‘আফগানিস্তানে শান্তি নিশ্চিত করতে তুরস্ক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’

ইমান২৪.কম: ঈদ উপলক্ষে সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর আফগানিস্তানে খণ্ডযুদ্ধ বেড়ে যাওয়ার পরেও শান্তি প্রতিষ্ঠায় তুরস্কের আন্তরিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন মার্কিন মদদপুষ্ট আফগান সরকার প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি।

শনিবার (২২ মে) কাবুলে ওগুজখান আর্তুগ্রুলের স্থলাভিষিক্ত নতুন তুর্কী রাষ্ট্রদূত জিহাদ এর্গিনাই তার কাগজপত্র হস্তান্তর ও সৌজন্য সাক্ষাতকালে ঘানি এ মনোভাব প্রকাশ করেন।

বিভিন্ন খাতে আফগানিস্তানের সাথে তুরস্কের সম্পর্ক ও সহযোগিতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আফগানিস্তান ওই সম্পর্কগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর এবং শান্তি প্রক্রিয়ায় তুরস্কের আন্তরিক প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়।

এসময় প্রেসিডেন্ট ঘানি কাবুলে নবনিযুক্ত তুর্কী রাষ্ট্রদূতের সফলতা কামনা করেন। আলাপচারিতায় নবনিযুক্ত তুর্কী রাষ্ট্রদূত জিহাদ এর্গিনাই বলেন, আফগানিস্তানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে তুরস্ক তার সহায়তা অব্যাহত রাখার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

জানা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে আফগান ইস্যুতে তুরস্ক গত মাসে একটি উচ্চস্তরের আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলন আয়োজনের দায়দায়িত্ব নিয়েছিলো এবং নির্ধারিত দিনে রাজধানী ইস্তাম্বুলে সম্মেলনটি আয়োজনের জন্য তুরস্ক তাদের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলো।

তবে আফগান তালেবানরা আমেরিকার বিশ্বাসঘাতকতায় প্রস্তাবিত বৈঠকে অংশ নিতে অস্বীকার করলে সম্মেলনটি পিছিয়ে দিতে বাধ্য হয় তুরস্ক। এর পরিবর্তে ২৩ এপ্রিল তুরস্ক, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মাঝে একটি ত্রিপক্ষীয় কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়।

কনফারেন্সে তারা আফগান তালেবানদের আলোচনার টেবিলে ফিরে এসে পুনরায় শান্তি আলোচনা শুরুর বিনীত অনুরোধ জানান বলে জানা যায়।

সফল শান্তি আলোচনার জন্য পূর্বশর্ত হিসাবে অনুকূল পরিবেশ তৈরির কথা উল্লেখ করে তিনটি দেশই তাদের যৌথ বিবৃতিতে টেকসই ও সর্বাঙ্গীণ যুদ্ধবিরতির কথা পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেয় এবং ক্রমবর্ধমান হামলায় নিজেদের হতাশা ব্যক্ত করে। তারা সকলেই শান্তিপূর্ণ ও স্বাধীন-সার্বভৌম সংযুক্ত আফগানিস্তান বিনির্মানে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বলেও জানায়।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি দখলকৃত ফিলিস্তিনে ইহুদিবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের সাম্প্রতিক নির্মম নৃশংসতাকে সমর্থন দেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন দোহা চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে আফগানিস্তান থেকে সম্পূর্ণভাবে সেনা প্রত্যাহারে গড়িমসি শুরু করেন এবং এর ফলে দু’দুটো শান্তি সম্মেলন নিষ্ফলভাবেই শেষ হয়।

সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়া মার্কিনীরা যখন গত এপ্রিলে সেনা প্রত্যাহারের চূড়ান্ত তারিখও লঙ্ঘন করে তখন ইস্তাম্বুল শান্তি সম্মেলনই বয়কট করে বসে আফগান তালেবান। যা ছিলো আফগান তালেবানদের সাথে তাদের তৃতীয় শান্তি সম্মেলন।

সর্বশেষ মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আগামী সেপ্টেম্বরকে আফগান থেকে সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহারের চূড়ান্ত সময় হিসাবে নির্ধারণ করে শান্তি প্রক্রিয়াকে আরো বিলম্বিত করলে আফগানিস্তানে মার্কিনী ও তাদের মদদপুষ্টদের উপর হামলার মাত্রা বহুগুণে বাড়িয়ে দেয় তালেবান।

আফগানিস্তানে ঈদ উপলক্ষে ৩দিনের যুদ্ধ বিরতির পর এখন আবার যথারীতি তীব্র হামলা শুরু হয়েছে বলে জানা যায়।

ফেসবুকে লাইক দিন