আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ফ্রান্স ইস্যুতে হেফাজতের বিক্ষোভের খবর প্রকাশ

ইমান২৪.কম: মহানবী সা.কে রাষ্ট্রীয়ভাবে অবমাননা করায় ফ্রান্স দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছে অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। ঢাকার পল্টন থেকে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভ দেশের জাতীয় মিডিয়া ও বিশ্ব মিডিয়ায় সমানভাবে প্রচার হয়েছে।

তৌহিদি জনতার মিছিলটি পল্টন, বিজয়নগর, কাকরাইল মোড় পেরিয়ে শান্তিনগর পর্যন্ত এলে পুলিশ প্রথম বাধা দেয়। নবীপ্রেমিক জনতা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে যেতে থাকে সামনে। মালিবাগ মোড়ে এলে আবারো বাধার মুখে পড়ে মিছিলটি। হেফাজত নেতারা পুলিশের অনুরোধে মালিবাগ মোড় পর্যন্ত গিয়ে যাত্রা সমাপ্ত করেন।

বহুল আলোচিত পত্রিকা আল জাজিরা শিরোনাম করেছে, বাংলাদেশে কমপক্ষে ৫০,০০০ জনতার ফ্রান্সবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত। আরো বলা হয়, হযরত মুহাম্মদ সা. এর কার্টুন ছাপানোয় প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর অবস্থান নিয়ে হাজার হাজার তৌহিদি জনতার বিক্ষোভ। বিক্ষোভকারীদের পুলিশ ফরাসী দূতাবাসে পৌঁছাতে বাধা দেয়।

দ্যা ইকোনিমিক টাইমস শিরোনাম করেছে, বাংলাদেশে প্রায় ৫০,০০০ জনতা ফ্রান্স-বিরোধী সমাবেশে অংশ নেয়। পত্রিকাটি লিখে, বাংলাদেশের রাজধানীর বৃহত্তম মসজিদ বায়তুল মোকাররম থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ফরাসী দূতাবাসের কাছাকাছি পৌঁছানোর আগেই থামিয়ে দেয়া হয়। রাজধানীর নিরাপত্তা বাড়ানো হয়।

দ্যা স্টেইট টাইমস লিখে, সোমবার বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় ফরাসী রাষ্ট্রপতি এমমানুয়েল ম্যাক্রোঁর বাকস্বাধীনতার অংশ হিসাবে ইসলামের সমালোচনা ও মহানবির ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশের প্রতিবাদে প্রায় ৫০,০০০ মানুষ অংশ নিয়েছে।

দ্যা টাইমস নাও পত্রিকা লিখে, বাংলাদেশে নবীজির কার্টুন প্রকাশ করায় এমমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও ফ্রান্সবিরোধী বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তৌহিদি জনতা।

এ নিউজ লিখে, বাংলাদেশে প্রায় ৫০,০০০ মুসল্লি ইসলামবিরোধী কার্টুনের প্রতিবাদে ফ্রান্স বিরোধী বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে।

আজ সোমবার (২ নভেম্বর) মহানবী সা.কে রাষ্ট্রীয়ভাবে অবমাননা করায় ফ্রান্স দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির ঢাকা মহানগরী শাখার উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নেয় লাখো জনতা। রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের অঞ্চল থেকে লাখো নবীপ্রেমিক, তৌহিদী জনতা জমায়েত হয় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে। আলেম-ওলামা, মাদরাসার তালিবুল ইলমসহ লাখো সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণও ছিল চোখে পড়ার মতো।

প্রসঙ্গত, স্কুল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাক-স্বাধীনতার ব্যাপারে আলোচনা করতে গিয়ে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের উপকণ্ঠের একটি মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক স্যামুয়েল প্যাটি হজরত মুহাম্মদ সা.-এর কার্টুন প্রদর্শন করেন। এ ঘটনার পর ১৬ অক্টোবর ১৮ বছর বয়সী এক চেচেন কিশোর স্যামুয়েলকে শিরশ্ছেদ করে হত্যা করেন।

স্যামুয়েল হত্যাকাণ্ডের পর ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ তার ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং হজরত মুহাম্মদ সা.-এর কার্টুন প্রদর্শনী অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন। এ নিয়ে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ফ্রান্সের সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়। তৈরি হয় মুসলিম বিশ্বে তীব্র প্রতিক্রিয়া। ইসলামের প্রতি এমন মানসিকতার জন্য ম্যাক্রোঁর মানসিক চিকিৎসা দরকার বলে মন্তব্য করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান।

ফ্রান্সের পণ্য বর্জন এবং দেশে দেশে বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার ম্যাক্রোঁ আল জাজিরাকে এক সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সেখানে তিনি মুসলমানদের অনুভূতি অনুধাবন করেছেন বলে জানালেও কার্টুন প্রদর্শনীর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেননি।

ফেসবুকে লাইক দিন