আসাদ নূরের গ্রেপ্তার, ৫৭ ধারা ও সর্বধর্মীয় ব্লাসফেমি আইনের প্রয়োজনীয়তা

ইসলামবিদ্বেষী নাস্তিক আসাদ নূরের গ্রেপ্তার ৫৭ ধারায় হয়েছে। তাই এই গ্রেপ্তার উৎসাহমূলক না, বরং এর সুদূরপ্রসারী বিপদ বুঝা জরুরি। কারণ, সাধু ধার্মিক ও আস্তিক হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র ফ্যাসিবাদ ও রাজনৈতিক জুলুমের বিরুদ্ধে কথা বলার অপরাধে এই ধারায় আমাকে আপনাকেও হয়ত কাল-পরশু গ্রেপ্তার করা হতে পারে। এর কোনো গ্যারান্টি নাই।

আসাদ নূরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দুই ধরনের: একটা ধর্মাবমাননা, আরেকটি মুজিব অবমাননা। কিন্তু সরকার কোন্ ধরনের অভিযোগকে ভিত্তি করে গ্রেপ্তার করেছে- সেটা খোদ ৫৭ ধারা অনুযায়ীও নির্ণয় করা যাবে না। কারণ ৫৭ ধারায় বর্ণিত অপরাধগুলো অস্পষ্ট। বস্তুতপক্ষে, এটা একটা কালো আইন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ফ্যাসিবাদী আইন। দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে নিন্দিত ও সমালোচিত। ৫৭ ধারায় ইসলামবিদ্বেষী নাস্তিক আসাদ নূরকে গ্রেপ্তার করার মাধ্যমে এই কালো আইনের প্রতি এই মূহূর্তে সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মপ্রাণ মানুষের একটা সাময়িক নীরব সমর্থন বা সম্মতিমূলক আবেগ তৈরি হবে। এখানেই মূলত সংশয় ও আশঙ্কা, বিপদটা এই জায়গায়।

ধর্মাবমাননার জন্য অবশ্যই আসাদ নূরকে গ্রেপ্তার করা দরকার, এ ব্যাপারে আমার কোনো আপস বা দ্বিমত নেই। কিন্তু গ্রেপ্তার বিষয়টা আইনি ব্যাপার। যেখানে ৫৭ ধারার আইন নিজেই বিতর্কিত ও ব্যাপক সমালোচিত-নিন্দিত, সেখানে সেই ধারায় আসাদ নূরের গ্রেপ্তারটা কেবলই নিবর্তনমূলক। এতে করে ধর্মাবমাননার অপরাধে শাস্তি পাওয়ার পরিবর্তে সে হয়ত রাজনৈতিক জিঘাংসার শিকার হবে মাত্র। মোট কথা, ধর্মাবমাননার অভিযোগে এই আইনের ব্যবহারকে উপযুক্ত বা সঙ্গত মনে করার অবকাশ নেই।

আমাদের মতে, ধর্মাবমাননার জন্য একটা বিশেষ আইন করা দরকার। ইউরোপে এখনো ব্লাসফেমি আইন বলবৎ আছে। ২০০৮ সালে গ্রেট ব্রিটেনের ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে এই আইন রহিত করা হলেও স্কটল্যান্ড ও নর্দান আয়ারল্যান্ডে এখনো বলবৎ রয়েছে। খ্রিস্টধর্মের অবমাননা কিংবা ঈশ্বরাবমাননা ব্লাসফেমি আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। ইউরোপের নয়টা দেশে এখনো ব্লাসফেমি আইন বলবৎ রয়েছে। অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, জার্মানি, গ্রিস, আয়ারল্যান্ড, ইটালি, মাল্টা, নেদারল্যান্ডস এবং পোল্যান্ড। এই দেশগুলোতে এখনো ধর্মাবমাননা/ঈশ্বরাবমাননা/ব্লাসফেমির অভিযোগে প্রায়ই আর্টিস্ট, সংস্কৃতিকর্মী ও অভিনেতারা অভিযুক্ত হয়। এছাড়া বিগত ২০০৯ সালে আয়ারল্যান্ডে ব্লাসফেমি আইনকে সব ধর্মের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য করা হয়েছে।

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে শুধু ইসলাম নয়, সব ধর্মের ও ধর্মাবলম্বীর সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার্থে একটা সর্বধর্মীয় ব্লাসফেমি আইন করা অনিবার্য হয়ে পড়েছে। -তারেকুল ইসলাম

ফেসবুকে লাইক দিন