অবহেলিত খুলনার জেলে সম্প্রদায়ের জন্য গড়ে ওঠেনি সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী

ইমান২৪.কম: অবহেলিত খুলনার উপকূলবর্তী সমুদ্রগামী জেলে সম্প্রদায়। দলিত এ সম্প্রদায়ের মানুষগুলোর জন্য গড়ে ওঠেনি সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী। যুগের পর যুগ জেলে পরিবারগুলোর বসবাস প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানা প্রতিকূলতার মাঝে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমুদ্রগামী জেলে সম্প্রদায়ের জীবন মান উন্নয়নে তাদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। খুলনার পাইকগাছা উপজেলার হিতামপুর গ্রামে কপোতাক্ষ নদের পাড়ে বসবাস মহাদেব বিশ্বাসের। বংশ পরম্পরায় মাছ ধরা জীবিকাই তার পেশা।

মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময় শেষ হলে ৫ মাসের জন্য পরিবার পরিজন রেখে ছুটতে হবে সাগরের অনিশ্চিত গন্তব্যে। তাই নিজের আগাম প্রস্তুতি সেরে নিচ্ছেন। মহাদেব বিশ্বাস বলেন, সাগরে যেতে হবে। এজন্য টাকা-পয়সা সংগ্রহ করতে হবে। খুলনা উপকূলের জেলে পল্লীর এমন অনেকেই মহাদেব বিশ্বাসের মত সাগরে মাছ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নানা কারণে সামাজিকভাবে অনেকাংশে পিছিয়ে থাকা এ পেশার মানুষদের সাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার আগে কিনতে হয় মাছ ধরার বিভিন্ন উপকরণ। এজন্য চড়া সুদে টাকা নিতে হয় মহাজনদের কাছ থেকে।

পর্যাপ্ত মাছ নিয়ে ফিরতে না পারলে মহাজনের আইনের প্যাঁচে পড়তে হয় তাদের। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমুদ্রগামী জেলে সম্প্রদায়ের জীবন মান উন্নয়নে সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে আনা অত্যন্ত জরুরি। অ্যাওসেড’র নির্বাহী পরিচালক শামীম আরেফিন বলেন, তাদের জন্য বিকল্প পেশা সৃষ্টি করা জরুরি। পাশাপাশি হতদরিদ্রদের অন্যান্য ভাতার আওতায় আনা দরকার। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন জেলেদের জীবন মান উন্নয়নে নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে,

যা অচিরেই বাস্তবায়ন হবে। খুলনার মৎস্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রণজিৎ কুমার পাল বলেন, জেলেদের নিবন্ধনের জন্য বর্তমান সরকার একটি বিশেষ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এই পরিচয়পত্র পেলে তারা বর্তমানে থাকা সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। খুলনার উপকূলীয় কয়রা, দাকোপ ও বটিয়াঘাটা এলাকায় ৩ লাখেরও বেশি মানুষ সমুদ্রে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

আরও পড়ুন: ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের কাছে ক্ষমা চাইতে মাসুদা ভাট্টিকে লিগ্যাল নোটিশ

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে গ্রেফতারে ড. কামালের উদ্বেগ, আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা

ফেসবুকে লাইক দিন