ভারতে ছয় মাসে ৮৯ দলিত ও মুসলিমকে হত্যা

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ভারতে কমপক্ষে ৮৯ জন দলিত এবং মুসলিমকে হত্যা করা হয়েছে। ধর্মীয় ঘৃণা-বিদ্বেষ থেকেই তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ঘৃণা ও বিদ্বেষমূলক হামলায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ১০০ জন। এদের মধ্যে রূপান্তরকামীরাও রয়েছেন।

মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ভারতীয় শাখার এক প্রতিবেদনে এতথ্য দেয়া হয়েছে। ধর্ম-বর্ণ-জাতপাতের ঘৃণা ও বিদ্বেষজনিত এ ধরনের অপরাধে শীর্ষে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ। এর পরেই রয়েছে গুজরাট এবং রাজস্থান। খবর: আনন্দবাজার।

অ্যামনেস্টির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালের প্রথম ছয় মাসে বিদ্বেষজনিত অপরাধের শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ১০০ জন। এর মধ্যে ৬৭ জন দলিত সম্প্রদায়ের আর ২২ জন মুসলিম। বাকি নিহতদের মধ্যে আছেন রূপান্তরকামীরাও।

সবচেয়ে বেশি নিহতের ঘটনা ঘটেছে নরেন্দ্র মোদির বিজেপি শাসিত রাজ্য উত্তরপ্রদেশে। যোগী আদিত্যনাথের এই রাজ্যে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ১৮ জন ঘৃণা-বিদ্বেষজনিত হামলায় নিহত হয়েছেন।

এর পরই রয়েছে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজ্য গুজরাট। সেখানে ঘৃণা-বিদ্বেষজনিত হামলায় নিহত হয়েছেন ১৩ জন। তৃতীয় স্থানে থাকা রাজস্থানে নিহত হয়েছেন আটজন। এছাড়া তামিলনাড়ু ও বিহারে সাতজন করে নিহত হয়েছেন।

গত ২০১৫ সালের দাদরিকাণ্ডের পর থেকেই ভারতে ধর্ম-বর্ণভিত্তিক হামলার ঘটনার রেকর্ড রাখতে শুরু করে অ্যামনেস্টি। ওই বছর ফ্রিজে গরুর মাংস রাখার গুজবে উত্তরপ্রদেশের দাদরিতে মোহাম্মদ আখলাক নামে এক মুসলিমকে পিটিয়ে ও কুপেয়ে হত্যা করে উগ্রবাদী হিন্দুরা।

অ্যামনেস্টির ‘হল্ট দ্য হেট তথা ঘৃণা বন্ধ করো’ ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, আখলাক হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ভারতে ৬০৩ জন একই ধরনের হামলার শিকার হয়েছেন। উত্তর ও পশ্চিম ভারতেই এই ধরনের হামলা বেশি হয়েছে।

ফেসবুকে লাইক দিন