আশপাশে সব পুড়ে ছাই : অলৌকিক ভাবে অক্ষত মসজিদ

ইমান২৪.কম: পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টা শাহী জামে মসজিদ। গতকাল বুধবার রাতে আগুনের সূত্রপাত মসজিদের মূল গেটের সামনে থেকেই। খুব সরু চার রাস্তার মোড়। ডান পাশে বাড়ি, বাঁ পাশে বাড়ি। পেছনে গলি আর বাড়ি।

মসজিদের চারপাশের ৩০০ হাত এলাকার সব বাড়ি, দোকান ও অন্যান্য স্থাপনা পুড়ে ছাই। কঙ্কাল হয়ে দাঁড়িয়ে আগুনে পুড়ে যাওয়ার সাক্ষ্য দিচ্ছে সুউচ্চ ভবনগুলোও।

এর মধ্যে ব্যতিক্রম শুধু চুড়িহাট্টা জামে মসজিদ। জনমনে গভীর বিস্ময় জাগিয়ে মসজিদটি অক্ষত অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে।

কৌতূহলী মানুষ আসছে, আর মসজিদটি দেখছে। কেউ কেউ বলছে, ‘এ মহান আল্লাহর অপার রহস্য।’

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ মসজিদের নিচ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয় একটি পিকআপ ভ্যান গাড়িতে থাকা সিলিন্ডার গ্যাস থেকে।

যা পরে বিস্ফোরণ হয়ে বিদ্যুতের ট্রান্সফরমারে লাগে। সেখান থেকে দোকানে থাকা কেমিক্যালে লেগে যায় আগুন। মুহূর্তের মধ্যেই তা ছড়িয়ে পড়ে পুরো চকবাজারের এ সরু গলিতে। এরপর শুধু হাহাকার, আর্তনাদ আর লাশ। কিন্তু বিস্ময়কর চুড়িহাট্টা মসজিদের তেমন কোনো সমস্যা হয়নি।

এলাকার আবদুর রশিদ জানান, মসজিদের নিচে পিকআপ ভ্যানে থাকা সিলিন্ডার গ্যাস বিস্ফোরণ হয়। সেখান থেকে পুরো চুড়িহাট্টা এলাকায় আগুনের লেলিহান শিখা।

মসজিদের মোতোয়ালি আবদুর রহমান বলেন, এটি একটি বিস্ময়কর ঘট্না। আল্লাহর ঘর আল্লাহ রক্ষা করেছেন। মসজিদের কোনো ক্ষতি হয়নি।

এলাকার বাসিন্দা সেলিম মিয়া বলেন, ‘এটি অবিশ্বাস্য। আল্লাহর অপার করুণা। মসজিদের নিচে থেকেই আগুনের সূত্রপাত। কিন্তু আল্লাহর রহমতে মসজিদের কিছুই হয়নি।

আশপাশে সব পুড়ে ছাই : অলৌকিক ভাবে অক্ষত মসজিদ

চকবাজারের নন্দকুমার সড়কের চুড়িহাট্টায় বুধবার রাতে এই শাহী মসজিদের সামনে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির ট্রান্সফরমার বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। মুহূর্তেই আগুন লাগে জামাল কমিউনিটি সেন্টারে।

আগুনের ভয়াবহতা এত বেশি ছিল যে সে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের চারতলা ওয়াহিদ ম্যানশনে। ভবনটির প্রথম দুইতলায় প্রসাধন সামগ্রী, প্লাস্টিকের দানা ও রাসায়নিক দাহ্য পদার্থের গুদাম থাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের আরো চারটি ভবনে। পাশের কয়েকটি খাবারের হোটেলের গ্যাস সিলিন্ডারেরও বিস্ফোরণ ঘটে।

পুড়ে যায় সড়কে থাকা একটি প্রাইভেট কারসহ কয়েকটি যানবাহন। এ সময় পুড়ে যাওয়া কয়েকটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

প্রায় পাঁচ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস। রাজধানীর প্রায় সবকটা ইউনিট কাজ করে আগুন নেভাতে। খুবই ঘন বসতি এবং রাস্তা সরু হওয়ায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয় ফায়ার সার্ভিসকে।

পাকিস্তানের প্রতি সুর নরম মোদির, এখন আলোচনার বার্তা

পাকিস্তানের প্রতি সুর নরম মোদির

কড়া অবস্থান থেকে সরে এসে ইসলামাবাদকে ফের আলোচনার বার্তাই দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

অথচ গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সামরিক কনভয়ে জঙ্গি হামলার পর পাকিস্তানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেছিলেন, ‘আলোচনার পাট শেষ।’

কিন্তু বুধবার সৌদি যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমনের সঙ্গে বৈঠকের পর সুর কিছুটা নরম করে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘সামগ্রিক আলোচনা যেখানে শুরু হতে পারে, ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে সে রকম পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত হয়েছে দুই দেশ।’

পুলওয়ামার হামলার পরে জইশ-ই-মহম্মদ নেতা মৌলানা মাসুদ আজহারকে জাতিসংঘের জঙ্গি তালিকায় আনার দাবি জানিয়েছিল ভারত। আর ঠিক সে সময়ই পাকিস্তান সফরে গিয়েছিলেন যুবরাজ সালমন। তখন পাকিস্তান-সৌদি যৌথ ঘোষণাপত্রে জাতিসংঘের জঙ্গি তালিকা নিয়ে রাজনীতির অভিযোগ আনা হয়েছিল।

বুধবার সেই ঘোষণাপত্রের উল্টো পথে হেঁটেছেন সালমান। সৌদি-ভারত যৌথ বিবৃতিতে বলছে, ‘জঙ্গির পাশাপাশি জঙ্গি সংগঠনকেও জাতিসংঘের নিষিদ্ধ তালিকায় আনার বিষয়টিতে জোর দেওয়া হয়েছে বৈঠকে।’ এই বিবৃতিতে সীমান্তে সন্ত্রাস বন্ধ, জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির আর্থিক সাহায্য বন্ধ করা, সবই রয়েছে বিবৃতিতে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক গোপন সূত্রের বরাত দিয়ে ‘আনন্দবাজার’ পত্রিকাটি বলছে, সৌদি যুবরাজের সঙ্গে বৈঠকের পরে এ কথা স্পষ্ট যে, পুলওয়ামা-পরবর্তী পরিস্থতি সামলাতে কূটনৈতিক পথেই হাঁটছে দিল্লি।

পাকিস্তানের প্রতি সুর নরম মোদির, এখন আলোচনার বার্তা

সৌদি আরব পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তাই সে দেশের নেতৃত্বকে পাশে রেখে বার্তা দেওয়া হয়েছে ইসলামাবাদকে। বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের মে থেকে পাকিস্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনে মোদি যে ব্যক্তিগত ভাবে উদ্যোগী হয়েছিলেন,তার প্রশংসা করেছেন সালমন।

যদিও এতদিন ধরে সাউথ ব্লকের অবস্থান ছিলো, ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে তৃতীয় রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না । কিন্তু সৌদি আরবের সঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে পাকিস্তান প্রসঙ্গে সেই অবস্থান থেকে সরে এল নরেন্দ্র মোদির সরকার।

যদিও ওই বৈঠকে পুলওয়ামার হামলা এবং পাকিস্তানের মাটিতে জঙ্গিদের আবাস গড়ে ওঠা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য ও প্রমাণ তার সামনে হাজির করেছে দিল্লি।

সৌদি যুবরাজ বলেন, ‘আমাদের দু’দেশের একটি সাধারণ উদ্বেগ হল সন্ত্রাসবাদ এবং মৌলবাদ। ভারত এবং প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে আমরা সহযোগিতা করব, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিরাপদ থাকে। এ ব্যাপারে ভারতের ভূমিকাকে আমরা সমর্থন করি।’

তিনি জানান, সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামো ধ্বংস করা এবং জঙ্গি সংগঠনগুলির অর্থের জোগান বন্ধ করতে দু’দেশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় হবে। খুব শীঘ্রই শুরু হবে যৌথ নৌ-মহড়াও।

পাকিস্তানের নাম না-করে মোদি বলেন, ‘যে সব দেশ সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করছে, তাদের উপরে চাপ তৈরি করা হবে। যুবশক্তি যাতে বন্দুক হাতে না-তোলে, তা নিশ্চিত করতে হবে।’

যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ভারত এবং সৌদি আরব সন্ত্রাসকে কোনও বিশেষ জাতি বা সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত করার বিরোধী।

কূটনীতিকদের অভিমত, মোদি এই বিবৃতিতে পাকিস্তানকে পরোক্ষভাবে আলোচনার বার্তাই দিলেন।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও আলোচনার মাধ্যমে ভারত-পাক সমস্যা মেটানোর কথা বলেছেন।

আরও পড়ুন:  পাক-ভারত সীমান্তে গোলাগুলি : মর্টার শেল ও ভারী গোলাবর্ষণ

চুপ করে বসে থাকবো না, পাল্টা হামলা চালাব: ইমরান খান

হামলার জবাব দিতে কতটুকু প্রস্তুত ভারতের সেনাবাহিনী?

ভারত-পাকিস্তান সিমান্ত রণসাজে সজ্জিত, ৬০০ ট্যাংক পাঠালো পাকিস্তান

আবারও ব্যাপক সংঘর্ষ কাশ্মীরে, ভারতীয় বাহিনীর মেজর-সহ নিহত ৫

জাপানি নারীর ইসলাম গ্রহণের হৃদয়বিধারক ঘটনা ও পর্দার প্রতি সন্মান

ফেসবুকে লাইক দিন