আলেমদের বাধা উপেক্ষা করে হিন্দুদের বাড়িঘর ঘেরাও করলো আবেগী জনতা

ইমান২৪.কম: সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক ও ইসলাম ধর্মীয় বিষয়ে অশালীন পোস্ট করার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গ্রেফতার যুবকের নাম ঝুমন দাস আপন (২৪)। তিনি সুনামগঞ্জের শাল্লা থানার হবিবপুর ইউনিয়নের নোয়াপাড়া গ্রামের গুপেন্দ্র দাসের ছেলে। মঙ্গলবার রাত ১১টায় শাল্লার শাঁসকাই বাজারে তাকে আটক করে গ্রামবাসী। পরে তাকে শাল্লা থানার পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

গ্রেপ্তারের পর পরই এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হক বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করার কারণে সাধারণ মানুষের মাঝে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। যে কারণে অভিযুক্ত ঝুমন দাস আপনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে প্রশাসনের এ আশ্বাস সত্ত্বেও স্থানীয় কিছু আবেগী জনতা আজ বুধবার (১৭ মার্চ) সকালে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার হবিবপুর ইউনিয়নের হিন্দু অধ্যুষিত গ্রাম নোয়াপাড়া ঘেরাও করে রাখে। পাশাপাশি আবেগের তাড়নায় কিছু ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে বলেও জানা যায়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও শাল্লার তারাপাশা মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা এস উমেদ আলী আওয়ার ইসলামকে জানান, আজ সকালে স্থানীয় কিছু মানুষ কে বা কার নির্দেশে নোয়াগাও গ্রাম ঘেরাও করে এবং ভাঙ্চুর চালায়। এ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ওলামায়ে কেরামের কোনো সম্পর্ক নেই। তাদেরকে ওলামায়ে কেরাম বিভিন্নভাবে বাধা দিতে চেয়েছেন কিন্তু তারা তাদের কথা শুনেনি। শেষ পর্যায়ে ওলামায়ে কেরাম ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপেই পরিস্থিতি শান্ত হয়।

তিনি বলেন, আমরা এ এলাকায় হিন্দু মুসলমান মিলেমিশে বসবাস করি। একজনের বিপদের অপরজন এগিয়ে আসি। গতকাল এক বিপদগামী যুবক যে কাজটি করেছে; তা ছিল বিচ্ছিন্ন একটি ঘটনা। এর সঙ্গে স্থানীয় হিন্দু ধর্মালম্বীদের কোনো সম্পর্ক নেই। এরপরও কিছু আবেগী জনতা আজকের অপ্রীতিকর কাজটি করে। তবে এখন পরিস্থিতি শান্ত। উপজেলা থেকে প্রশাসন এসেছে। বৈঠক করেছে। সবাইকে সঠিক বিচারের আশ্বাস দিয়েছে।

পরিস্থিতি শান্ত করতে ইতোমধ্যেই সুনামগঞ্জ শাল্লা উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্টেট মােঃ আল-মুক্তাদির হােসেন স্বাক্ষরিত একটি গণ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। এতে বলা হয়, ‘হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগর কমিটির সম্পাদক জনাব মামুনুল হক কে নিয়ে ফেসবুকে কটুক্তি করায় সুনামগঞ্জ জেলাধীন শাল্লা উপজেলার হবিবপুর ইউনিয়নের নােয়াগীও গ্রামের কুমন দাস আপন (২৮) কে দ্রুততম সময়ে গ্রেফতার করে আইনের হাতে সােপর্দ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শাল্লাবাসীকে কোন রকম বিয়ে, প্রতিহিংসা, উস্কানিমূলক কর্মকান্ড এবং অপপ্রচার ও গজব থেকে বিরত থেকে ধৈর্য্যধারণসহ শান্তি শৃংখলা বজায় রাখার জন্য বিনীত অনুরােধ করা হলাে।’

পুলিশ জানান, সোমবার (১৫ মার্চ) সুনামগঞ্জের দিরাই শানে রিসালাত সম্মেলনে লক্ষাধিক মানুষের সামনে বক্তব্য রাখেন মামুনুল হকসহ হেফাজত ইসলামের নেতৃবৃন্দ। সেই সূত্রধরে ঝুমন দাস আপন তার ফেসবুক আইডি থেকে মাওলানা মামুনুল হককে কটাক্ষ করে একটি পোস্ট দেন। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) ওই যুবককে পুলিশে দেন স্থানীয়রা। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয় নোয়াপাড়া গ্রামে। তবে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে।

ফেসবুকে লাইক দিন