আমেরিকা ও ন্যাটোর জন্য উচিত শিক্ষা হোক আফগানিস্তান

ইমান২৪.কম: কয়েক বছর ধরে আমেরিকার ‘অন্তহীন যুদ্ধ’ শেষ করার কথা বলে আসছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সবচেয়ে বড় যুদ্ধ চলছে আফগানিস্তানে। অক্টোবরে ২০ বছরে প্রবেশ করবে এই যুদ্ধ। করদাতাদের এই যুদ্ধের জন্য ২ ট্রিলিয়ন ডলার দিতে হয়েছে।

২৩০০ এর বেশি মার্কিন সেনা এখানে তালেবানের হাতে প্রাণ হারিয়েছে। অক্টোবরের মধ্যে আফগানিস্তানে মার্কিন সেনার সংখ্যা ৮৬০০ থেকে কমিয়ে ৪৫০০তে নিতে বলেছেন ট্রাম্প। ন্যাটো মিত্রদের সাথে কথা না বলেই সেনা প্রত্যাহার জারি রেখেছেন তিনি।

অন্যদিকে তালেবানদের সাথে আলোচনার প্রচেষ্টা চলছে, যাদেরকে একসময় আমেরিকার শত্রু ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। মিশনের আসল লক্ষ্য ছিল আল কায়েদার উপর হামলা করা। আফগানিস্তানে তাদের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পগুলো ধ্বংস করা, ক্ষমতাসীন তালেবানরা যাদের অনুমতি দিয়েছিল। ২০০১ সালের শেষ দিকে ন্যাটোর নেতৃত্বে ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাসিস্ট্যান্স ফোর্স গঠিত হয়।

২০০২ সালে সেখানে সেনা পাঠায় জার্মানি। তৎকালিন জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সোশাল ডেমোক্র্যাট দলের পিটার স্ট্রাক ২০০২ সালের ডিসেম্বরে যেন নতুন সামরিক নীতি ঘোষণা করেন: “হিন্দুকুশ এলাকায় জার্মানির নিরাপত্তা সুরক্ষিত হচ্ছে”।

ব্যর্থ মিশন: অভিযানের ১০ বছর পূর্তিতে মিত্তেলডাচ জিতুংকে দেয়া সাক্ষাতকারে সাবেক বান্দেসোয়ের ইন্সপেক্টর জেনারেল হারাল্ড কুজাত বলেছিলেন, জার্মানরা মূলত আফগানিস্তানে গেছে মার্কিনদের সাথে সংহতি জানাতে।

“কিন্তু আমরা যদি সে দেশে স্থিতিশীলতা আনার দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করি, তাহলে আমাদের মিশন ব্যর্থ হয়েছে”। এই পর্যালোচনা এখনও সত্যিই রয়েছে। সোশাল ডেমোক্র্যাট পার্লামেন্টারি গ্রুপের প্রতিরক্ষা নীতি স্পিকার ফ্রিটজ ফেলজেনট্রু আগস্ট মাসে বলেছিলেন যে, আফগানিস্তান ‘গণতান্ত্রিক দেশ’ হয়নি। মিশনে বিভিন্ন অপকর্মের ব্যাপারে বান্দেসোয়ের কর্মকর্তাদের রিপোর্টের ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন: “আফগানিস্তানে মানবাধিকার লঙ্ঘন আর সরকারসহ সব জায়গায় ব্যাপক দুর্নীতির বিষয়টি এখন আর কোন খবর নয়”।

উচ্চ পর্যায়ের কেউ তার সেই মন্তব্যের জবাব দেয়নি। এখন পশ্চিমা সেনাদের ধীরে ধীরে প্রত্যাহারের অর্থ হলো তাদেরকে পরিত্যাগ করে আসা।

জার্মানির ট্রাজিক ক্ষতি: ন্যাটো মিশনে অংশ নিয়ে জার্মানিকে উচ্চমূল্য দিতে হয়েছে: আফগানিস্তানে প্রায় ৬০ বান্দেসোয়ের সেনা নিহত হয়েছে। অর্থ ব্যয় হয়েছে প্রায় ১২ থেকে ১৬ বিলিয়ন ইউরো। আফগানিস্তান থেকে পাওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাটা একটা মৌলিক শিক্ষা: সেখানে ইউরোপিয় স্টাইলের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা একেবারে অবাস্তব। এই শিক্ষাটা আফগানিস্তানের বাইরে কাজে দেবে।

আফগানিস্তানে হামলা চালানোর দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে ২০০৩ সালের মার্চে ইরাকেও একই ধরনের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে ও তথাকথিত অস্ত্র মজুদের অযুহাতে সামরিক অভিযান শুরু করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশ। এর পরিণতি এখন সবারই জানা। সিরিয়ার প্রসঙ্গেও গৃহযুদ্ধের অবসান আর ইউরোপিয় স্টাইলের কথিত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যুক্তিগুলো বহুবার দাবি করা হয়েছে। লিবিয়ার ক্ষেত্রেও সেটা হয়েছে। কিন্তু তাদের এই মিশন ব্যর্থ হয়েছে। আফগান হয়ে উঠুক আমেরিকা ও ন্যাটোর জন্য উচিত শিক্ষা।

ফেসবুকে লাইক দিন