আমি কিন্তু বালিশের নিচে পিস্তল রেখে ঘুমাতাম: ভিকারুননিসার প্রিন্সিপালের ফোনালাপ ফাঁস

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের (ভিএনএসসি) অধ্যক্ষ কামরুন নাহার (মুকুল) ও এক অভিভাবকের মধ্যকার ফাঁস হওয়া ফোনালাপ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। কথা বলার একপর্যায়ে অধ্যক্ষ ওই অভিভাবককে বলেন, ‘আমি বালিশের নিচে পিস্তল রাখি। কোনো … বাচ্চা যদি আমার পেছনে লাগে আমি কিন্তু ওর পেছনে লাগব, আমি শুধু ভিকারুননিসা না আমি দেশছাড়া করব।’

ফাঁস হওয়া এই অডিও কথোপকথনকে ভিএনএসসির দীর্ঘদিনের সুনাম ও ঐতিহ্যের ওপর আঘাত বলে মন্তব্য করেছেন প্রতিষ্ঠানটির অনেক শিক্ষক, অভিভাবক, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। এ প্রসঙ্গে গভর্নিং বোর্ডের একাধিক সদস্য বলেন, এই অধ্যক্ষ এ বছরের প্রথম দিন যোগদান করেন। এরপর থেকেই তিনি প্রতিষ্ঠানে আসেননি বললেই চলে। কেউ যদি তাকে প্রতিষ্ঠানে আসার বিষয়ে অনুরোধ করেন, তিনি (কামরুন নাহার) সবাইকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। তিনি শুধু শিক্ষক নন, বড় রাজনীতিক এবং ছাত্রলীগ, যুবলীগ, মন্ত্রী, সচিবালয় এবং সরকারের শীর্ষপর্যায় পর্যন্ত তার পক্ষে আছে বলেও দাবি করেন।

গভর্নিং বডির নির্বাচিত সদস্য সিদ্দিকী নাসির উদ্দিন (মাধ্যমিক) গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এ বছরের জানুয়ারির প্রথম দিন যোগদান করেছেন কামরুন নাহার। তিনি শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠানবিমুখ। করোনাকালে অনেক শিক্ষার্থীর বাবা-মা এবং অভিভাবক মারা গেছেন। অনেক শিক্ষার্থী আছে কেউ ফুল ফ্রি বা হাফ ফ্রির আবেদন করে। সেগুলোর কোনো সুরাহা করতে অভিভাবকরা অধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। গত ছয় মাসে অধ্যক্ষ কোনো প্ল্যান করেননি।

অভিভাবকরা আমাদের কাছে নানা দাবি-দাওয়া নিয়ে আসে। আমরা অধ্যক্ষকে বললে তিনি খারাপ ব্যবহার করেন। এর আগে তিনি অনেকের সঙ্গেই খারাপ ব্যবহার করেছেন। আমরা বিষয়টি গভর্নিং বোর্ডের সভাপতি ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার খলিলুর রহমানকে জানিয়েছি। তিনি বলেছেন, অডিওটি নিয়ে শিক্ষা সচিবের সঙ্গে কথা বলবেন। সভাপতি যা বলবেন আমরা তাই মেনে নেব।’

অভিভাবক আতিকুর রহমান দর্জী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ভিকারুননিসা নূন স্কুলের মতো স্বনামধন্য একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের ভাষা এটা হতে পারে না। আমরা সাধারণ অভিভাবকরা অডিওতে তার ভাষা শুনে খুবই মর্মাহত। তিনি যেভাবে যুবলীগ-ছাত্রলীগ আর মন্ত্রী-সচিবের নামে হুমকি দিয়েছেন, এতে আমরা যারা আওয়ামী লীগকে সমর্থন করি তারা চরমভাবে বিব্রত।’

মীর সাহাবুদ্দিন টিপুর তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গত ১০ জুন কামরুন নাহারের সঙ্গে আমার কথা হয়। কিছুক্ষণ ভালোভাবে কথা বলার পরই অধ্যক্ষ এভাবে কথা বলতে শুরু করেন। এর কয়েক দিন পর অধ্যক্ষ নিজেই ১৫ বারের বেশি আমাকে ফোন করেন। তিনি আমাকে প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে অথবা তার বাসায় দেখা করতে বলেন। দুই খানেই সিসিটিভি ক্যামেরা আছে এবং কী থেকে কী হয়, এই ভেবে আমি অপারগতা প্রকাশ করি। কারণ এমনিতেই সবাই বলে আমি আপনাকে শেল্টার দিই। তখন তিনি আমাকে বলেন, তাহলে অন্য কোনো জায়গায় দেখা করি। এরপর অফিসার্স ক্লাবে তার সঙ্গে দেখা হয়।’

যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘গভর্নিং বডির কয়েকজন সদস্য ভর্তিবাণিজ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে মুকুলকে (কামরুন নাহার) মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছে। তাকে তারা অনেক হুমকিধমকি দিয়েছে। মুকুল আমাদের সবাইকে বলেছে। মন্ত্রণালয়েও সে বলেছে। সে ভিকারুননিসায় থাকতে চায় না। তাকে অনেক উত্তেজিত করে এই অডিও নিয়েছে। সেটাও সুপার এডিট করেছে বলে জানি। সে অনেক অসুস্থ। রমজানের সময় তার হার্টে তিন-চারটি রিং পরানো হয়েছে। কেন এই অডিও বের হয়েছে সেটাও বের করা দরকার। তবে আমি অডিওটি শুনিনি।’

গভর্নিং বডির সভাপতি ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার খলিলুর রহমান বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি কিছু বলব না। প্রিন্সিপালকে জিজ্ঞাসা করুন।’

ফেসবুকে লাইক দিন