আদালতে হাজির হতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে সমন জারি

ইমান২৪.কম: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে মানহানীর এক মামলায় আদালত তাকে তলব করেছে। পেশোয়ারের স্থানীয় একটি আদালত শনিবার চতুর্থবারের মতো তাকে এই সমন পাঠিয়েছে। ইমরান খানের বিরুদ্ধে সাবেক প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ফৌজিয়া বিবির বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন কথা বলার অভিযোগে এই মামলা হয়েছে।

এতে বলা হয়, অতিরিক্ত জেলা ও সেশন জজ শাহ ওয়ালিউল্লাহ হামিদ হাশমি ওই সমন পাঠিয়েছেন ইমরান খানের বিরুদ্ধে। এতে তাকে ব্যক্তিগতভাবে সশরীরে অথবা আইনজীবীর মাধ্যমে আগামী ২৯ শে সেপ্টেম্বর আদালতে হাজির হতে হবে। হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, যদি এ নির্দেশ না পানা হয় তাহলে ইমরান খানের বিরুদ্ধে মামলার প্রসিডিংস শুরু হয়ে যাবে।

উল্লেখ্য, ফৌজিয়া বিবি পাকিস্তানের খাইবার পখতুনখাওয়া প্রদেশে ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফ (পিটিআই) দলের সাবেক একজন সদস্য।

তার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ আনার কারণে ইমরান খানের বিরুদ্ধে ৫০০০০ কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ দাবি করে মানহানি মামলা করেছেন তিনি।

পাকিস্তানের ক্ষতিপূরণ বিষয়ক অধ্যাদেশ ডিফেমেশন অর্ডিন্যান্স-২০০২ এর অধীনে এ বছরের জুনে এই মামলা করা হয়েছে। এতে আসামী শুধু একজনই। তিনি হলেন তখনকার পিটিআই প্রধান ইমরান খান।

পরে ২৫ শে জুলাই জাতীয় নির্বাচনের পর তিনি প্রধানমন্ত্রী হন। ফৌজিয়া তার মামলায় বলেছেন, ৩রা মার্চে সিনেট নির্বাচনের সময় তিনি সাধারণ, নারী ও টেকনোক্র্যাটদের জন্য সংরক্ষিত আসনে দলীয় সব প্রার্থীকে ভোট দেয়ার জন্য পিটিআইয়ের নির্দশনা অনুসরণ করে ভোট দিয়েছেন।

কিন্তু সিনেট নির্বাচনের পর ইমরান খান বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থা, যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্নভাবে মিথ্যা, ভিত্তিহীন, অপ্রমাণিত মৌখিক বক্তব্য প্রচার করতে থাকেন তার বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, ইমরান খান সব সময়ই আমার বিরুদ্ধে বানোয়াট বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, আমি অর্থের বিনিময়ে ভোট বিক্রি করেছি। তিনি ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট এবং সামাজিক নেটওয়ার্কে এমন সব বক্তব্য দিতে থাকেন। তা সব মাধ্যমে প্রচারিত হয়।

ফৌজিয়ার আইনজীবি বলেন, তার বিরুদ্ধে এমন মানহানিকর বক্তব্য প্রচারের খবর পাওয়ার পর ফৌজিতা তার অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি পবিত্র কুরআন ছুয়ে শপথ নেন। অভিযোগ অস্বীকার করেন। বিবাদির পক্ষে পিটিআইয়ের সেক্রেটারিয়েট থেকে ফৌজিয়াকে একটি শোকজ নোটিশ দেয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি এর জবাব দেন।

ফৌজিয়া বলেছেন, তিনি এ বিষয়ে উন্মুক্ত তদন্তের অনুরোধ করেছেন। কিন্তু বিবাদি ইমরান খান তদন্তের পর ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেন নি। তার মানহানিকর বক্তব্যের কারণে আমার রাজনৈতিক, সামাজিক ও পারিবারিক জীবন পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।  -সূত্র: ডেইলি পাকিস্তান।

আরও পড়ুনঃ পাকিস্তান কাশ্মির ইস্যুতে কাউকে ভয় পায় না: ইমরান খান

আমেরিকা বন্য নেকড়ে, ওদের বিশ্বাস করবেন না: এরদোগান

কিস্তির মাধ্যমে বিক্রিতে মূলধনের অতিরিক্ত টাকা গ্রহণ করাও কি সুদ?

ফেসবুকে লাইক দিন