আঘাত হেনেছে ঘূণিঝড় ‘ইয়াস’, একজনের মৃত্যু, পানিবন্দি ২ হাজার মানুষ

ইমান২৪.কম: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের তাণ্ডবে ভোলায় গাছচাপায় আবু তাহের (৪৯) নামে এক ব্যক্তি মারা গেছেন। মঙ্গলবার (২৫ মে) রাতে লালমোহন উপজেলার কালামা ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। এছাড়া ইয়াসের প্রভাবে সৃষ্ট জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে ভোলার চরফ্যাশনের কুকরী-মুকরি, ঢালচর ও চরপাতিলাসহ বেশ কয়েকটি নিচু এলাকা।

এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অন্তত দুই হাজার মানুষ। এদিকে গাছ চাপায় সেই ব্যক্তির মৃত্যুর খবরটি লালমোহন থানার ওসি মো. মাকসুদুর রহমান মুরাদ নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয়রা জানান, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে লালমোহনে ঝড়ো বাতাস শুরু হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে রিকশাচালক আবু তাহের শৌচাগারে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হয়।

এ ঘরের পাশের একটি গাছের ডাল হঠাৎ ভেঙে তার ওপর পড়লে তিনি আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠান। পরে রাতেই তাহেরকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে ইয়াসের প্রভাবে অতি জোয়ারে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ক্ষয়-ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ঢালচর ইউপি চেয়ারম্যান সালাম হাওলাদার জানান, নদী ও সাগর উত্তাল রয়েছে। জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে পুরো ইউনিয়ন। এতে ৭/৮শ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। কুকরী-মুকরি ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাসেম মহাজন জানিয়েছেন, অতি জোয়ারে পুরো এলাকা তলিয়ে গেছে। রাস্তা-ঘাট, মাছের ঘেরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা তলিয়ে গেছে। এদিকে জেলার ৪০টি দ্বীপচরকে ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে সেখানকার তিন লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে আনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

ফেসবুকে লাইক দিন