আমাদের সময়ের বরকত নষ্ট হয়ে গেছে: ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ

ইমান২৪.কম: সময়ের বরকত নষ্ট হয়ে গেছে, সময়ের ঠিকানা আমরা হারিয়ে ফেলেছি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্রান্ড ইমাম, ফিদায়ে মিল্লাত সাইয়্যেদ আসআদ মাদানী (রহ.) এর খলীফা, শাইখুল হাদীস ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।

তিনি বলেন, বর্তমানে আমরা কাজ করার জন্য সময় খোঁজে পাই না। সময় তো কমেনি। সময় সময়ের জায়গাতেই আছে, কিন্তু এর বরকত নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা সময়ের ঠিকানা হারিয়ে ফেলেছি। শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর খিলগাঁও ইকরা বাংলাদেশ জামে মসজিদ কমপ্লেক্সে জুমার বয়ানে ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ এসব কথা বলেন।

বৈশ্বিক মহামারী করোনার ভেতর দিয়ে বছর পার হয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দ্রুতলয়ে পার হয়ে যাচ্ছে দিন। করোনার ভেতর দিয়ে চলে গেল গোটা একটা বছর। গত রমযান করোনার ভেতরে কেটেছে আর এখন দোরগোড়ায় শবে মেরাজ। এত তাড়াতাড়ি সময় কেন চলে যাচ্ছে? কারণ আমরা সময়ের বরকত হারিয়ে ফেলেছি।

মাসঊদ বলেন, সময় কমেনি, এর বরকত নষ্ট হয়ে গেছে। আমাদের বুযুর্গানে দ্বীন অল্প সময়ের মধ্যে অনেক কাজ করে ফেলতেন। কারণ তাদের সময়ে খুব বরকত ছিল। একেকজন ১০০ খন্ড ২০০ খন্ডের কিতাব লিখেছেন। একেক খন্ডের পৃষ্ঠা সংখ্যা ৫০০ থেকে এক হাজার। এতো সময় কোথায় পেয়েছেন তারা। আমাদের তো সেগুলো পড়ার-ই সময় নাই লেখা তো দূরের কথা। সুয়ূতী একলাই যত কিতাব লিখেছেন একজনের পক্ষে সারাজীবনে তা পড়ে শেষ করা সম্ভব না। এরকম সেরেফ একজন নয়, ইসলামের ইতিহাসে হাজারো মুহাদ্দিস-মুফাসসির ছিলেন। এরা তো দূরের মানুষ নিকট অতীতের থানভী রহ. তিনি যে পরিমাণ লিখেছেন; শুধু লেখা-ই নয় উপমহাদেশের মুসলমানদের জন্য কাজও করে গেছেন প্রচুর। আমার এই সময়ে যা কল্পনাও করতে পারি না।

আমরা সময়ের ঠিকানা হারিয়ে ফেলেছি জানিয়ে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান বলেন, সারা ভারতবর্ষে ইসলামের বিজয় সূচনা করেছেন মুহাম্মদ বিন কাসেম মাত্র ১৭-১৮ বছর বয়সে। সারা ভারত বর্ষে মোঘলদের অবস্থান শক্তিশালী করেছেন বাদশাহ আকবর মাত্র ১৪ বছর বয়সে। ইমাম বুখারি কয়েক লক্ষ হাদিস মুখস্থ করেছেন যখন তার দাড়ি-গোফও গজায় নি। সে সময়গুলো গেল কোথায়। আমরা সময়ের ঠিকানা হারিয়ে ফেলেছি।

গুনাহ সব সর্বনাশের মূল উল্লেখ করে তিনি বলেন, অল্প সময়ে বেশি কাজ করা ছিল সময়ের বরকত। আমার সেটা হারিয়ে ফেলেছি গুনাহের কারণে। মানুষ গুনাহে লিপ্ত হলে আল্লাহর সর্বপ্রথম আযাব হল, সময়ের বরকত নষ্ট হয়ে যাওয়া, শারীরিক সুস্থ্যতা নষ্ট হয়ে যাওয়া, কামাইয়ের বরকত নষ্ট হয়ে যাওয়া। বর্তমানে লক্ষ্য করে দেখেন কী অবস্থা বিরাজ করছে সর্বত্র। এইসব কিছুর মূলে আমার আপনার গুনাহ।

শাইখুল হাদীস বলেন, আগে মানুষের আয় রোজগার কম ছিল। অভাব ছিল না আমি বলব না, কিন্তু অভাববোধ ছিল না কোনো। খাই খাই মনোভাব ছিল না, নাই নাই বোধ ছিল না। এখন মানুষের রোজগার-টাকা বাড়ছে, কিন্তু খাই খাই আর নাই নাই মনোভাবও বাড়ছে। একদিনে এক কোটি কামানো লোকটিরও খাই খাই মনোভাব। এসব কেন? গুনাহের কারণে আল্লাহ রোজগারের বরকত কমিয়ে দিয়েছেন।

করোনা মহামারীকে আল্লাহর সতর্কীকরণ জানিয়ে মাসঊদ আরও বলেন, গুনাহের ভেতর গলা পর্যন্ত ডুবে থাকা বান্দার হুশ ফিরিয়ে আনার জন্য আল্লাহ তায়ালা বার বার ঝাঁকুনি দিচ্ছেন। করোনার এই বিশ্বব্যাপী এক ঝাঁকুনি দিয়ে আমাদের হুশ ফিরিয়ে আনতে চাচ্ছেন। বান্দাকে তাঁর কাছে ফিরতে বলছেন। তাঁকে ডেকে, তাঁর কাছে গিয়ে মাফ চাইতে ক্ষমা চাইতে বলছেন।

আল্লাহর কাছে সবাইকে ফেরার আহ্বান জানিয়ে ফিদায়ে মিল্লাত (রহ.) এর খলিফা বলেন, দোড়গোড়ায় এসে গেছে শবে মেরাজ। রজব-শাবান-রমযান এই তিন মাস আল্লাহকে ডাকার মাস। তাঁর কাছে ফেরার মাস। আল্লাহ ডাকছেন, ‘আইসো বান্দা আইসো, আমার কাছে ফিরে আইসো’। চলুন আল্লাহর কাছে ফিরে যাই। তাঁর কাছে ক্ষমা-মাফি চেয়ে গুনাহের আবর্জনা থেকে নিজেকে নির্মল ও শুদ্ধ করে তুলি।

ফেসবুকে লাইক দিন