাথেই দরিদ্র পরিবারটির কপালে চিন্তারেখার ভাঁজ ফেলতে শুরু করে পরিবারের সদ্য কিশোরী হওয়া মেয়েটি। কখনো বখাটেদের উৎপাত, কখনও কোন কোন বিত্তবানদের লোলুপ দৃষ্টি। যে দৃষ্টি এড়ায়না দরিদ্র পিতা-মাতার উদ্বিগ্ন মনকে। খুঁজতে শুরু হয় তার জন্য পাত্র!

গ্রামের মেয়েটির জন্য পাশের গ্রামের একটি ছেলের সন্ধান পাওয়া গেলো। কোনরকম ছোট্টখাট্টো ব্যবসা করে সাথে কিছু পড়াশুনাও করা হয়েছে। ছেলেটিও বিয়ে করতে চায় তার ব্যবসাকে আরেকটু প্রসারীত করতে আর মেয়েটিও চায় বাবার কাঁধের বোঝা কমিয়ে স্বামীর বাড়িতে একটু ঠাঁই নিতে।

ছেলে-মেয়ে উভয় পক্ষের দেখা সাক্ষাৎ পর্ব শেষে উভয়ের সম্মতিতে বিয়ের দিন তারিখ নির্ধারিত হয়। তবে বিপত্তি বাঁধে একটা জায়গায়, আর সেটা হলো ব্যবসার প্রসার ঘটাতে ছেলে চায় কিছু টাকার সাহায্য। সেই সাহায্যের পুরোটাই বহন করতে হবে হতদরিদ্র কন্যার পিতাকে। যে সাহায্যর নাম “যৌতুক” নামক সামাজিক ব্যাধি।

যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকৃতি নয় অপারগতা প্রকাশ করেছে কন্যার বাবা। যিনি একজন দিনমজুর তবুও কথা দেয় পরিশোধ করবে কন্যার যৌতুকের টাকা, আর এই কথার উপরেই বিয়ে হয় তাদের। মোটামুটি কোনরকম চলছিল সব, কিন্তু ছেলের ব্যবসা যেনো চলতেই চাচ্ছিলোনা যৌতুকের টাকা না পাওয়ার কারনে। বিবেক ও মনুষ্যত্ব লোপ পাওয়ার ধাপগুলো অতিক্রম করতে শুরু করলো সাত মাসের অন্তঃসত্তা মেয়েটির আপন করে চাওয়া স্বামীটির।

যৌতুকের টাকার জন্য অত্যাচার শুরু হতে থাকে মেয়েটির উপর। দুর্দশাগ্রস্থ, হতাশার চাদরে নিমজ্জিত দরিদ্র খেটে খাওয়া মানুষটি পারেনি আজও যৌতুকের টাকাগুলো যোগাড় করতে। অমানুষিক অত্যাচার আর নির্যাতনে অবশেষে টিকতেই পারেনি অন্তঃসত্তা মেয়েটি। নির্যাতনের তীব্রতা এতোটাই অসহ্য ছিলো যা সইতে না পেরে মেয়েটিকে অকালে ঢলে পড়তে হলো মৃত্যু নামক না ফেরার দেশে।

হ্যাঁ প্রিয় পাঠকেরা এমন হাজারো কন্যার মৃত্যু অহরহ ঘটছে আমাদের সমাজে। যেখানে যৌতুকের হাতে জিম্মি হয়ে আছে অসংখ্য হতদরিদ্র পিতা-মাতার অসহায় কন্যারা। আমাদের অতি শীঘ্রই সুস্থ সুন্দর সমাজ গড়তে মোকাবেলা করতে হবে যৌতুক নামক ইসলাম বিদ্বেষমুলক কর্মকান্ড থেকে। সমাজ থেকে মুছে দিতে হবে এই ধরনের অন্যায় আবদার ও নির্লজ্জতাকে। যাতে করে আগামির সন্তান ও পরিবার মুক্তি পায় “যৌতুক” নামক সামাজিক ব্যাধি থেকে।

আসুন যৌতুককে সম্পুর্ন না বলে দেই
সমাজ সংষ্কারে ইসলামকে সঙ্গী করে নেই।।

লেখকঃ মু. রবিউল ইসলাম

ফেসবুকে লাইক দিন