অবশেষে মুক্তির পর যা বললেন সালাউদ্দিন

ইমান২৪.কম: আমি দ্রুত ফিরতে চাই। দেশের জন্য সবসময় আমার মন কাঁদে। মামলায় বেকসুর খালাস পাওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের কাছে এ প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্ত করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, শিলং কোর্ট আমাকে দ্রুত প্রত্যর্পণ করতে সরকারকে নির্দেশনা দিয়েছে। তাই সরকার যত দ্রুত চাইবে, তত তাড়াতাড়ি আমি বাংলাদেশে ফিরতে পারব। প্রসঙ্গত, ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বেকসুর খালাস পেয়েছেন সালাউদ্দিন আহমেদ। মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়ের জেলা ও দায়রা আদালতের বিচারক এই রায় দেন আজ।

সালাউদ্দিনকে খালাস দিয়েছেন ভারতীয় আদালত, বাংলাদেশে পাঠানোর নির্দেশ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন ভারতের শিলংয়ের একটি আদালত। একইসঙ্গে তাকে স্বদেশে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান শীর্ষনিউজকে এতথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তিনি (সালাউদ্দিন আহমেদ) খালাস পেয়েছেন। তাঁর সাথে আমার কথা হয়েছে। বেআইনিভাবে ভারতে প্রবেশের অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে।

শুক্রবার (২৬ অক্টোবর) শিলংয়ের আদালত ফরেনার্স অ্যাক্টের ওই মামলায় তাকে খালাস দেন। ২০১৫ সালের মার্চে ঢাকার উত্তরা থেকে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় দুই মাস পর মে মাসে ভারতে মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়ের একটি রাস্তা থেকে উদ্ধার করা হয় সালাউদ্দিন আহমেদকে। তবে কে বা কারা তাকে ওখানে নিয়ে এসেছিল বা কীভাবে তিনি ঢাকা থেকে শিলংয়ে এসে উপস্থিত হলেন, সে ব্যাপারে সালাউদ্দিন আহমেদ কিছুই জানাতে পারেননি। তবে পরিবারের অভিযোগ ছিল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে উত্তরার বাসা থেকে তুলে নিয়ে গেছে।

ভারতের অনুপ্রবেশের অভিযোগে ২০১৫ সালের মার্চে বিএনপির এই নেতার বিরুদ্ধে মামলা করে মেঘালয় পুলিশ। সিটি থানায় দায়ের করা ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয় তাকে। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে বিচারক তাকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেন। জামিনের প্রধান শর্তই হলো- শিলংয়ের বাইরে যাওয়া চলবে না। আর সে কারণেই সালাউদ্দিন আহমেদ আপাতত সেখানেই একটি গেস্ট হাউস ভাড়া করে আছেন। অসুস্থতার জন্য তার চিকিৎসাও চলছে ওই শহরেই। মাঝে মাঝে বাংলাদেশ থেকে স্ত্রী-সন্তান ও বন্ধুবান্ধবরা এসে সেখানে দেখা করে যান। প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ১১ মে ভারতে অনুপ্রবেশের দায়ে সালাহউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা করে শিলংয়ের পুলিশ।

প্রায় সাড়ে তিন বছর বিচার চলার পর এই মামলার রায় ঘোষণা করা হলো। চলতি বছরের ১৩ আগস্ট এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়। এরপর তা রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন আদালত। এরপর কয়েক দফায় রায় ঘোষণার তারিখ পেছানো হয়। সালাহউদ্দিন আদালতে বলেছিলেন, ২০১৫ সালে মার্চে তাঁকে ঢাকার উত্তরার বাসা থেকে অপহরণ করা হয়। এর প্রায় দুই মাস পর কে বা কারা তাঁকে শিলংয়ে ফেলে যায়।

সালাহউদ্দিন আহমেদ ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার এপিএস ছিলেন। এরপর প্রশাসনের চাকরি ছেড়ে তিনি রাজনীতিতে আসেন। ২০০১ সালে তিনি কক্সবাজার থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন। বিএনপি ক্ষমতায় এলে তিনি যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী হন। ভারতে যখন তিনি আটক হন তখন তিনি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। ভারতে আটক অবস্থায় বিএনপির ষষ্ঠ কাউন্সিলে তিনি দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মনোনীত হন।

আরও পড়ুন: ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের কাছে ক্ষমা চাইতে মাসুদা ভাট্টিকে লিগ্যাল নোটিশ

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে গ্রেফতারে ড. কামালের উদ্বেগ, আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা

ফেসবুকে লাইক দিন