আদালতেই আটকে যেতে পারে কা শ্মীর নিয়ে মোদীর সিদ্ধান্ত

ইমান২৪.কম: গত সোমবার কাশ্মীরের স্বাধীনতার সর্বশেষ রক্ষা কবচ হিসেবে পরিচিত ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করেছে দেশটি। ক্ষমতাসীন মোদী সরকারের

এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে কাশ্মীরের সর্বশেষ স্বাধীনতাটুকুও কেড়ে নেয়া হয়েছে। কাশ্মীরকে দুই টুকরো করে রাজ্য থেকে পরিণত করেছে কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে। এরপর উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে

কাশ্মীরজুড়ে গণগ্রেফতার শুরু করেছে মোদী সরকার। সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রীসহ দুই দিনে সেখানে গ্রেফতার করা হয়েছে অসংখ্য মানুষকে। এদিকে, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন,

পরিস্থিতির উন্নতি হলে, আবারও রাজ্যের মর্যাদা ফিরে পেতে পারে কাশ্মীর। তবে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের সিদ্ধান্ত আদালতে বাধার মুখে পড়তে পারে। অন্যদিকে,

প্রয়োজনে যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। কাশ্মীরের অলিগলিতেও সেনা টহল চলছে গণগ্রেফতার। এতে বিচ্ছিন্নভাবে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে প্রতিবাদমুখর কাশ্মীরিরা। নূন্যতম

প্রতিবাদ করার সুযোগটাও কেড়ে নেওয়া হয়েছে কাশ্মীরিদের। তারপরও সেনা টহল উপেক্ষা করে বিজেপি সরকারের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তারা বিক্ষোভ করছেন। এদিকে, সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ

বিলুপ্তির বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে রিট করেছেন এক আইনজীবী। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আদালতে বাধার মুখে পড়তে পারে মোদীর সিদ্ধান্ত। ভারতের সংবিধান বিশেষজ্ঞ সঞ্জয় কুমার সিং বলেন,

৩৭০ অধ্যাদেশ ছিল, কাশ্মীরের সাথে কেন্দ্রীয় সরকারের একটি সেতুবন্ধন। এটি বিশ্ববাসীকে স্পষ্ট করেছিল ভারত প্রকৃতই গণতান্ত্রিক দেশ। কোনও পুলিশি বা স্বৈরাচারী রাষ্ট্র নয়। রাষ্ট্র আদৌ এভাবে

রাজ্যের মর্যাদা কেড়ে নিতে পারে কী? এটা আইনের অবমাননা কী না-তা একটি মৌলিক প্রশ্ন। আমার মনে হয়, আদালত নেতিবাচক উত্তরই দেবেন। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি,

পরিস্থিতি উন্নতি হলে ফের রাজ্যের মর্যাদা ফিরে পেতে পারে কাশ্মীর। ভারতের বিরোধীদল কংগ্রেস বলেছে, কাশ্মীর ইস্যুতে একতরফা সিদ্ধান্ত নিতে পারে না কোনও সরকার।

আরো পড়ুন>> আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, অক্টোবরেই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু (বর্ষা) বাংলাদেশ থেকে বিদায় নিতে পারে। আবহাওয়া অফিস এও বলছে, অক্টোবরে স্বাভাবিক

বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ মাসে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে অন্তত একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। আগস্ট থেকে অক্টোবর – এ তিন মাসের দীর্ঘমেয়াদী আবহাওয়ার

পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। এ বিষয়ে আবহাওয়াবিদ মো. আরিফ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের দেশের আবহাওয়া ও জলবায়ুগত যে বৈশিষ্ট্য আছে, সেটার পরিসংখ্যান বলে যে,

অক্টোবর-নভেম্বরে ঝূর্ণিঝড় হয়। এটা যে হবেই এমন না। তবে হওয়ার সম্ভাবনা আছে। সব তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে এ পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।’ আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, ঊর্ধ্বাকাশের আবহাওয়া বিন্যাস,

বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরের বিশ্লেষিত আবহাওয়ার মানচিত্র, জলবায়ু মডেল, জলবায়ু অনুমানযোগ্যতা সরঞ্জাম, জাপান আবহাওয়া এজেন্সি (জেএমএ), ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর মিডিয়াম-রেঞ্জ ওয়েদার ফোরকাস্ট

(ইসিএমডব্লিউএফ), এপেক (APEC) জলবায়ু কেন্দ্র এবং বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা অনুমোদিত গ্লোবাল প্রডিউসিং সেন্টার (জিপিসিএস) থেকে প্রাপ্ত নিউমেরিক্যাল ওয়েদার প্রিডিকশন (এনডব্লিউপি) মডেল পূর্বাভাস,

এসওআই (এল নিনো/লা নিনা’র অবস্থা) ইত্যাদির বিশ্লেষণ করে এ পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী এ পূর্বাভাসে আগস্টে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি এবং সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হতে পারে বলেও

জানানো হয়েছে। আগস্টের বিষয়ে এতে বলা হয়েছে, এ মাসে বাংলাদেশে স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ মাসে বঙ্গোপসাগরে দুই থেকে তিনটি বর্ষাকালীন লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। যার মধ্যে

একটি বর্ষাকালীন নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে একটি নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। মৌসুমি বৃষ্টিপাতের কারণে আগস্টে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিছু

জায়গায় স্বল্পমেয়াদের বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। সেপ্টেম্বরের বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ মাসে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি মৌসুমি নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে।

ইমান২৪/এ/আর

ফেসবুকে লাইক দিন