অবশেষে পাকিস্তান সেনা দফতরে ভারতের হামলা

ইমান২৪.কম: পাকিস্তানি সেনারা জম্মু-কাশ্মিরের পুঞ্চ এবং ঝালাস অঞ্চলে ভারতীয় সেনা ক্যাম্প লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল। এর জবাবে পাক অধিকৃত কাশ্মিরের খুইরাট্টা এবং সামানি এলাকায় পাক সেনা বাহিনীর প্রশাসনিক সদর দফতরে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ২৩ অক্টোবর পুঞ্চ এলাকায় ব্রিগেড সদর দফতরসহ সেনা বাহিনীর ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায় পাক সেনারা। এর জবাবে পাক সেনাবাহিনীর প্রশাসনিক সদর দফতর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। সীমান্ত এলাকার গ্রামবাসীরা পাক সেনাবাহিনীর দফতর থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখেছেন বলে জানিয়েছেন।

তাছাড়া পাক-অধিকৃত কাশ্মির থেকে পাওয়া তথ্য থেকেও জানা গেছে যে, ভারতীয় হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাক সেনাবাহিনীর দফতর। তবে নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে পাক-অধিকৃত কাশ্মিরের হাজিরা, বান্ডি গোপালপুর, নিকিয়াল, সামানি ও খুইরাট্টার জনবসতি অঞ্চল লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়নি। হামলার একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। ২০১৬ সালে উরির সেনাঘাঁটিতে হামলার পর পাক-অধিকৃত কাশ্মিরে সার্জিকাল স্ট্রাইক চালিয়েছিল ভারত। এতে পাকিস্তানকে রীতিমতো শিক্ষা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছিল নরেন্দ্র মোদি সরকার। কিন্তু তারপরেও কাশ্মিরে জঙ্গি হামলা বা পাক হামলা কোনওটাই কমেনি। সম্প্রতি শ্রীনগরের পান্থা চকে বিএসএফের গাড়িতে জঙ্গি হানায় আহত হয়েছেন পাঁচ জওয়ান।

গত ১ মে নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে বিএসএফের দুই জওয়ানকে হত্যা করে মাথা কেটে নেয় পাক সেনারা। ফলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সরকারের উপর চাপ বাড়ে। একের পর এক হামলার ফলে ক্রমশ প্রশ্নের মুখে পড়ে মোদি সরকারের পাকিস্তান ও কাশ্মির নীতি। সার্জিকাল স্ট্রাইকের ভিডিও প্রকাশ করে পাকিস্তানকে কতটা শিক্ষা দেওয়া গেছে তা বোঝানোর চেষ্টা করেছিল সরকার। তাইওয়ান নয়, চীনের সাথে ইমরান খান ‘এক চীন’ নীতি অনুসরণ করে তাইওয়ানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার নির্দেশ জারি করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। রোববার প্রধানমন্ত্রীর দফতর এক লিখিত নির্দেশে পাকিস্তানের সব মন্ত্রণালয়কে তাইওয়ানের সাথে সম্পর্ক ও সহযোগিতা ছিন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে।

ইমরান খানের আসন্ন চীন সফরের আগে এ নির্দেশ জারি করা হলো। আগামী ৩ নভেম্বর তিন দিনের সফরে বেইজিং যাওয়ার কথা রয়েছে ইমরান খানের। এ সফরে ইমরান খান চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর এবং পাকিস্তানে চীনের বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার বিষয়ে চীনা নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করবেন। উল্লেখ্য, তাইওয়ানকে চীন নিজের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে করে। তবে বিগত বছরগুলোতে সাই ইং ওয়েন তাইওয়ানের ক্ষমতা গ্রহণের পর দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে গেছে। সাই ইং চীন থেকে তাইওয়ানকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণা করতে চান। চীনে কমিউনিস্ট বিপ্লবের পর ১৯৪৯ সালে তাইওয়ান চীন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবে চীন এই বিচ্ছিন্নতা মেনে নেয়নি। চীন এখনো তাইওয়ান দ্বীপকে নিজের একটি প্রদেশ বলে মনে করে। সম্প্রতি চীন সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে ঘোষণা করেছে, তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষাকারী দেশগুলোর সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করবে বেইজিং।

চীনের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে পাকিস্তান আগেভাগেই তাইওয়ানের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করল বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে, তাইওয়ানে সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দিয়েছেন চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী উয়ি ফেঙ্গে। তিনি বলেন, তাইওয়ান দ্বীপের বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রচেষ্টা যেকোনো মূল্যে ঠেকানো হবে। প্রয়োজনে সামরিক ব্যবস্থা। উয়ি আরো বলেন, যদি কেউ তাইওয়ানকে চীনের মূল ভূখণ্ড থেকে আলাদা করার চেষ্টা করে তাহলে যেকোনো মূল্যে চীনা সেনাবাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

এর আগে তাইওয়ান প্রণালীতে দুটি যুদ্ধাজাহাজ পাঠিয়েছে আমেরিকা। চীনের সাথে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পেন্টাগণের সামরিক মুখপাত্র কর্নেল রব ম্যানিং। রব ম্যানিং সাংবাদিকদের বলেন, নিয়মিত জাহাজ চলাচলের অংশ হিসেবে এ দুটি জাহাজ পাঠানো হয়েছে। এটা হলো ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচল উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে মার্কিন প্রতিশ্রুতির প্রমাণ।

আরও পড়ুন: ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের কাছে ক্ষমা চাইতে মাসুদা ভাট্টিকে লিগ্যাল নোটিশ

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে গ্রেফতারে ড. কামালের উদ্বেগ, আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা

ফেসবুকে লাইক দিন