আ’বরারের শেষ অভি’মতের সঙ্গে একমত ৩লাখ ৬ হাজা’র মানুষ

ইমান২৪.কম: বুয়েট দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হ’ত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে চলছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা। ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করে শনিবার বিকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন ফাহাদ।

এর জের ধরে রবিবার রাতে শেরেবাংলা হলের নিজের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে তাকে ডেকে নিয়ে ২০১১ নম্বর কক্ষে বেধড়ক পেটানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃ’ত্যু হয়। আবরার ফাহাদকে শিবির সন্দেহে পেটানো হয়েছে।

কিন্তু কেন সন্দেহ করলো? আবরার ফাহাদ সর্বশেষ ফেসবুক পোস্টে পরোক্ষভাবে ভারতের সাথে বাংলাদেশের কয়েকটি চুক্তি নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন। অনেকের মতে এই স্ট্যাটাসের কারণেই আবরারকে পিটিয়ে মারা হয়েছে।

আবরার লিখেছিলেন- ১.৪৭ এ দেশভাগের পর দেশের পশ্চিমাংশে কোন সমুদ্রবন্দর ছিল না। তৎকালীন সরকার ৬ মাসের জন্য কলকাতা বন্দর ব্যবহারের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ করল। কিন্তু দাদারা নিজেদের রাস্তা নিজেদের মাপার পরামর্শ দিছিলো।

বাধ্য হয়ে দুর্ভিক্ষ দমনে উদ্বোধনের আগেই মংলা বন্দর খুলে দেওয়া হয়েছিল। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ ইন্ডিয়াকে সে মংলা বন্দর ব্যবহারের জন্য হাত পাততে হচ্ছে। ২.কাবেরি নদীর পানি ছাড়াছাড়ি নিয়ে কানাড়ি আর তামিলদের কামড়াকামড়ি কয়েকবছর আগে শিরোনাম হয়েছিল।

যে দেশের এক রাজ্যই অন্যকে পানি দিতে চাই না সেখানে আমরা বিনিময় ছাড়া দিনে দেড়লাখ কিউবিক মিটার পানি দিব। ৩.কয়েকবছর আগে নিজেদের সম্পদ রক্ষার দোহাই দিয়ে উত্তরভারত কয়লা-পাথর রপ্তানি বন্ধ করেছে অথচ আমরা তাদের গ্যাস দিব। যেখানে গ্যাসের অভাবে নিজেদের কারখানা বন্ধ করা লাগে সেখানে নিজের সম্পদ দিয়ে বন্ধুর বাতি জ্বালাব।

হয়তো এসুখের খোঁজেই কবি লিখেছেন- “পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি এ জীবন মন সকলি দাও, তার মত সুখ কোথাও কি আছে আপনার কথা ভুলিয়া যাও।” আবরারের সর্বশেষ এই পোস্ট, এই অভিমত লাইক দিয়েছেন ৩ লাখ ৬ হাজার ফেসবুক ব্যবহারকারী মানুষ।

অর্থাৎ আবরারের সর্বশেষ মতামতের সাথে লাইক দিয়ে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। শুধু তাই নয়, পোস্টের স্ক্রিনশট, কপি পোস্ট করেও লাখ লাখ নেটিজেন শেয়ার করছেন। সরাসরি লাইক দিয়েছেন ৩ লাখ ৬ হাজার এবং ৬৫ হাজার শেয়ার হয়েছে।

ফেসবুকে লাইক দিন