আজ থেকে জাতীয় নির্বাচনের ‘কাউন্ট ডাউন’ শুরু

ইমান২৪.কম: আজ থেকে শুরু হচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ক্ষণ গণনা। সংবিধান মতে ৩০ অক্টোবর থেকে ২৮ জানুয়ারির মধ্যেই হতে হবে নির্বাচন। আর এই বিষয়টি মাখায় রেখেই নিজেদের সকল প্রস্তুতি সেরে ফেলেছে নির্বাচন কমিশন। তবে চলমান বাস্তবতায় তা যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন সাবেক নির্বাচন কমিশনারদের কেউ কেউ। তবে তফসিলের আগে সংলাপের সুবাতাস একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পূর্বাভাস হিসেবেই দেখছেন তারা। ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় দশম সংসদের প্রথম অধিবেশন। আইন অনুসারে চলতি সংসদের পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্ববর্তী নব্বই দিনের মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

সংবিধান বলছে মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) থেকেই শুরু হয়েছে নির্বাচনকালীন সময়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এরই মধ্যে প্রস্তুতি অনেকটাই গুছিয়ে এনেছে নির্বাচন কমিশন। শেষ হয়েছে আসন ভিত্তিক ভোটার তালিকা। নির্ধারণ হয়েছে চল্লিশ হাজার ১’শ ৯৯ টি ভোট কেন্দ্র। কক্ষ থাকছে প্রায় দুই লাখ। এদিকে নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে ভোটের সরঞ্জাম ক্রয়ের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। একাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য ৩৪ লাখ ৪০ হাজার স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স, ৬ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ স্ট্যাম্পপ্যাড, ১৭ হাজার ৪২০ কেজি লাল গালা, ৫ লাখ ৭৮ হাজার অফিসিয়াল সিল, ১১ লাখ ৫৬ হাজার মার্কিং সিল, ৮৭ হাজার ১০০ ব্রাশ সিল, ৬ লাখ ৬৫ হাজার অমোচনীয় কালি কেনা হবে।

দরকার হবে ১ লাখ ৯০ হাজার রিম কাগজ। এরই মধ্যে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। সিদ্ধান্ত হয়েছে নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের। দশ শতাংশ কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট নেয়ার সক্ষমতার কথা জানিয়েছে কমিশন। তবে এধরনের প্রস্তুতির পাশাপাশি দলীয় সরকারের অধীনে এ নির্বাচনে মন্ত্রী এমপিদের আচরণ কেমন হবে কিংবা তাদের আচরণে কমিশনের কি প্রভাব থাকবে সে বিষয়টি তফসিলের আগেই স্পষ্ট হওয়া জরুরি বলে মনে করেন সাবেক নির্বাচন কমিশনাররা। সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘কোড অব কন্ডাক্ট খুবই জটিল হবে। কারণ, মন্ত্রীরাও প্রার্থী হবে। তারপরে সংসদ সদস্যরাও প্রার্থী হবে, যারা সংসদ সদস্য না তারাও প্রার্থী হবে।

আবার যারা সংসদ সদস্য তারা প্রার্থী নাও হতে পারে। তাদের কী করা উচিৎ হবে এবং কী করা উচিৎ হবে না, তারা কতখানি ইনফ্লুয়েন্স করবে- এসব বিবেচনায় কোড অব কন্ডাক্ট করতে হবে।’ তবে ঐক্যফ্রন্টের সংলাপের দাবিতে ক্ষমতাসীনদের ইতিবাচক সাড়ায় আশার আলো দেখছেন অনেকেই। সাবেক নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইন বলেন, ‘সবকিছুই কিন্তু ধীরে ধীরে ভালোর দিকে যাচ্ছে। আমরা আশা করবো সকল দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হবে।’ যদিও সংলাপে ইসি পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনার বিষয়টি মাথায় রেখে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক বাতিল করেছে ঐক্যফ্রন্ট।

আরও পড়ুন: ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের কাছে ক্ষমা চাইতে মাসুদা ভাট্টিকে লিগ্যাল নোটিশ

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে গ্রেফতারে ড. কামালের উদ্বেগ, আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা

ফেসবুকে লাইক দিন