আত্মসমালোচনা: প্রয়োজনীয়তা ও পদ্ধতি – (একটি গুরুত্বপূর্ন আলোচনা)

আত্মসমালোচনার পরিচয় : আভিধানিক অর্থে আত্মসমালোচনা হলো নিজের সম্পর্কে সমালোচনা করা। একে আরবিতে বলা হয়, ‘স্বীয় আত্মার হিসাব গ্রহণ করা।’ পারিভাষিক অর্থে আত্মসমালোচনা বলতে বোঝায়, সচেতনভাবে কোনো কাজ সম্পন্ন করা বা পরিত্যাগ করা, যাতে কৃতকর্ম সম্পর্কে নিজের সুস্পষ্ট ধারণা থাকে।

আত্মসমালোচনার প্রয়োজনিয়তা: আত্মসমালোচনাকে প্রত্যেক মুমিনের জন্য অপরিহার্য ঘোষণা করে আল্লাহ বলেন-

‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য উচিত আগামীকালের জন্য (অর্থাৎ আখিরাতের জন্য) সে কী পাঠিয়েছে, তা চিন্তা করা। আর তোমরা তাদের মতো হয়ো না, যারা আল্লাহকে ভুলে গেছে; ফলে আল্লাহ তাদেরকে আত্মভোলা করে দিয়েছেন। নিশ্চয়ই তারা ফাসিক’ (সূরা হাশর ১৮)।

আত্মসমালোচনার উপকারিতা : ১. নিজের দোষত্রুটি নিজের সামনে প্রকাশ করার মাধ্যমে মানুষ স্বীয় ভুলত্রুটি জানতে পারে। ফলে তার হৃদয় ভালো কাজের দিকে আকৃষ্ট হয় এবং মন্দকাজ থেকে দূরে থাকতে পারে।

২. আত্মসমালোচনার মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর নেয়ামতগুলো, অধিকারগুলো জানতে পারে। আর সে যখন আল্লাহর নেয়ামত ও তার অবস্থান সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করে, তখন সে আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায়ে উদ্বুদ্ধ হয়।

৩. আত্মসমালোচনা জীবনের লক্ষ্যকে সব সময় সজীব করে রাখে। এর মাধ্যমে আমরা অনুভব করতে পারি আমাদেরকে এই পৃথিবীর বুকে অনর্থক সৃষ্টি করা হয়নি। পার্থিব জীবন শুধু খাওয়াদাওয়া, হাসিঠাট্টার নয়। এ জীবনের পরবর্তী যে অনন্ত এক জীবন, তার জন্য যে আমাদের সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে, আত্মসমালোচনা আমাদেরকে সর্বক্ষণ তা স্মরণ করিয়ে দেয়।

আত্মসমালোচনার পদ্ধতি : আত্মসমালোচনা দুইভাবে করা যায় ৷

১. কোনো আমল শুরু করার আগে মুহাসাবা করা : অর্থাৎ কোনো কাজের সঙ্কল্প করার আগেই সে কাজ সম্পর্কে চিন্তা করতে হবে যে, কাজটি ইহলৌকিক ও পারলৌকিক জীবনের জন্য উত্তম, না ক্ষতিকর? কাজটি কি হারাম, না হালাল? কাজটিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি নিহিত রয়েছে, না অসন্তুষ্টি?

অতঃপর যখন কাজটি উত্তম হবে, তখন আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রেখে কাজে নেমে পড়তে হবে। আর কাজটি খারাপ হলে একইভাবে পূর্ণ একনিষ্ঠতা ও তাওয়াক্কুলের সাথে তা থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রতিদিন সকালে আন্তরিকভাবে প্রত্যয়দীপ্ত হতে হবে। যেন সারা দিন সৎ আমলের সাথে সংযুক্ত থেকে অসৎ আমল থেকে বিরত থাকা যায়।

২. আমল শেষ করার পর মুহাসাবা করা : অর্থাৎ আল্লাহর আদেশগুলো আদায়ের ব্যাপারে আত্মসমালোচনা করা যে আমি কি আমার ওপর আরোপিত ফরজগুলো আদায় করেছি? আদায় করলে সাথে সাথে নফল বা মুস্তাহাবগুলো কতটুকু আদায় করেছি? কারণ ফরজের কোনো অপূর্ণতা হলে নফলগুলো সেটা পূরণ করে দেয় (আবু দাঊদ, মিশকাত হা/১৩৩০ সনদ সহিহ)।

– শহীদুল্লাহ নজীব আল-হাবিবী

সম্পাদক ও লেখক  – iman24.com

ফেসবুকে লাইক দিন