আমরা আগ্রাসী নই কিন্তু আক্রান্ত হলে পিছপাও হই না আল্লাহর রহমাতে!

ইমান২৪.কম: মুফতী লুৎফুর রহমান ফরায়েজী: এবার রাজারবাগীঃ আমরা আগ্রাসী নই কিন্তু আক্রান্ত হলে পিছপাও হই না আল্লাহর রহমাতে!
লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা থানা। আর্থিক দারিদ্রতার সাথে সাথে যেখানে ধর্মীয় দৈন্যতাও প্রকট। খৃষ্টান মিশনারীসহ বিত্তশালী এনজিওগুলো যেখানে মানুষের ঈমান ও আমল নিয়ে খেলছে নানা খেল।
সেখানে হঠাৎ উদয় হল রাজারবাগের এক ভয়ানক ভক্ত। কেতকিবাড়ী ঈদগাহ মাঠের ইমাম সাহেব মিলাদ কিয়াম বিষয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেই ক্ষান্ত হলেন না, বরং বাহাসের চ্যালেঞ্জ করে বসেন।
চ্যালেঞ্জকারীর নাম- হাফেজ মুহাম্মদ নূরুন্নবী খন্দকার [রাজারবাগের ভক্ত]
ও হাফেজ মুহাম্মদ আতীকুর রহমান [রাজারবাগীর পীর ভক্ত]
আহলে হক উলামাগণের পক্ষ থেকে চ্যালেঞ্জ গ্রহণকারী- মুফতী ফজলুল করীম শাহরিয়ার ও মুফতী আব্দুর রহীম।
স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতিক্রমে বাহাসের তারিখও নির্ধারিত করা হয়েছে।
বাহাসের তারিখঃ ২২ই জুলাই ২০১৯ ঈসাব্দ, রোজ সোমবার সকাল দশটা।
বাহাসের স্থান- লালমনিরহাট জেলার, হাতীবান্ধা থানার সিন্দুর্ণা ইউনিয়ন পরিষদ।
বাহাসের আলোচ্য বিষয়-
১- প্রচলিত মিলাদ কিয়াম বিদআত নাকি সুন্নাত?
২- রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নূরের তৈরী নাকি মাটির তৈরী?
রাজারবাগীদের পক্ষে মুনাজির হিসেবে থাকবেন-
১- মুফতী আবুল খায়ের মুহাম্মদ আযীযুল্লাহ। খতীব তাজ জামে মসজিদ মুহাম্মদপুর ঢাকা।
২- মুফতী মুহাম্মদ ফজলুল হক। কামিল হাদীস ও ফিক্বহ, বিভাগীয় প্রধান উর্দু ফার্সী, মুহাম্মদিয়া জামিয়া শরীফ রাজারবাগ দরবার ঢাকা।
৩- মুফতী আলমগীর হুসাইন। মুহতামিম-মুহাম্মদিয়া জামিয়া শরীফ রাজারবাগ দরবার ঢাকা।
৪- মাওলানা মুহাম্মদ শুয়াইব আহমাদ। গবেষক- মুহাম্মদিয়া জামিয়া শরীফ রাজারবাগ দরবার ঢাকা।
৫- মাওলানা আব্দুল হালিম তাহেরী। প্রধান মুহাদ্দিস- মুহাম্মদিয়া জামিয়া শরীফ রাজারবাগ দরবার ঢাকা।
আহলে হক উলামাগণের পক্ষ মুনাজির হিসেবে থাকবেন-
১- মুফতী মুহাম্মদ শফী কাসেমী। মুফতী ও মুহাদ্দিস- জামিল মাদরাসা বগুড়া।
২- মুফতী লুৎফুর রহমান ফরায়েজী। পরিচালক ও প্রধান মুফতী- মা’হাদুত তালীম ওয়ালবুহুসিল ইসলামিয়া ঢাকা।
৩- মুফতী রেজাউল করীম আবরার। মুফতী- জামিয়া আবু বকর যাত্রাবাড়ী ঢাকা।
উভয় পক্ষের সম্মতিতে একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে ষ্টাম্পসহ প্রশাসনের অনুমতিও হয়ে গেছে। এবার শুধু অপেক্ষার পালা।
রাজারবাগ দরবারের নিজস্ব মুনাজিরদের সাথে হয়তো এটাই সর্বপ্রথম লিখিত ও চূড়ান্ত ফলাফলের দিকে যাওয়া একটি ইলমী বাহাস।
আমরা চাই। হক উন্মোচন ও বাতিলের সংশোধন। শত্রুতা নয় বন্ধুতা, জিঘাংসা নয় ভালবাসা নিয়ে এমন ইলমী মুনাকাশা ও মুবাহাসায় হক পরিস্কার হোক। দূর হোক দূরত্ব ও ফিতনা। কায়েম হোক ভ্রাতৃত্ব ও একতা।
আমরা আশাবাদী এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী সাহেবের মত রাজারবাগী পীরের মুনাজিরগণ পালিয়ে থাকবেন না। যথারীতি উপস্থিত হয়ে নিজেদের হক হবার বা ভুলের মাঝে থাকা প্রমাণ করে উম্মাহকে ফিতনা থেকে রক্ষায় ভূমিকা রাখবেন।
অনুপস্থিত হয়ে কিংবা টালবাহানা করে বাহাস বাতিল করে প্রতারণা ও ধোঁকার আশ্রয় নেবেন না।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সামনে হককে হক হিসেবে উপস্থাপন করে দিন যেন তা মানতে পারি। বাতিলকে বাতিল হিসেবে খুলে দিন, যেন তা থেকে বেঁচে থাকতে পারি। আমীন। 
মুফতী লুৎফুর রহমান ফরায়েজী। পরিচালক ও প্রধান মুফতী- মা’হাদুত তালীম ওয়ালবুহুসিল ইসলামিয়া ঢাকা।
No photo description available.No photo description available.No photo description available.No photo description available.

ফেসবুকে লাইক দিন